আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৯. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত কুরবানীর অধ্যায়

হাদীস নং: ১৫২২
আন্তর্জাতিক নং: ১৫২২
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত কুরবানীর অধ্যায়
আকীকার কিছু বিধান
১৫২৮। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আকীকার সাথে শিশুর বন্ধক। তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে পশু যবেহ করা হবে। তার নাম রাখা হবে। তার মাথা মুণ্ডন করা হবে। ইবনে মাজাহ ৩১৬৫

হাসান ইবনে আলী খাললা্ল (রাহঃ) সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমদের এতদনুসারে আমল রয়েছে। তার শিশুর পক্ষ থেকে সপ্তম দিন আকীকা করা মুস্তাহাব বলে মত প্রকাশ করেছেন। সপ্তম দিন যদি প্রস্তুত না হয় তবে চতুর্দশ দিনে, সে দিনে প্রস্তুত না হতে পারলে একবিংশতম দিনে আকীকা দিবে। কুরবানীতে যে ধরণের ছাগল যবাই করা জায়েয আকীকাতেও সে ধরণের ছাগল না হলে তা যবেহ করা যথেষ্ট বলে গণ্য হবে না।
أبواب الأضاحي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مِنَ الْعَقِيقَةِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْغُلاَمُ مُرْتَهَنٌ بِعَقِيقَتِهِ يُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ السَّابِعِ وَيُسَمَّى وَيُحْلَقُ رَأْسُهُ " .
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَسْتَحِبُّونَ أَنْ يُذْبَحَ عَنِ الْغُلاَمِ الْعَقِيقَةُ يَوْمَ السَّابِعِ فَإِنْ لَمْ يَتَهَيَّأْ يَوْمَ السَّابِعِ فَيَوْمَ الرَّابِعِ عَشَرَ فَإِنْ لَمْ يَتَهَيَّأْ عُقَّ عَنْهُ يَوْمَ حَادٍ وَعِشْرِينَ وَقَالُوا لاَ يُجْزِئُ فِي الْعَقِيقَةِ مِنَ الشَّاةِ إِلاَّ مَا يُجْزِئُ فِي الأُضْحِيَةِ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আকীকার পশুর বিনিময়ে সন্তান বন্ধক থাকে, হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ এ কথাটির কয়েকটি মর্ম বর্ণনা করেছেন। এ অধমের নিকট সবচেয়ে মনঃপূত কথা এই যে, সন্তান আল্লাহ্ তা'আলার দেওয়া এক বিরাট নেয়ামত, আর সামর্থ্যবান ব্যক্তির পক্ষ থেকে আকীকার পশু যবেহ করা হচ্ছে এর শোকরানা, যেন এটা শিশুর ফিদয়া বা দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি। যে পর্যন্ত এ শোকরানা পেশ করা না হবে এবং ফিদয়া আদায় না করা হবে, সে পর্যন্ত এ দায়বদ্ধতা অবশিষ্ট থাকবে, আর শিশু যেন এর বিনিময়ে বন্ধক থাকবে।

জন্মের দিনই আকীকা করার হুকুম সম্ভবত এ কারণে দেওয়া হয়নি যে, এ সময় পরিবারের লোকেরা মা ও শিশুর দেখাশুনা ও তাদের সেবা যত্নের চিন্তায়ই ব্যস্ত থাকে। তাছাড়া ঐ দিনই শিশুর মাথা মুণ্ডানোতে চিকিৎসা বিধির দৃষ্টিতে ক্ষতির আশংকা থাকে। এক সপ্তাহ সময়কাল এমন যে, এর মধ্যে প্রসূতিও সাধারণত স্বাভাবিক হয়ে যায়, আর শিশুও সাত দিন পর্যন্ত এ জগতের আলো-বাতাসে এমন হয়ে যায় যে, এখন তার মাথা পরিষ্কার করে দিলে আর কোন ক্ষতির আশংকা থাকে না।
এ হাদীস থেকে এবং অন্যান্য হাদীস থেকেও জানা যায় যে, আকীকার সাথে সপ্তম দিবসে শিশুর নামও রাখা হবে। কিন্তু কোন কোন হাদীসে দেখা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন কোন শিশুর নাম জন্মের দিনই রেখে দিয়েছিলেন। এ জন্য সপ্তম দিবসের আগে নাম রেখে দেওয়াতে কোন ক্ষতি নেই। হ্যাঁ, যদি আগে নাম না রাখা হয়ে থাকে, তাহলে সপ্তম দিবসে আকীকার সাথে নাম রেখে নেওয়া হবে। যেসব হাদীসে সপ্তম দিবসে আকীকার সাথে নাম রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, এর অর্থ এটাই বুঝতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান