কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

৩৬. ইসলামী শিষ্টাচারের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫০৭৪
আন্তর্জাতিক নং: ৫১৬৪
ইসলামী শিষ্টাচারের অধ্যায়
১৩২. দাস-দাসীর হক সম্পর্কে।
৫০৭৪. আহমদ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আব্বাস ইবনে জুলায়দ হাজারী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, একবার এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা গোলামকে কতবার ক্ষমা করবো? নবী (ﷺ) চুপ থাকলে সে ব্যক্তি আবার একই প্রশ্ন করে। তখনও তিনি চুপ থাকেন। লোকটি তৃতীয়বার একই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে, নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা তাদের প্রত্যহ সত্তর বার ক্ষমা করবে।
كتاب الأدب
باب فِي حَقِّ الْمَمْلُوكِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، - وَهَذَا حَدِيثُ الْهَمْدَانِيِّ وَهُوَ أَتَمُّ - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيُّ عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ جُلَيْدٍ الْحَجْرِيِّ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو يَقُولُ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَمْ نَعْفُو عَنِ الْخَادِمِ فَصَمَتَ ثُمَّ أَعَادَ عَلَيْهِ الْكَلاَمَ فَصَمَتَ فَلَمَّا كَانَ فِي الثَّالِثَةِ قَالَ " اعْفُوا عَنْهُ فِي كُلِّ يَوْمٍ سَبْعِينَ مَرَّةً " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

অধীনস্থদের সাথে অমায়িক ব্যবহার করা, তাদের ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতি খুব বড় করে না দেখা এবং তাদের অপরাধ মার্জনা করা উত্তম আখলাকের অন্তর্গত। কিন্তু তারা ইসলামী হুকুম-আহকামের খেলাফ কোন কিছু করলে তা সহানুভূতির চোখে দেখা যাবে না। শরীআত মোতাবিক তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

খাদিম বা অধীনস্থদের ত্রুটি-বিচ্যুতি বার বার মাফ করা কোন কৃতিত্বের কাজ নয়, বরং তা প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তির কর্তব্যকর্ম। মানুষ হিসেবে আমরা বার বার ত্রুটি-বিচ্যুতি করি, বার বার অপরাধ করি, বার বার আমরা আমাদের কর্তব্যকর্মের বিপরীত অনেক কিছু করি, বার বার আল্লাহ আমাদেরকে মাফ করেন এবং সংশোধন হওয়ার সুযোগ দেন। যদি আমরা আল্লাহর বান্দাদের প্রতি দয়া ও রহম প্রদর্শন না করি তাহলে আমরা কি করে আশা করতে পারি যে, আমাদের প্রতি তিনি রহমের দৃষ্টি দান করবেন এবং আমাদের সাথে নরম ব্যবহার করবেন। বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত এক হাদীসে আল্লাহর রাসূল ﷺ সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন: যে ব্যক্তি মানুষকে রহম করে না, আল্লাহ তাকে রহম করেন না। অপর এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন: তোমরা দুনিয়াবাসীর প্রতি রহম কর, আসমানে অবস্থানকারী তোমাদেরকে রহম করবেন। তাই বার বার অধীনস্থদের মাফ করতে হবে।

হাদীসে বর্ণিত সত্তর অর্থ কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নয়, বরং অনেক বা বার বার অর্থে ব্যবহৃত। আল্লাহর নবী ﷺ সর্বদা তাঁর অধীনস্থদের প্রতি সহনশীল ছিলেন। তিনি তাদেরকে মহব্বত করতেন। তিনি তাদের অপরাধ শুধু মাফই করেননি, কোনদিন তাদের কৈফিয়তও তলব করেননি, তাদের প্রতি কখনো রাগ বা বিরক্তিও প্রকাশ করেননি। নবী করীম ﷺ-এর বিশিষ্ট খাদিম আনাস ইবন মালিক (রা) তাঁর জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন, আমি দশ বছর আল্লাহর রাসূলের খিদমত করেছি, তিনি কখনো উফ (আহ) বলেননি। আমি কোন কাজ করলে বলেননি কেন করেছ এবং কোন কাজ না করলে বলেননি কেন করনি? মানব জাতির মধ্যে আল্লাহর রাসূলের আখলাক ছিল সর্বোত্তম।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)