আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

২. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৯৯
আন্তর্জাতিক নং: ৩৯৯
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়
যোহর বা আসরের দুই রাকআতে সালাম করে ফেললে।
৩৯৯. আল-আনসারী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূল (ﷺ) দুই রাকআতেই সালাম ফিরিয়ে ফেললেন। তখন যুল-ইয়াদায়ন (রাযিঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! নামায কি হ্রাস হয়ে গেল, না আপনি ভুল করেছেন? রাসূল (ﷺ) বললেনঃ যুল-ইয়াদায়ন কি সত্য বলছে? লোকেরা বললেনঃ জি, হ্যাঁ। তখন রাসূল (ﷺ) উঠে দাঁড়ালেন এবং অবশিষ্ট দুই রাকআত আদায় করলেন। সালাম ফিরালেন, পরে তাকবীর বলে অনুরূপ বা আরো দীর্ঘ সিজদা করলেন। অতঃপর মাথা তুললেন এবং অনুরূপ বা আরো দীর্ঘ সিজদা করলেন।
أبواب الصلاة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي الرَّجُلِ يُسَلِّمُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ
حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ أَبِي تَمِيمَةَ، وَهُوَ أَيُّوبُ السَّخْتِيَانِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم انْصَرَفَ مِنَ اثْنَتَيْنِ فَقَالَ لَهُ ذُو الْيَدَيْنِ أَقُصِرَتِ الصَّلاَةُ أَمْ نَسِيتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَصَدَقَ ذُو الْيَدَيْنِ " . فَقَالَ النَّاسُ نَعَمْ . فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى اثْنَتَيْنِ أُخْرَيَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ كَبَّرَ فَسَجَدَ مِثْلَ سُجُودِهِ أَوْ أَطْوَلَ ثُمَّ كَبَّرَ فَرَفَعَ ثُمَّ سَجَدَ مِثْلَ سُجُودِهِ أَوْ أَطْوَلَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ وَابْنِ عُمَرَ وَذِي الْيَدَيْنِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْكُوفَةِ إِذَا تَكَلَّمَ فِي الصَّلاَةِ نَاسِيًا أَوْ جَاهِلاً أَوْ مَا كَانَ فَإِنَّهُ يُعِيدُ الصَّلاَةَ وَاعْتَلُّوا بِأَنَّ هَذَا الْحَدِيثَ كَانَ قَبْلَ تَحْرِيمِ الْكَلاَمِ فِي الصَّلاَةِ . قَالَ وَأَمَّا الشَّافِعِيُّ فَرَأَى هَذَا حَدِيثًا صَحِيحًا فَقَالَ بِهِ وَقَالَ هَذَا أَصَحُّ مِنَ الْحَدِيثِ الَّذِي رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّائِمِ إِذَا أَكَلَ نَاسِيًا فَإِنَّهُ لاَ يَقْضِي وَإِنَّمَا هُوَ رِزْقٌ رَزَقَهُ اللَّهُ . قَالَ الشَّافِعِيُّ وَفَرَّقُوا هَؤُلاَءِ بَيْنَ الْعَمْدِ وَالنِّسْيَانِ فِي أَكْلِ الصَّائِمِ بِحَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ . وَقَالَ أَحْمَدُ فِي حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ إِنْ تَكَلَّمَ الإِمَامُ فِي شَيْءٍ مِنْ صَلاَتِهِ وَهُوَ يَرَى أَنَّهُ قَدْ أَكْمَلَهَا ثُمَّ عَلِمَ أَنَّهُ لَمْ يُكْمِلْهَا يُتِمُّ صَلاَتَهُ وَمَنْ تَكَلَّمَ خَلْفَ الإِمَامِ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّ عَلَيْهِ بَقِيَّةً مِنَ الصَّلاَةِ فَعَلَيْهِ أَنْ يَسْتَقْبِلَهَا . وَاحْتَجَّ بِأَنَّ الْفَرَائِضَ كَانَتْ تُزَادُ وَتُنْقَصُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّمَا تَكَلَّمَ ذُو الْيَدَيْنِ وَهُوَ عَلَى يَقِينٍ مِنْ صَلاَتِهِ أَنَّهَا تَمَّتْ وَلَيْسَ هَكَذَا الْيَوْمَ لَيْسَ لأَحَدٍ أَنْ يَتَكَلَّمَ عَلَى مَعْنَى مَا تَكَلَّمَ ذُو الْيَدَيْنِ لأَنَّ الْفَرَائِضَ الْيَوْمَ لاَ يُزَادُ فِيهَا وَلاَ يُنْقَصُ . قَالَ أَحْمَدُ نَحْوًا مِنْ هَذَا الْكَلاَمِ . وَقَالَ إِسْحَاقُ نَحْوَ قَوْلِ أَحْمَدَ فِي الْبَابِ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

এই বিষয়ে ইমরান ইবনে হুসাইন, ইবনে উমর ও যুল-ইয়াদায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীসটির বিষয়ে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। কূফাবাসী কতক আলিম বলেনঃ কেউ যদি ভুল বা অজ্ঞতাবশত কিংবা অন্য কোন কারণে নামাযে কথা বলে, তবে তাকে পুনরায় এই নামায পড়তে হবে। তারা বলেনঃ এই হাদীসটি হচ্ছে নামাযে কথা বলা নিষিদ্ধ হওয়ার পূর্বের।

ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) এই হাদীসটিকে সহীহ বলে মনে করেন এবং এতদনুসারে অভিমত দেন। তিনি বলেনঃ রোযাদার সম্পর্কে রাসূল (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে যে, সে যদি ভুলবশত আহার করে বসে, তবে তাকে রোযা কাযা করতে হবে না। এ হ’ল আল্লাহ্ প্রদত্ত রিযিক যা তিনি তাকে প্রদান করেছেন। এই হাদীসটির তুলনায় নামায সম্পর্কিত বক্ষ্যমাণ হাদীসটি অধিক সহীহ। অথচ রোযা সম্পর্কিত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটির কারণে আলিমগণ রোযার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে আহার করা ও ভুলবশত আহার করার বিধানে পার্থক্য করে থাকেন। (সুতরাং নামাযের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হাদীসটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত)।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদসিটি সম্পর্কে ইমাম আহমদ (রাহঃ) বলেনঃ নামায পূর্ণ সমাপ্ত হয়েছে বলে মনে করে ইমাম যদি কথা বলেন আর পরে জানতে পারেন যে, আসলে নামায পূর্ণ হয়নি, তবে এমতাবস্থায় ইমাম অবশিষ্ট নামায শেষ করবেন। নামায আরো রয়ে গেছে এই কথা জেনে যদি কোন মুসল্লি কথা বলে, তবে সে নতুন করে নামায আদায় করবে। দলীল হিসেবে তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ)-এর যুগে ফরযসমূহের মধ্যে হ্রাস-বৃদ্ধি হতো। যুল-ইয়াদায়ন এই বিশ্বাসেই বলেছিলেন যে, নামায পূর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমানে আর এ অবস্থা নেই। যুল-ইয়াদায়ন যে অর্থে কথা বলেছিলেন, বর্তমানে আর কারো সে অর্থে কথা বলার অবকাশ নাই। কারণ বর্তমানে আর নামাযে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটার সম্ভাবনা নাই। এই বিষয়ে ইমাম ইসহাক (রাহঃ)-ও ইমাম আহমদ (রাহঃ)-এর অনুরূপ অভিমত দিয়েছেন।
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)