আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৪৪- শর্তাবলীর বিধান সংক্রান্ত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৫৪৯
আন্তর্জাতিক নং: ২৭৩৬
- শর্তাবলীর বিধান সংক্রান্ত অধ্যায়
১৭০৪. শর্ত আরোপ করা ও স্বীকারোক্তির মধ্য থেকে কিছু বাদ দেওয়ার বৈধতা এবং লোকদের মধ্যে প্রচলিত শর্তবলী প্রসঙ্গে যখন কেউ বলে যে, এক বা দু’ ব্যতীত একশ? (তবে হুকুম কি হবে)। ইবনে আওন (রাহঃ) ইবনে সীরিন (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি তার (সওয়ারীর) কেরায়াদারকে বলল, তুমি তোমার সওয়ারী রাখ আমি যদি অমুক দিন তোমার সঙ্গে না যাই তাহলে তুমি একশ’ দিরহাম পাবে, কিন্তু সে গেল না। কাযী শুরাইহ (রাহঃ) বলেন, যদি কোন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বিনা চাপে নিজের উপর কোন শর্ত আরোপ করে তাহলে তা তার উপর বার্তায়। ইবনে সিরিন (রাহঃ) থেকে আইয়ুব (রাহঃ) বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি কিছু খাদ্য-দ্রব্য বিক্রি করল এবং (ক্রেতা) তাঁকে বলল, আমি যদি বুধবার তোমার কাছে না আসি তবে তোমার আমার মধ্যে কোন বেচা-কেনা নেই। তারপ সে এল না। তাতে কাযী শুরায়হ (রাহঃ) ক্রেতাকে বললেন, তুমি ওয়াদা খেলাপ করেছ। তাই তিনি ক্রেতার বিরুদ্ধে রায় দিলেন।
২৫৪৯। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহর নিরান্নববই অর্থাৎ এক কম একশ’টি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি তা স্মরণ রাখবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
كتاب الشروط
باب مَا يَجُوزُ مِنَ الاِشْتِرَاطِ وَالثُّنْيَا فِي الإِقْرَارِ وَالشُّرُوطِ الَّتِي يَتَعَارَفُهَا النَّاسُ بَيْنَهُمْ، وَإِذَا قَالَ مِائَةٌ إِلاَّ وَاحِدَةً أَوْ ثِنْتَيْنِ. وَقَالَ ابْنُ عَوْنٍ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ قَالَ رَجُلٌ لِكَرِيِّهِ أَدْخِلْ رِكَابَكَ، فَإِنْ لَمْ أَرْحَلْ مَعَكَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا، فَلَكَ مِائَةُ دِرْهَمٍ. فَلَمْ يَخْرُجْ، فَقَالَ شُرَيْحٌ مَنْ شَرَطَ عَلَى نَفْسِهِ طَائِعًا غَيْرَ مُكْرَهٍ فَهْوَ عَلَيْهِ. وَقَالَ أَيُّوبُ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ إِنَّ رَجُلاً بَاعَ طَعَامًا وَقَالَ إِنْ لَمْ آتِكَ الأَرْبِعَاءَ فَلَيْسَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ بَيْعٌ. فَلَمْ يَجِئْ، فَقَالَ شُرَيْحٌ لِلْمُشْتَرِي أَنْتَ أَخْلَفْتَ. فَقَضَى عَلَيْهِ
2736 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا، مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الجَنَّةَ»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
বুখারী ও মুসলিম শরীফের রিওয়ায়াতে এতটুকুই আছে, এর কোন বিস্তারিত বিবরণ বা সুনির্দিষ্ট বয়ান নেই। তিরমিযী প্রমুখের কোন কোন রিওয়ায়াতে বিশদভাবে নিরান্নব্বইটি নামের উল্লেখ আছে। হাদীসের ভাষ্যকার ও উলামাগণ এ ব্যাপারে প্রায় সর্ববাদী সম্মত মত পোষণ করেন যে, আল্লাহ তা'আলার পূত নামসমূহ এ নিরান্নব্বই সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আর এগুলো তাঁর নামসমূহের পূর্ণাঙ্গ ফিরিস্তিও নয়। কেননা, খোঁজাখুঁজি ঘাটাঘাটি করলে এর চাইতে অনেক বেশি নামের সন্ধান পাওয়া যায়। এজন্যে হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বর্ণিত এ হাদীসের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, এর অর্থ ও মর্ম কেবল এতটুকুই যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার নিরানব্বই নাম কণ্ঠস্থ করবে এবং এগুলো খেয়াল রাখবে, সে জান্নাতে যাবে। অর্থাৎ কেবল নিরানব্বই নাম ধারণ করে রাখতে পারলেই সে এ সুসংবাদের যোগ্যপাত্র বলে বিবেচিত হবে।
