কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

৩২. যুদ্ধ-বিগ্রহ ও কিয়ামতের বর্ণনা

হাদীস নং: ৪২৯১
আন্তর্জাতিক নং: ৪৩৪২
যুদ্ধ-বিগ্রহ ও কিয়ামতের বর্ণনা
১৭. আদেশ ও নিষেধ সম্পর্কে।
৪২৯১. কা’নবী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সে সময় তোমাদের অবস্থা কিরূপ হবে? অথবা তিনি বলেনঃ অচিরেই সে সময় আসছে, যখন ভাল লোকদের ছিনিয়ে নেয়া হবে- (মারা যাবে) এবং খারাপ লোকেরা জীবিত থাকবে। সে সময় তারা তাদের আমানত ও ওয়াদা পূরণ করবে না, বরং তারা দ্বিধা-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

এরপর নবী (ﷺ) তাঁর দু’হাতের আঙ্গুল মিশ্রিত করার পর বিচ্ছিন্ন করে দেখান। তখন সাহাবীগণ বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে সময় আমরা কি করবো? তিনি বলেনঃ তখন তোমরা যা ভাল বলে বিবেচনা করবে, তা করবে এবং যা খারাপ মনে করবে, তা পরিত্যাগ করবে। বিশেষতঃ সে সময় তোমরা সকলের চিন্তা না করে, নিজেদের ব্যাপারে বিশেষভাবে চিন্তা-ভাবনা করবে।
كتاب الملاحم
باب الأَمْرِ وَالنَّهْىِ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، أَنَّ عَبْدَ الْعَزِيزِ بْنَ أَبِي حَازِمٍ، حَدَّثَهُمْ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كَيْفَ بِكُمْ وَبِزَمَانٍ " . أَوْ " يُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَ زَمَانٌ يُغَرْبَلُ النَّاسُ فِيهِ غَرْبَلَةً تَبْقَى حُثَالَةٌ مِنَ النَّاسِ قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ وَأَمَانَاتُهُمْ وَاخْتَلَفُوا فَكَانُوا هَكَذَا " . وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ فَقَالُوا وَكَيْفَ بِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " تَأْخُذُونَ مَا تَعْرِفُونَ وَتَذَرُونَ مَا تُنْكِرُونَ وَتُقْبِلُونَ عَلَى أَمْرِ خَاصَّتِكُمْ وَتَذَرُونَ أَمْرَ عَامَّتِكُمْ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

حثالة অর্থ-ভূষি। এখানে এ শব্দের অর্থ এমন লোক, যে বাহ্যিক মানুষ হওয়া সত্ত্বেও মনুষত্বের নৈপুণ্য থেকে সম্পূর্ণ শূন্য। তার মধ্যে কোন যোগ্যতা নেই। যে ভাবে ভূষিতে যোগ্যতা নেই। সামনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের এরূপ অবস্থা বর্ণনা করেছেন যে, তাদের চুক্তি ও লেন-দেনে ধোঁকা-প্রতারণা, কূট-কৌশল, আর পরস্পর ঝগড়া-কলহ তাদের ব্যস্ততার কাজ হবে।

অল্প বয়স্ক সাহাবা কিরামের মধ্যে আব্দুল্লাহ্ ইবনে 'আমর ইবনুল 'আস (রা) প্রাকৃতিকভাবে খুবই কল্যাণপসন্দ, মুত্তাকী ও ইবাদতকারী ছিলেন। একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন, যখন এরূপ সময় এসে যাবে-এ জাতীয় অকেজো মন্দ কাজ সম্পাদনকারী ও পরস্পর ঝগড়া-কলহকারী ব্যক্তিগণ বাকি থাকবে, তখন তোমার কর্ম পদ্ধতি কি হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এজন্য তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, এ বিষয়ে তিনি তাঁর থেকে দিকনির্দেশনা চাইবেন, ফলে তিনি তাঁকে দিকনির্দেশনা দান করবেন। এটা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষাপদ্ধতি ছিল। সুতরাং তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিয়ে দিলেন। তাঁর উত্তরের মোট কথা হচ্ছে, যখন এরূপ লোকদের সাথে যোগাযোগের প্রয়োজন পড়ে যারা মনুষত্বের সম্পদ থেকে বঞ্চিত এবং উত্তম জিনিস গ্রহণ করার যোগ্যতাই তাদের থাকেনি, তখন মু'মিনগণের উচিত এমন লোকদের থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া।

এখানে এ কথা বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামত পর্যন্ত মুসলমানদেরকে যে দিকনির্দেশনা দিতে চাচ্ছিলেন, সাহাবা কিরামকেই তার সম্বোধিত ব্যক্তিবর্গ বানাতেন। সেই সাহাবা কিরাম এবং তাঁদের পরবর্তী হাদীস বর্ণনাকারীগণকে আল্লাহ্ তা'আলা উত্তম পুরস্কার দান করুন। যেহেতু তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এসব দিকনির্দেশ পরবর্তীদের পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন, এবং হাদীসের ইমামগণ সেগুলো গ্রন্থসমূহে সংরক্ষিত করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)