আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৪৪- শর্তাবলীর বিধান সংক্রান্ত অধ্যায়

হাদীস নং: ২৫৫০
আন্তর্জাতিক নং: ২৭৩৭
- শর্তাবলীর বিধান সংক্রান্ত অধ্যায়
১৭০৫. ওয়াকফের ব্যাপারে শর্তাবলী
২৫৫০। কুতাইবা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) খায়বারে কিছু জমি লাভ করেন। তিনি এ জমির ব্যাপারে পরামর্শের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কাছে এলেন এবং বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি খায়বারে এমন উৎকৃষ্ট কিছু জমি লাভ করেছি যা ইতিপূর্বে আর কখনো পাইনি। আপনি আমাকে এ ব্যাপারে কি আদেশ দেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তুমি ইচ্ছা করলে জমির মূলসত্ত্ব ওয়াক্‌ফে আব্দ্ধ করতে এবং উৎপন্ন বস্তু সাদ্‌কা করতে পার।’ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, উমর (রাযিঃ) এ শর্তে তা সাদ্‌কা (ওয়াক্‌ফ) করেন যে, তা বিক্রি করা যাবে না, তা দান করা যবে না এবং কেউ এর উত্তরাধীকারী হবে না। তিনি সাদ্‌কা করে দেন এর উৎপন্ন বস্তু অভাবগ্রস্ত, আত্মীয়-স্বজন, দাসমুক্তি, আল্লাহর রাস্তায়, মুসাফির মেহমানদের জন্য। (রাবী আরো বলেন) যে এর মুতাওয়াল্লী হবে তার জন্য সম্পদ সঞ্চয় না করে যথাবিহিত খাওয়া ও খাওয়ানোতে কোন দোষ নেই। তারপর আমি ইবনে সীরিন (রাহঃ) এর নিকট হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনি বলেন, অর্থাৎ মাল জমা না করে।
كتاب الشروط
باب الشُّرُوطِ فِي الْوَقْفِ
2737 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ [ص:199] عَوْنٍ، قَالَ: أَنْبَأَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنْ عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ أَصَابَ أَرْضًا بِخَيْبَرَ، فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَأْمِرُهُ فِيهَا، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَصَبْتُ أَرْضًا بِخَيْبَرَ لَمْ أُصِبْ مَالًا قَطُّ أَنْفَسَ عِنْدِي مِنْهُ، فَمَا تَأْمُرُ بِهِ؟ قَالَ: «إِنْ شِئْتَ حَبَسْتَ أَصْلَهَا، وَتَصَدَّقْتَ بِهَا» قَالَ: فَتَصَدَّقَ بِهَا عُمَرُ، أَنَّهُ لاَ يُبَاعُ وَلاَ يُوهَبُ وَلاَ يُورَثُ، وَتَصَدَّقَ بِهَا فِي الفُقَرَاءِ، وَفِي القُرْبَى وَفِي الرِّقَابِ، وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَابْنِ السَّبِيلِ، وَالضَّيْفِ لاَ جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهَا أَنْ يَأْكُلَ مِنْهَا بِالْمَعْرُوفِ، وَيُطْعِمَ غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ قَالَ: فَحَدَّثْتُ بِهِ ابْنَ سِيرِينَ، فَقَالَ: غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالًا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ওয়াকফ বিষয়ে আলোচ্য হাদীস মূল ভিত্তির মতো গুরুত্ব রাখে। সপ্তম হিজরীতে যুদ্ধের ফলে খায়বর বিজিত হয়েছিল। সাধারণভাবে তথাকার জমি স্বর্ণ ফসলী ছিল। মক্কা বিজয়ের পর খায়বরের প্রায় অর্ধেক অংশ রাসুলুল্লাহ ﷺ মুজাহিদগণের মধ্যে বণ্টন করে দেন। হযরত উমর (রা)-এর অংশে জমির যে টুকরা এল, তিনি ধারণা করলেন আমার যাবতীয় সম্পদের মধ্যে এটা খুবই মূল্যবান ও দুষ্প্রাপ্য। আর কুরআন মজীদে বলা হয়েছে-
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ .
(তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করবে না)।
এ ভিত্তিতে হযরত উমর (রা)-এর অন্তরে এ কথা উদয় হল যে, খায়বরে আমার অংশ থেকে মূল্যবান কোন জিনিস আমার নিকট নেই। আমি এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ও সৌভাগ্য লাভ করব। কিন্তু তিনি নিজে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি যে, এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার আমার নিকট উত্তম পন্থা কি? তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে নির্দেশ চাইলেন। তিনি তাঁকে ওয়াকফ করার পরামর্শ দিলেন, যা সাদকায়ে জারিয়া। সুতরাং হযরত উমর তা ওয়াকফ করে দিলেন। আর এর ব্যয়ের খাতও নির্দিষ্ট করে দিলেন। এ খাত প্রায় তাই যা যাকাতের বর্ণনায় কুরআন মজীদে বলা হয়েছে। (যেমন-কুরআন মজীদে সূরা তাওবায় বলা হয়েছে- সাদকা (যাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণ গ্রস্তদের, আল্লাহর পথে জিহাদকারী ও মুসাফিরদের জন্য। (আয়াত: ৬০)

পরিশেষে ওয়াকফ-এর মুতাওয়াল্লী ও এর ব্যবস্থাপকগণ সম্পর্কে বলেন, নিজের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য তা থেকে কিছু গ্রহণ করবে না। তবে খাওয়া-দাওয়া, পরিজন ও মেহমানবৃন্দের জন্য এ থেকে সঙ্গতভাবে নিতে পারে।

(শরী'আতের অন্যান্য অধ্যায়ের ন্যায় ওয়াকফ-এর মাসআলাও ফিকহর কিতাবসমূহে দেখা যেতে পারে)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)