হাদীসে পাকে مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ এর ব্যাখ্যা উলামা ও ভাষ্যকারগণ বিভিন্নরূপ বক্তব্য লিখেছেন।
একটি অর্থ এর এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, যে বান্দা আল্লাহর এ নামগুলোর মর্ম জেনে এবং তাঁর মা'রিফত হাসিল করে আল্লাহ তা'আলার এ গুণাবলীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলো, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, যে বান্দা এ পবিত্র নামগুলোর দাবি অনুযায়ী আমল করবে, সে জান্নাতে যাবে।
তৃতীয় একটি অর্থ বলা হয়ে থাকে এই যে, যে ব্যক্তি নিরান্নব্বই নামে আল্লাহকে স্মরণ করবে এবং এগুলোর সাহায্যে তাঁকে ডাকবে ও তাঁর কাছে দু'আ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
ইমাম বুখারী (র) مَنْ أَحْصَاهَا এর ব্যাখ্যা مَنْ حَفِظَهَا (যে তা কণ্ঠস্থ করলো) করেছেন। বরং এই হাদীসের কোন কোন রিওয়ায়াতে مَنْ أَحْصَاهَا -এর স্থলে مَنْ حفظها -ই বর্ণিত হয়েছে। এ জন্যে এ ব্যাখ্যাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ঐ একই কারণে এ অধম তর্জমাকালে এ অর্থ করেছে। এ হিসাবে হাদীসের অর্থ দাঁড়ায় এই যে, যে বান্দা বিশ্বাস ও ভক্তি সহকারে আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তাঁর নিরানব্বইটি পবিত্র নাম মুখস্থ করবে সে জান্নাতে যাবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
হাদীসে পাকে مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ এর ব্যাখ্যা উলামা ও ভাষ্যকারগণ বিভিন্নরূপ বক্তব্য লিখেছেন।
একটি অর্থ এর এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, যে বান্দা আল্লাহর এ নামগুলোর মর্ম জেনে এবং তাঁর মা'রিফত হাসিল করে আল্লাহ তা'আলার এ গুণাবলীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলো, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, যে বান্দা এ পবিত্র নামগুলোর দাবি অনুযায়ী আমল করবে, সে জান্নাতে যাবে।
তৃতীয় একটি অর্থ বলা হয়ে থাকে এই যে, যে ব্যক্তি নিরান্নব্বই নামে আল্লাহকে স্মরণ করবে এবং এগুলোর সাহায্যে তাঁকে ডাকবে ও তাঁর কাছে দু'আ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
ইমাম বুখারী (র) مَنْ أَحْصَاهَا এর ব্যাখ্যা مَنْ حَفِظَهَا (যে তা কণ্ঠস্থ করলো) করেছেন। বরং এই হাদীসের কোন কোন রিওয়ায়াতে مَنْ أَحْصَاهَا -এর স্থলে مَنْ حفظها -ই বর্ণিত হয়েছে। এ জন্যে এ ব্যাখ্যাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ঐ একই কারণে এ অধম তর্জমাকালে এ অর্থ করেছে। এ হিসাবে হাদীসের অর্থ দাঁড়ায় এই যে, যে বান্দা বিশ্বাস ও ভক্তি সহকারে আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তাঁর নিরানব্বইটি পবিত্র নাম মুখস্থ করবে সে জান্নাতে যাবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)