কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

৩৫. সুন্নাহের গুরুত্ব ও আকাঈদ অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৬৭৭
আন্তর্জাতিক নং: ৪৭৫২
সুন্নাহের গুরুত্ব ও আকাঈদ অধ্যায়
২৬. কবরের প্রশ্ন ও শাস্তির বর্ণনা।
৪৬৭৭. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) .... আব্দুল ওয়াহাব (রাহঃ) উপরোক্ত সনদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যখন কোন ব্যক্তিকে কবরে রাখা হয় এবং লোকেরা তাকে দাফন করে ফিরে আসে, আর সে (মৃত ব্যক্তি) তাদের জুতার শব্দও শুনতে পায়; সে সময় তার কাছে দু’জন ফিরিশতা এসে প্রশ্ন করে। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, যাতে কাফির ও মুনাফিক শব্দের উল্লেখ আছে। এরপর দু’জন ফিরিশতা তাকে জিজ্ঞাসা করে। এখানে মুনাফিক শব্দটি অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে। রাবী আরো বলেনঃ সে শব্দ তার আশপাশে যারা থাকে, সবাই শোনে; জ্বীন ও ইনসান ব্যতীত।
كتاب السنة
باب فِي الْمَسْأَلَةِ فِي الْقَبْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، بِمِثْلِ هَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ قَالَ : " إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ إِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ، فَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيَقُولاَنِ لَهُ " . فَذَكَرَ قَرِيبًا مِنْ حَدِيثِ الأَوَّلِ قَالَ فِيهِ : " وَأَمَّا الْكَافِرُ وَالْمُنَافِقُ فَيَقُولاَنِ لَهُ " . زَادَ : " الْمُنَافِقُ " . وَقَالَ : " يَسْمَعُهَا مَنْ يَلِيهِ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, মৃত ব্যক্তিকে তিনটি সওয়াল করেন। আলোচ্য হাদীসে মাত্র একটি প্রশ্নের বিষয় উল্লেখিত হয়েছে। যেহেতু অবশিষ্ট দুটি প্রশ্ন এ প্রশ্নটির সহায়ক তাই একটি প্রশ্নের জওয়াব প্রদান করলেই তিনটি প্রশ্নের জওয়াব পাওয়া যাবে। এজন্য কোন কোন হাদীসে এই প্রধান প্রশ্ন উল্লেখিত হয়েছে। কুরআন ও হাদীসের পদ্ধতি হল কোন কোন সময় একই ঘটনা বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়। আবার কোন সময় তার অংশ বিশেষ উল্লেখিত হয়।

একটি নীতিগত বিষয় পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীসে কোন লেখ্য প্রবন্ধ নয় বরং সাধারণ মজলিসে প্রদত্ত ভাষণ। কোন শিক্ষক এবং নেতা যখন কোন মাহফিলে ভাষণ দান করেন তখন খুব স্বাভাবিক ভাবেই কোন সময় একটি ঘটনা বিশদভাবে বর্ণনা করেন আবার কোন সময় তার অংশবিশেষ উল্লেখ করেন।

হযরত আনাস (রা) এর বর্ণিত আলোচ্য হাদীসে কবরের উল্লেখ রয়েছে। অন্যান্য হাদীসেও অনুরূপভাবে কবরের বিষয় উল্লেখিত হয়েছে। এ থেকে এ ধারণা যেন না করা হয় যে, যাদেরকে কবরে দাফন করা হবে শুধুমাত্র তাদের সাথে উক্ত প্রশ্ন সম্পর্কিত। উল্লেখ্য এসব হাদীসে কবরের বর্ণনা এজন্য প্রদান করা হয়েছে যে, সাধারণত মৃত ব্যক্তিদেরকে কবরেই দাফন করা হয় এবং শ্রোতাগণ মৃত ব্যক্তিকে কবরে দাফন করার পদ্ধতি সম্পর্কেই ওয়াকেফহাল ছিলেন। মনে রাখতে হবে যে, ফিরিশতাগণ সকল মৃতব্যক্তিকেই প্রশ্ন করেন, এমন কি মৃত ব্যক্তিকে যদি সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয়া হয় বা আগুনে পোড়ানো হয় বা হিংস্র প্রাণি মৃতব্যক্তির লাশ খেয়েও ফেলে। পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, সওয়াল-জওয়াবের ব্যাপারটি মৃতব্যক্তির আত্মার সাথে সম্পর্কিত। শরীর যেখানেই থাকুক এবং যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন তার উপর তার প্রভাব অবশ্যই পড়বে। স্বপ্নের উদাহরণের দ্বারা এ বিষয়টি সুস্পষ্ট করা যায়। স্বপ্নে মানুষ অনেক কিছুই করে কথাবার্তা বলে, খাদ্য গ্রহণ করে কিন্তু তার সাথের ব্যক্তি কোন কিছুই দেখতে পায় না বা শুনতে পায় না। অনুরূপভাবে মৃতব্যক্তির লাশ যখন আমাদের সামনে দু'চারদিন পড়ে থাকে তখন ফিরিশতাগণ তাকে যে সাওয়াল জওয়াব করেন বা তাকে যে শাস্তি দান করেন তার আওয়াজ আমরা শুনতে পাই না।

কোন কোন আহাম্মক ব্যক্তি সন্দেহ প্রকাশ করে থাকে যে, কবরের মধ্যে ফিরিশতাগণ কি করে প্রবেশ করেন? তাদের মনে রাখতে হবে যে, ফিরিশতাগণের আকৃতি মানুষের মত নয়। তারা যে কোন স্থানে যে কোন অবস্থায় হাযির হতে পারেন। কবরে প্রবেশ করার জন্য কোনরূপ দরজা জানালা প্রয়োজন নেই। সূর্যের কিরণ যেরূপ কাঁচ ভেদ করতে সক্ষম ঠিক সেরূপ আল্লাহ্ প্রদত্ত কুদরতের দ্বারা ফিরিশতাগণ পাথরও ভেদ করতে পারেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান