আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৬. যুহদ-দুনিয়া বিমুখতার বর্ণনা

হাদীস নং: ২৩৪৭
আন্তর্জাতিক নং: ২৩৪৭
যুহদ-দুনিয়া বিমুখতার বর্ণনা
যতটুকু প্রয়োজন তাতেই সন্তুষ্ট থাকা এবং এর উপর সবর অবলম্বন করা।
২৩৫০. সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ..... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমার বন্ধুদের মাঝে আমার কাছে সবচেয়ে ঈর্ষণীয় হল সে মু‘মিন ব্যক্তি যার অবস্থা খুবই হালকা এবং যে ব্যক্তি নামাযের স্বাদের অধিকারী। সে সুন্দরভাবে তার প্রভূর ইবাদত করে, গোপনেও তাঁর ফরমাবরদারী করে। মানুষের মাঝে তার কোন প্রসিদ্ধি নেই, অঙ্গুলি ইশারা করা হয় না তার দিকে। তার রিযক হল তার প্রয়োজন মত। আর এর উপরই সে সবর করে থাকে। এরপর নবী (ﷺ) তাঁর অঙ্গুলি দিয়ে ইঙ্গিত করে বললেন শীঘ্র তার মৃত্যু হয়, তার জন্য ক্রন্দনকারীর সংখ্যা হয় কম আর তার মীরাছও হয় সামান্য।

উক্ত সূত্রেই নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমার মক্কার বুতহা অর্থাৎ বালুকাময় অঞ্চল স্বর্ণে পরিণত করে দিতে আল্লাহ আমার কাছে প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু আমি বললামঃ হে আমার রব না, তা নয়। বরং একদিন পরিতৃপ্তিসহ আহার করব আরেক দিন উপোস থাকব। এই কথাটি তিনি তিনবার বা তদ্রূপ বলেছেন। যখন ক্ষুধার্ত হবে তোমার কাছেই কাকুতি-মিনতি করব তোমারই স্মরণ করব আর যখন পরিতৃপ্তিসহ আহার করতে পারব তখন তোমার শোকর করব, তোমারই হামদ করব।
أبواب الزهد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي الْكَفَافِ وَالصَّبْرِ عَلَيْهِ
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زَحْرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ أَغْبَطَ أَوْلِيَائِي عِنْدِي لَمُؤْمِنٌ خَفِيفُ الْحَاذِ ذُو حَظٍّ مِنَ الصَّلاَةِ أَحْسَنَ عِبَادَةَ رَبِّهِ وَأَطَاعَهُ فِي السِّرِّ وَكَانَ غَامِضًا فِي النَّاسِ لاَ يُشَارُ إِلَيْهِ بِالأَصَابِعِ وَكَانَ رِزْقُهُ كَفَافًا فَصَبَرَ عَلَى ذَلِكَ " . ثُمَّ نَفَضَ بِيَدِهِ فَقَالَ " عُجِّلَتْ مَنِيَّتُهُ قَلَّتْ بَوَاكِيهِ قَلَّ تُرَاثُهُ " .
وَبِهَذَا الإِسْنَادِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " عَرَضَ عَلَىَّ رَبِّي لِيَجْعَلَ لِي بَطْحَاءَ مَكَّةَ ذَهَبًا قُلْتُ لاَ يَا رَبِّ وَلَكِنْ أَشْبَعُ يَوْمًا وَأَجُوعُ يَوْمًا أَوْ قَالَ ثَلاَثًا أَوْ نَحْوَ هَذَا فَإِذَا جُعْتُ تَضَرَّعْتُ إِلَيْكَ وَذَكَرْتُكَ وَإِذَا شَبِعْتُ شَكَرْتُكَ وَحَمِدْتُكَ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَفِي الْبَابِ عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ . وَالْقَاسِمُ هَذَا هُوَ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَيُكْنَى أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَهُوَ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ وَهُوَ شَامِيٌّ ثِقَةٌ وَعَلِيُّ بْنُ يَزِيدَ ضَعِيفُ الْحَدِيثِ وَيُكْنَى أَبَا عَبْدِ الْمَلِكِ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

এই বিষয়ে ফাযালা ইবনে উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান।

বর্ণনাকারী কাসিম হলেন ইবনে আবদুর রহমান। তার উপনাম হল আবু আবদুর রহমান। তিনি হলেন, আবদুর রহমান ইবনে খালিদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মুআবিয়া-এর মাওলা। তিনি শামবাসী নির্ভরযোগ্য রাবী। রাবী আলী ইবনে ইয়াযীদ হাদীসের ক্ষেত্রে যঈফ। তাঁর উপনাম হল আবু আবদুল মালিক।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ ﷺ এর এ বাণীর মর্ম এই যে, যদিও আমার বন্ধুদের এবং আল্লাহর প্রিয়পাত্রদের অবস্থা ও রং বিভিন্ন হয়ে থাকে, কিন্তু তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ঈর্ষণীয় জীবনের অধিকারী হচ্ছে ঐসব ঈমানদার বান্দারা, যাদের অবস্থা এই যে, তাদের দুনিয়ার জীবন-উপকরণ এবং সম্পদ ও পোষ্য কম, কিন্তু নামায ও অন্যান্য এবাদতে তাদের অংশ উল্লেখযোগ্য। এতদসত্ত্বেও তারা এমন অপরিচিত ও অখ্যাত যে, তাদের চলাফেরার সময় কেউ তাদের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করে একথা বলে না যে, ইনি অমুক বুযুর্গ বা অমুক সাহেব। তাদের জীবিকা কেবল জীবন ধারণের মত, কিন্তু তারা এতে অন্তর থেকেই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত। যখন মৃত্যুর সময় এসে গেল, তখন একেবারে সহজে বিদায়। তাদের পশ্চাতে না থাকে প্রচুর সম্পদ, না থাকে আসবাবপত্র, বাড়ী-ঘর ও বাগান-খামার বন্টনের ঝামেলা, আর না দেখা যায় তাদের উপর ক্রন্দনকারীণী মহিলাদের ভীড়।
নিঃসন্দেহে আল্লাহর এসব বান্দাদের জীবন খুবই ঈর্ষণীয়। আর আল্লাহর শোকর যে, এ ধরনের জীবনের অধিকারী মানুষ থেকে আমাদের এ পৃথিবী এখনও খালি নয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান