আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৮. নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল

হাদীস নং: ৩৭৫৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩৭৫৬
নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদ : সা'দ ইব্‌ন আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) মর্যাদা ও গুণাবলী
৩৭৫৬। কুতায়বা (রাহঃ)... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একরাতে (কোন এক সফর থেকে) মদীনা আগমনের পথে নবী (ﷺ) জাগ্রত ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ কোন নেক বান্দা যদি আজ রাত আমার পাহারাদারি করত!

আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ আমরা এই আলোচনায় ছিলাম এমন সময় আমরা অস্ত্রের ঝনঝনানী শুনতে পেলাম। নবী (ﷺ) বললেন, কে এ লোকটি? উত্তরে বলা হল : সা'দ ইব্‌ন আবু ওয়াক্কাস।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কেন এসেছ?

সা'দ (রাযিঃ) বললেনঃ নবী (ﷺ) সম্পর্কে আমার মনে শঙ্কা জাগল তাই তাঁকে পাহারা দিতে এসেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর জন্য দু'আ করলেন এবং ঘুমিয়ে পড়লেন।
أبواب المناقب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مناقب سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ: سَهِرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقْدَمَهُ المَدِينَةَ لَيْلَةً. قَالَ: «لَيْتَ رَجُلًا صَالِحًا يَحْرُسُنِيَ اللَّيْلَةَ». قَالَتْ: فَبَيْنَمَا نَحْنُ كَذَلِكَ إِذْ سَمِعْنَا خَشْخَشَةَ السِّلَاحِ، فَقَالَ: «مَنْ هَذَا»؟ فَقَالَ: سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا جَاءَ بِكَ»؟ فَقَالَ سَعْدٌ: وَقَعَ فِي نَفْسِي خَوْفٌ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجِئْتُ أَحْرُسُهُ، فَدَعَا لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ نَامَ ". هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

হাদীসটি হাসান-সাহীহ।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যখন কোন বান্দার অন্তরে আল্লাহর কোন খাছ বান্দার প্রতি ঐ খাঁটি ভালবাসা সৃষ্টি হয়ে যায়- যাকে এশক ও প্রেম বলা হয়, তখন অনেক সময় এমন হয় যে, প্রেমাস্পদের অন্তরে যে অবস্থা ও ভাব সৃষ্টি হয়, প্রেমিকের অন্তরে এর প্রভাব পড়ে। হযরত আয়েশা রাযি. যে ঘটনা বর্ণনা করেছেন, এটা ঐ বাস্তবতারই একটি দৃষ্টান্ত। হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি.- যিনি প্রথম যুগের মুসলমান, তাঁর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি এ পর্যায়ের এশকের সম্পর্ক ছিল। এর ফল এই ছিল যে, কোন সাময়িক আশংকার কারণে ঘুম না আসার যেভাব ও আকাঙ্খা হুযুর (ﷺ)-এর অন্তরে জাগ্রত হল যে, কোন পুণ্যবান ব্যক্তি যদি এ সময় এসে যেত, আর আমার পাহারাদারী করত, তাহলে আমি নিশ্চিন্তে ঘুম যেতে পারতাম। এর প্রভাব হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি.-এর অন্তরে পড়ল এবং তিনি তীর, ধনুক, বল্লম ইত্যাদিতে সজ্জিত হয়ে হুযুর (ﷺ)-এর নিরাপত্তা বিধানের উদ্দেশ্যে এসে গেলেন, নিঃসন্দেহে হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসের অন্তরে হুযূর (ﷺ)-এর প্রতি এ পর্যায়ের এশক আল্লাহ তা'আলার এক বিরাট নেয়ামত এবং তাঁর বিশেষ মর্যাদার প্রতীক।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)