আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৩৭. কিয়ামত-মৃত্যুপরবর্তী জগতের বিবরণ
হাদীস নং: ২৫০৬
আন্তর্জাতিক নং: ২৫০৬
কিয়ামত-মৃত্যুপরবর্তী জগতের বিবরণ
শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।
২৫০৮. উমর ইবনে ইসমাঈল ইবনে মুজালিদ ইবনে সাঈদ হামদানী ও সালামা ইবনে শাবীব (রাহঃ) ...... ওয়াছিলা ইবনে আসকা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি তোমার ভাইয়ের বিপদে আনন্দ প্রকাশ করবে না। তা হলে আল্লাহ তার উপরে রহম করবেন আর তোমাকে সে মুসীবতে পাকড়াও করবেন।
أبواب صفة القيامة والرقائق والورع عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابٌ
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُجَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، ح قَالَ وَأَخْبَرَنَا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ الْقَاسِمِ الْحَذَّاءُ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ بُرْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُظْهِرِ الشَّمَاتَةَ لأَخِيكَ فَيَرْحَمُهُ اللَّهُ وَيَبْتَلِيكَ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَمَكْحُولٌ قَدْ سَمِعَ مِنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَأَبِي هِنْدٍ الدَّارِيِّ وَيُقَالُ إِنَّهُ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ مِنْ هَؤُلاَءِ الثَّلاَثَةِ . وَمَكْحُولٌ شَامِيٌّ يُكْنَى أَبَا عَبْدِ اللَّهِ وَكَانَ عَبْدًا فَأُعْتِقَ وَمَكْحُولٌ الأَزْدِيُّ بَصْرِيٌّ سَمِعَ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ يَرْوِي عَنْهُ عُمَارَةُ بْنُ زَاذَانَ .
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ عَطِيَّةَ، قَالَ كَثِيرًا مَا كُنْتُ أَسْمَعُ مَكْحُولاً يُسْأَلُ فَيَقُولُ نَدَانَمْ .
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ عَطِيَّةَ، قَالَ كَثِيرًا مَا كُنْتُ أَسْمَعُ مَكْحُولاً يُسْأَلُ فَيَقُولُ نَدَانَمْ .
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
হাদীসটি হাসান-গারীব। ওয়াছিলা ইবনে আসকা, আনাস ইবনে মালিক ও আবু হিন্দ আদ-দারী রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে মাকহূল (রাহঃ) হাদীস শুনেছেন। বলা হয় যে, এ তিনজন ছাড়া আর কোন সাহাবী থেকে মাকহূল রিওয়ায়াত শুনেন নি।
মাকহূল শামী (রাহঃ) এর উপনাম হল আবু আব্দুল্লাহ। তিনি দাস ছিলেন, পরে তাকে আযাদ করা হয়। পক্ষান্তরে মাকহূল আযদী (রাহঃ) হলেন বাসরী (বসরার অধিবাসী) তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস শুনেছেন। আর উমরা ইবনে যাযান (রাহঃ) তার কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ... আতিয়্যা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, মাকহূল (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল অনেক সময় আমি তাকে ’‘নাদানাম (জানিনা)’’ বলে উত্তর দিতে শুনেছি।
মাকহূল শামী (রাহঃ) এর উপনাম হল আবু আব্দুল্লাহ। তিনি দাস ছিলেন, পরে তাকে আযাদ করা হয়। পক্ষান্তরে মাকহূল আযদী (রাহঃ) হলেন বাসরী (বসরার অধিবাসী) তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস শুনেছেন। আর উমরা ইবনে যাযান (রাহঃ) তার কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ... আতিয়্যা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, মাকহূল (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল অনেক সময় আমি তাকে ’‘নাদানাম (জানিনা)’’ বলে উত্তর দিতে শুনেছি।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দাদেরকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অবস্থার মধ্যে রাখেন। কখনো তিনি তাঁর বান্দাকে প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং প্রাচুর্য দান করে পরীক্ষা করেন এবং আবার কখনো দুঃখ-দুর্দশা ও বালা-মুসীবত নাযিল করে তার ঈমান দৃঢ় ও মযবুত করেন। কোন সময় তিনি তাঁর বান্দার উপর শাস্তিস্বরূপ বালা-মুসীবত নাযিল করেন। বালা-মুসীবত নাযিল করার কারণ এবং রহস্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি জ্ঞাত নয়। অধিকন্তু বালা-মুসীবত নাযিল হলে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি তওবা-ইস্তেগফার এবং কান্নাকাটি করে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করে ফেলে। একমাত্র মূর্খ ও অবিবেচক ব্যক্তিই অন্যের বিপদে আনন্দ প্রকাশ করতে পারে এবং যে ব্যক্তি এরূপ করে, সে আল্লাহকে নারায করে এবং নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনে। আল্লাহ অবিবেচক ব্যক্তির উপর খুব অসন্তুষ্ট হন এবং তাকে বিপদগ্রস্ত করেন। শুধু তাই নয়, যার বিপদে আনন্দ প্রকাশ করা হয়, আল্লাহ তার বিপদ দূর করে দেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: