আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৪৬- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়

হাদীস নং: ২৬৯৩
আন্তর্জাতিক নং: ২৮৯২
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
১৮১৩. আল্লাহর পথে একদিন প্রহরারত থাকার ফযীলাত। মহান আল্লাহর বাণীঃ হে ইমানদারগণ! তোমরা ধৈর্যধারণ কর, অপরকেও ধৈর্যে উৎসাহিত কর। এবং (প্রতিরক্ষায়) সদা প্রস্তুত থাক .... আয়াতের শেষ পর্যন্ত (৩ঃ ২০০)
২৬৯৩। আব্দুল্লাহ ইবনে মুনীর (রাহঃ) .... সাহল ইবনে সা‘দ সাঈ‘দী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহর পথে একদিন সীমান্ত পাহারা দেওয়া দুনিয়া ও এর উপর যা কিছু আছে তাঁর চাইতে উত্তম। জান্নাতে তোমাদের কারো চিবুক পরিমাণ জায়গা দুনিয়া এবং ভূপৃষ্ঠের সমস্ত কিছুর চাইতে উত্তম। আল্লাহর পথে বান্দার একটি সকাল বা বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া এবং ভূপৃষ্ঠের সব কিছুর চাইতে উত্তম।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ فَضْلِ رِبَاطِ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا الايه
2892 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُنِيرٍ، سَمِعَ أَبَا النَّضْرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «رِبَاطُ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا عَلَيْهَا، وَمَوْضِعُ سَوْطِ أَحَدِكُمْ مِنَ الجَنَّةِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا عَلَيْهَا، وَالرَّوْحَةُ يَرُوحُهَا العَبْدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أَوِ الغَدْوَةُ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا عَلَيْهَا»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীসে আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার অর্থাৎ কোন দ্বীনি কাজে সফর করার ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। সকাল-সন্ধ্যা দীনী কাজের জন্য সফর করা দুনিয়া এবং তার যাবতীয় বস্তু থেকে উত্তম। সকাল-সন্ধ্যার উল্লেখ এজন্য করা হয়েছে যে, আরব দেশে সকালবেলা বা সন্ধ্যাবেলা সফরে বের হওয়ার রেওয়াজ ছিল। যদি কোন ব্যক্তি দুপুরের সময়ও দীনের খেদমতের জন্য ঘর থেকে বের হয় তাহলে সেও অনুরূপ ফযীলত লাভ করবে।

আল্লাহর রাস্তায় সামান্যতম সময় ব্যয় করা দুনিয়ার যাবতীয় কাজের চেয়ে বেশী মর্যাদাসম্পন্ন এবং দুনিয়ার তামাম সম্পদের চেয়ে বেশী মূল্যবান। পার্থিব লালসা চরিতার্থ করার জন্য বা দুনিয়ার প্রভাব প্রতিপত্তি অর্জনের জন্য যে সময় ব্যয় করা হয় তার ফল খুব ক্ষণস্থায়ী। অপরপক্ষে আল্লাহর রাস্তায় যে সময় ব্যয় হয় তার ফল নিজের এবং দনিয়াবাসীর জন্য মঙ্গলজনক ও চিরস্থায়ী হয়। দুনিয়ার মানুষের সুখ-শান্তি ও সংহতি বহন করে নিয়ে আসে। আল্লাহর দুনিয়া থেকে শয়তানের প্রভাব খতম করতে সক্ষম হলে আল্লাহর বান্দাগণ আরাম-আয়েশের জীবন-যাপনে সক্ষম হন। অন্যায় ও যুলুমের অবসান হয়।

দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর রাস্তায় যে সময় ব্যয় করা হয় আখিরাতে তা বিরাট সাফল্যের কারণ হবে। মানুষ দুনিয়ার জীবনে সুন্দরী মেয়ে, সুন্দর বাসগৃহ এবং পার্থিব সম্পদের লোভে পড়ে আল্লাহর নির্দেশিত পথ থেকে দূরে সরে পড়ে। এ ধরনের নির্বোধেরা চিন্তা করে না, দুনিয়ার যিন্দেগী ক্ষণস্থায়ী আখিরাতের জীবন চিরস্থায়ী। আর আখিরাতের জীবনে আল্লাহভীরু লোকদের জন্য এমন সব নি'আমত রয়েছে যা তামাম দুনিয়ার মানুষ চেষ্টা করেও দুনিয়াতে হাসিল করতে পারবে না। তাদের জানা উচিত যে, দুনিয়ার এসব সুন্দরী নারী বেহেশতের হুরের তুলনায় কিছুই নয়। আল্লাহ্ তা'আলা এসব হুর তার প্রিয় বান্দাদের জন্য রেখেছেন। তাঁরা এতো অপরূপ সুন্দরী যে, তাদের একজন যদি পৃথিবীর দিকে সামান্যতম চোখ তুলে তাকায় তা হলে আসমান-যমীনের মধ্যস্থ সবকিছু আলোকজ্জল ও সুগন্ধীময়। তাদের পরিধানের কাপড়-চোপড় এত মূল্যবান যে, শুধু মাথার একটি ওড়না দুনিয়া ও তার মধ্যস্থিত সবকিছু থেকে উত্তম ও মূল্যবান।

আল্লাহ্ আমাদের নির্বোধদের মধ্যে বুদ্ধির উদয় করুন এবং আমাদের সকলকে আখিরাতের কল্যাণ দান করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)