আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৪১- হিবা তথা উপহার প্রদান, এর ফযীলত ও এতে উৎসাহ প্রদান

হাদীস নং: ২৪৩৩
আন্তর্জাতিক নং: ২৬০৬
- হিবা তথা উপহার প্রদান, এর ফযীলত ও এতে উৎসাহ প্রদান
১৬২৭. দখলকৃত বা দখল করা হয়নি এবং বণ্টনকৃত বা বন্টন করা হয়নি এমন সম্পদ দান করা।
২৪৩৩। আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে জাবালা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এক ব্যক্তির কিছু ঋণ পাওনা ছিল। (তাগাদা করতে এসে সে অশোভন আচরণ শুরু করলে) সাহাবীগণ তাকে কিছু করতে চাইলেন। তিনি তাদের বললেন, তাকে ছেড়ে দাও, পাওনাদারের কিছু বলার অধিকার আছে। তিনি তাদের আরও বললেন, তাকে এক বছর বয়সী একটি উট খরিদ করে দাও। সাহাবীগণ বললেন, আমরা তো তার দেওয়া এক বছর বয়সী উটের মত পাচ্ছি না, বরং তার চেয়ে ভালো উট পাচ্ছি। তিনি বললেন, তবে তাই কিনে তাকে দিয়ে দাও। কেননা যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে, সে তোমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। কিংবা তিনি বলেছেন সে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।
كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها
بَاب الْهِبَةِ الْمَقْبُوضَةِ وَغَيْرِ الْمَقْبُوضَةِ وَالْمَقْسُومَةِ وَغَيْرِ الْمَقْسُومَةِ
2606 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ جَبَلَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سَلَمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ لِرَجُلٍ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَيْنٌ، فَهَمَّ بِهِ أَصْحَابُهُ، فَقَالَ: «دَعُوهُ، فَإِنَّ لِصَاحِبِ الحَقِّ مَقَالًا» ، وَقَالَ: «اشْتَرُوا لَهُ سِنًّا، فَأَعْطُوهَا إِيَّاهُ» فَقَالُوا: إِنَّا لاَ نَجِدُ سِنًّا إِلَّا سِنًّا هِيَ أَفْضَلُ مِنْ سِنِّهِ، قَالَ: «فَاشْتَرُوهَا، فَأَعْطُوهَا [ص:162] إِيَّاهُ، فَإِنَّ مِنْ خَيْرِكُمْ أَحْسَنَكُمْ قَضَاءً»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে বরং তার আগে আরবে সাধারণ প্রচলিত প্রথা ছিল, এক ব্যক্তি তার প্রয়োজনে অন্য ব্যক্তি হতে উট কর্জ গ্রহণ করত। আর এটা টাকা পয়সার সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। বরং এরূপে ধার্য হত যে, এর সমবয়সী এ জাতীয় অন্য উট-এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ে দিতে হবে। তাই রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রথানুযায়ী এক সময় কোন লোকের নিকট হতে উট কর্জ গ্রহণ করেছিলেন। সম্ভবত নির্ধারিত সময় এলে সে তাগাদা দিতে এসেছিল। সে শিষ্টাচার ও ভদ্রতার বিপরীতে কঠোর নীতি অবলম্বন করল। সাহাবীগণের মধ্যে যারা তখন উপস্থিত ছিলেন তাঁরা তার সাথে কঠোরতা অবলম্বনের ইচ্ছা করলেন। তিনি তাঁদের বললেন, তাকে কিছু বলো না। আমার প্রতি তার অধিকার রয়েছে। পাওনাদারের শক্ত কথা বলার অধিকার আছে। তবে তোমরা তার উটের ন্যায় একটি উট ক্রয় করে তাকে দিয়ে দাও। সাহাবীগণ অনুরূপ উট খুঁজলেন। কোথাও পেলেন না; তবে বয়স ও গঠনে সেটি থেকে বড় ও উত্তম পাওয়া যাচ্ছিল। তাঁরা ফেরত এসে নবী করীম ﷺকে একথাই বললেন। তিনি বললেন, যেটি বড় ও উত্তম সেটিই ক্রয় করে তাকে দাও। সাথে সাথে বললেন, যে ব্যক্তি অধিক ভাল ও শ্রেষ্ঠ পরিশোধ করে সেই অধিক উত্তম। আলোচ্য হাদীসে উন্মতের জন্য যে শিক্ষা রয়েছে, তা কোন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন রাখে না।
কোন প্রকারেই এটা জানা যায়নি যে, হাদীসে উল্লিখিত ব্যক্তি যে তাগাদা দিতে এসে শিষ্টাচার বিরোধী নীতি অবলম্বন করেছিল লোকটি কে ছিল? প্রবল ধারণা এটাই যে, কোন অমুসলিম ইয়াহুদী ইত্যাদি হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)