কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
৩৬. ইসলামী শিষ্টাচারের অধ্যায়
হাদীস নং: ৫১২৭
আন্তর্জাতিক নং: ৫২১৭
ইসলামী শিষ্টাচারের অধ্যায়
১৫৩. সম্মানের জন্য দাঁড়ান- সস্পর্কে।
৫১২৭. হাসান ইবনে আলী ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ফাতিমা (রাযিঃ)-এর চাইতে আর কাউকে কথা-বার্তায় ও চাল-চলনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে অধিক মিল দেখিনি। যখন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসতেন, তখন তিনি দাঁড়িয়ে তাঁকে চুমা দিতেন এবং তাঁর হাত ধরে নিজের আসনে বসাতেন। একইভাবে যখন নবী (ﷺ) তাঁর কাছে যেতেন, তখন তিনি দাঁড়িয়ে তাকে চুমা দিতেন এবং হাত ধরে তাঁকে নিজের আসনে বসাতেন।
كتاب الأدب
باب فِي الْقِيَامِ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ مَيْسَرَةَ بْنِ حَبِيبٍ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ، عَنْ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، عَائِشَةَ رضى الله عنها أَنَّهَا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا كَانَ أَشْبَهَ سَمْتًا وَهَدْيًا وَدَلاًّ - وَقَالَ الْحَسَنُ حَدِيثًا وَكَلاَمًا وَلَمْ يَذْكُرِ الْحَسَنُ السَّمْتَ وَالْهَدْىَ وَالدَّلَّ - بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ فَاطِمَةَ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهَا كَانَتْ إِذَا دَخَلَتْ عَلَيْهِ قَامَ إِلَيْهَا فَأَخَذَ بِيَدِهَا وَقَبَّلَهَا وَأَجْلَسَهَا فِي مَجْلِسِهِ وَكَانَ إِذَا دَخَلَ عَلَيْهَا قَامَتْ إِلَيْهِ فَأَخَذَتْ بِيَدِهِ فَقَبَّلَتْهُ وَأَجْلَسَتْهُ فِي مَجْلِسِهَا .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এসব হাদীস একথার সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, ভালোবাসা ও সম্মানের অনুভূতিতে মু'আনাকা ও চুম্বন (অর্থাৎ, হাতে এবং কপালে চুমু খাওয়া) জায়েয এবং স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে প্রমাণিত। এ জন্য হযরত আনাস রাযি.-এর ঐ হাদীসকে যার মধ্যে মু'আনাকা ও চুম্বনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এর উপরই প্রয়োগ করতে হবে যে, এ নিষেধাজ্ঞার হুকুমটি ঐসব ক্ষেত্রের জন্য, যখন বুক মিলানো ও চুম্বনের মধ্যে কোন অনিষ্ট অথবা এর সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকে।
হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণিত হাদীসটিতে হযরত ফাতিমার আগমনে হুযুর (ﷺ)-এর দাঁড়িয়ে যাওয়ার এবং হুযুর (ﷺ)-এর শুভাগমনে হযরত ফাতিমা রাযি.-এর দাঁড়িয়ে যাওয়ার উল্লেখ রয়েছে। এটা একথার প্রমাণ যে, ভালোবাসা, সম্মান ও ভক্তি প্রদর্শনের আবেগে নিজের কোন প্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তির জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়াও বৈধ। কিন্তু কোন কোন হাদীস দ্বারা এটাও বুঝা যায় যে, হুযুর (ﷺ)-এর আগমনে যদি সাহাবায়ে কেরাম কখনো দাঁড়িয়ে যেতেন, তাহলে তিনি এটা অপছন্দ করতেন এবং কিছুটা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতেন। সম্ভবত এর কারণ ছিল তাঁর স্বভাবসুলভ বিনয় ও নম্রতা।
হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণিত হাদীসটিতে হযরত ফাতিমার আগমনে হুযুর (ﷺ)-এর দাঁড়িয়ে যাওয়ার এবং হুযুর (ﷺ)-এর শুভাগমনে হযরত ফাতিমা রাযি.-এর দাঁড়িয়ে যাওয়ার উল্লেখ রয়েছে। এটা একথার প্রমাণ যে, ভালোবাসা, সম্মান ও ভক্তি প্রদর্শনের আবেগে নিজের কোন প্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তির জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়াও বৈধ। কিন্তু কোন কোন হাদীস দ্বারা এটাও বুঝা যায় যে, হুযুর (ﷺ)-এর আগমনে যদি সাহাবায়ে কেরাম কখনো দাঁড়িয়ে যেতেন, তাহলে তিনি এটা অপছন্দ করতেন এবং কিছুটা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতেন। সম্ভবত এর কারণ ছিল তাঁর স্বভাবসুলভ বিনয় ও নম্রতা।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)