কিতাবুস সুনান- ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

ভূমিকা অধ্যায় (ইত্তেবায়ে সুন্নাহ,ইলম ও সাহাবা রাঃ এর মর্যাদা সংশ্লিষ্ট)

হাদীস নং: ১৮৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৮৭
ভূমিকা অধ্যায় (ইত্তেবায়ে সুন্নাহ,ইলম ও সাহাবা রাঃ এর মর্যাদা সংশ্লিষ্ট)
জাহমিয়া সম্প্রদায় যা অস্বীকার করে, সে প্রসঙ্গে
১৮৭। আব্দুল কুদ্দুস ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ) ….. সুহায়ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ للذين أحسنوا الحسنى وزيادة “যারা কল্যাণকর কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং আরো অধিক" (১০ঃ২৬)। আর নবী (ﷺ) বলেনঃ যখন জান্নাতীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তখন এক ঘোষণাকারী বলবেঃ হে জান্নাতের অধিবাসীরা! নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর একটি ওয়াদা যা তিনি পূরণ করবেন। তখন তারা বলবেঃ সেটি কি? আল্লাহ কি আমাদের (নেকীর) পাল্লা ভারী করেন নি? আমাদের চেহারাগুলো আলোকিত করেন নি? তিনি কি আমাদের জান্নাতে দাখিল করেন নি এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত দেন নি? [রাসুলুল্লাহ (ﷺ)] বলেনঃ তখন আল্লাহ পর্দা তুলে নেবেন এবং তারা আল্লাহর প্রতি তাকাবে। আল্লাহর কসম! আল্লাহ তাদেরকে তাঁর দীদারের চাইতে অধিক প্রিয় বস্তু কিছু দান করেননি এবং কোন জিনিস দীদার লাভের চাইতে অধিকতর নয়ন প্রীতিকর হবে না।
أبواب السنة أو افتتاح الكتاب في الإيمان وفضائل الصحابة والعلم
بَاب فِيمَا أَنْكَرَتْ الْجَهْمِيَّةُ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْقُدُّوسِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ صُهَيْبٍ، قَالَ تَلاَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ هَذِهِ الآيَةَ ‏(لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ)‏ وَقَالَ ‏"‏ إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ وَأَهْلُ النَّارِ النَّارَ نَادَى مُنَادٍ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ إِنَّ لَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ مَوْعِدًا يُرِيدُ أَنْ يُنْجِزَكُمُوهُ ‏.‏ فَيَقُولُونَ وَمَا هُوَ أَلَمْ يُثَقِّلِ اللَّهُ مَوَازِينَنَا وَيُبَيِّضْ وُجُوهَنَا وَيُدْخِلْنَا الْجَنَّةَ وَيُنْجِنَا مِنَ النَّارِ قَالَ فَيَكْشِفُ الْحِجَابَ فَيَنْظُرُونَ إِلَيْهِ فَوَاللَّهِ مَا أَعْطَاهُمُ اللَّهُ شَيْئًا أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنَ النَّظَرِ إِلَيْهِ وَلاَ أَقَرَّ لأَعْيُنِهِمْ ‏"‏ ‏.‏

হাদীসের ব্যাখ্যা:

পর্দা সরানোর অর্থ হল দৃষ্টিকে এত শক্তিশালী করা যাতে অনায়াসে মহান প্রভুকে দর্শন করা যায়। কুরআনের আয়াতে উল্লিখিত "زیادة" শব্দের দ্বারা জান্নাত এবং জান্নাতের নি'আমত ছাড়াও মহান আল্লাহর দর্শনের নি'আমতের কথা বলা হয়েছে।

বিঃ-দ্রঃ আল্লাহ তাঁর সৎকর্মশীল বান্দাদেরকে আখিরাতে সাক্ষাৎ দেবেন। দুনিয়াতে আমরা চর্ম চোখে আল্লাহকে দেখতে পাই না। হযরত মূসা (আ) তাঁকে দেখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দেখতে পারেন নি। জ্যোতির ঝলক দেখে তিনি বেহুশ হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু আখিরাতের অবস্থা হবে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। তার কারণ সেই জগতের স্বভাব প্রকৃতি, ধারণ ক্ষমতা ও সহ্য শক্তিও হবে ব্যতিক্রমধর্মী। মানুষকে আল্লাহ্ রাব্বুর আলামীন আখিরাতের জীবনের সম্পূর্ণ উপযোগী করে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করবেন। তাই জান্নাতের মধ্যে আল্লাহর দর্শনে কোনরূপ অসুবিধা হবে না। বরং জ্যোতির্ময় আল্লাহর জ্যোতি দর্শন করার জন্য জান্নাতীদের চোখ সম্পূর্ণ উপযোগী হবে। আল্লাহকে দর্শন করে তারা বেহুশ হবে না এবং তাদের চোখ ক্লান্ত ও অসুস্থ হবেনা।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)
rabi
বর্ণনাকারী: