আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৪৬- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
হাদীস নং: ২৬৬৮
আন্তর্জাতিক নং: ২৮৬৫
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
১৭৯৪. সওয়ারীর রিকাব ও পা-দানী প্রসঙ্গে
২৬৬৮। উবাইদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) সওয়ার হয়ে পা-দানীতে কদম মুবারক রাখার পর উটটি দাঁড়িয়ে গেলে যুল- হুলাইফা মসজিদের নিকট তিনি ইহরাম বেঁধে নিতেন।
كتاب الجهاد والسير
باب الرِّكَابِ وَالْغَرْزِ لِلدَّابَّةِ
2865 - حَدَّثَنِي عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَّهُ كَانَ إِذَا أَدْخَلَ رِجْلَهُ فِي الغَرْزِ، وَاسْتَوَتْ بِهِ نَاقَتُهُ قَائِمَةً، أَهَلَّ مِنْ عِنْدِ مَسْجِدِ ذِي الحُلَيْفَةِ»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সাহাবায়ে কেরামের বর্ণনা ও তাদের বক্তব্য এ ব্যাপারে বিভিন্ন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হজ্বে ইহরামের প্রথম তালবিয়া কোন সময় ও কোন্ স্থানে পড়েছিলেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি.-এর বর্ণনা এই যে, যুল হুলায়ফার মসজিদে দু'রাকআত নামায পড়ার পর সেখানেই তিনি নিজ উটনীর উপর সওয়ার হলেন এবং উটনী যখন তাঁকে নিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে গেল, তখন তিনি ইহরামের প্রথম তালবিয়া পাঠ করলেন এবং এ সময় থেকেই তিনি যেন মুহরিম হয়ে গেলেন। অপরদিকে অন্য কোন সাহাবীর বর্ণনা এই যে, যখন তিনি উটনীর উপর সওয়ার হয়ে কিছু সামনে অগ্রসর হলেন এবং 'বায়দা' নামক স্থানে পৌছলেন (যা যুল হুলায়ফার একেবারে নিকটে কিছুটা উচু স্থান ছিল।) তখন তিনি ইহরামের প্রথম তালবিয়া পাঠ করলেন। আর কোন কোন রেওয়ায়াত দ্বারা জানা যায় যে, যখন তিনি যুল হুলায়ফার মসজিদে ইহরামের দু'রাকআত নামায পড়লেন, তখন ঐ সময়েই উটনীর উপর সওয়ার হওয়ার আগেই ইহরামের প্রথম তালবিয়া পাঠ করে নিলেন।
আবূ দাউদ শরীফ ও মুস্তাদরকে হাকেম ইত্যাদি হাদীসগ্রন্থে প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত সাঈদ ইবনে যুবায়েরের একটি বর্ণনা রয়েছে যে, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-এর কাছে সাহাবায়ে কেরামের এই ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি উত্তরে বলেছিলেন: "আসল ঘটনা হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুল হুলায়ফার মসজিদে ইহরামের দু'রাকআত নামায পড়ার পর সাথে সাথেই প্রথম তালবিয়া পাঠ করেছিলেন। কিন্তু এ বিষয়টি কেবল ঐ কয়েকজন জানতে পারলেন, যারা তখন তাঁর নিকটে উপস্থিত ছিলেন। এরপর যখন তিনি সেখানে উটনীর উপর সওয়ার হলেন এবং উটনী তাঁকে নিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে গেল, তখন তিনি আবার তালবিয়া পাঠ করলেন এবং উটনীর উপর সওয়ার হওয়ার পর এটা ছিল তাঁর প্রথম তালবিয়া। তাই যেসব লোক তাঁর এ তালবিয়া শুনেছিল এবং প্রথমটি শুনে নাই তারা মনে করল যে, প্রথম তালবিয়া তিনি উটনীর উপর সওয়ার হয়েই পাঠ করেছেন। তারপর যখন উটনী চলতে শুরু করল এবং বায়দা নামক স্থানে পৌঁছে গেল, তখন তিনি আবার তালবিয়া পাঠ করলেন। তাই যারা তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় তালবিয়া শুনে নাই, তারা মনে করল যে, তিনি প্রথম তালবিয়া সে সময়ই পড়েছেন, যখন বায়দা নামক স্থানে তিনি পৌঁছলেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. এর এ বর্ণনা দ্বারা প্রকৃত ঘটনা সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও স্পষ্ট হয়ে যায়।
আবূ দাউদ শরীফ ও মুস্তাদরকে হাকেম ইত্যাদি হাদীসগ্রন্থে প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত সাঈদ ইবনে যুবায়েরের একটি বর্ণনা রয়েছে যে, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-এর কাছে সাহাবায়ে কেরামের এই ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি উত্তরে বলেছিলেন: "আসল ঘটনা হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুল হুলায়ফার মসজিদে ইহরামের দু'রাকআত নামায পড়ার পর সাথে সাথেই প্রথম তালবিয়া পাঠ করেছিলেন। কিন্তু এ বিষয়টি কেবল ঐ কয়েকজন জানতে পারলেন, যারা তখন তাঁর নিকটে উপস্থিত ছিলেন। এরপর যখন তিনি সেখানে উটনীর উপর সওয়ার হলেন এবং উটনী তাঁকে নিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে গেল, তখন তিনি আবার তালবিয়া পাঠ করলেন এবং উটনীর উপর সওয়ার হওয়ার পর এটা ছিল তাঁর প্রথম তালবিয়া। তাই যেসব লোক তাঁর এ তালবিয়া শুনেছিল এবং প্রথমটি শুনে নাই তারা মনে করল যে, প্রথম তালবিয়া তিনি উটনীর উপর সওয়ার হয়েই পাঠ করেছেন। তারপর যখন উটনী চলতে শুরু করল এবং বায়দা নামক স্থানে পৌঁছে গেল, তখন তিনি আবার তালবিয়া পাঠ করলেন। তাই যারা তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় তালবিয়া শুনে নাই, তারা মনে করল যে, তিনি প্রথম তালবিয়া সে সময়ই পড়েছেন, যখন বায়দা নামক স্থানে তিনি পৌঁছলেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. এর এ বর্ণনা দ্বারা প্রকৃত ঘটনা সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও স্পষ্ট হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)