কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
৩২. যুদ্ধ-বিগ্রহ ও কিয়ামতের বর্ণনা
হাদীস নং: ৪২৯০
আন্তর্জাতিক নং: ৪৩৪১
যুদ্ধ-বিগ্রহ ও কিয়ামতের বর্ণনা
১৭. আদেশ ও নিষেধ সম্পর্কে।
৪২৯০. আবু রাবী’ (রাহঃ) .... আবু উমাইয়া শা’বাণী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আবু ছা’লাবা খুশানী (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করে, হে আবু ছা’লাবা! এ আয়াত সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তিনি বলেনঃ আল্লাহর শপথ! তুমি এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকেই জিজ্ঞাসা করেছে।
একদা আমি এ আয়াত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেনঃ তুমি তোমার সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করার পর তোমার দায়িত্ব হলো- সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা। একাজ তুমি ততক্ষণ করবে, যতক্ষণ না তুমি লোকদের কৃপণতার অনুসারী এবং স্বীয় খাহেশের অনুগামী দেখবে। আর দুনিয়াকে দ্বীনের উপর প্রাধান্য দিতে থাকে এবং প্রত্যেক অহংকারী ব্যক্তি নিজের মতামতের অনুসরণকারী হয়। এমতাবস্থায় তুমি তোমার সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করবে এবং সাধারণের কথা পরিত্যাগ করবে। কেননা, এর পরেই সবরের সময়। আর সে সময় সবর করা এরূপ, যেন জ্বলন্ত আগুন হাতে রাখা। সে সময় যে ব্যক্তি নেক আমল করবে, সে পঞ্চাশ জনের সমান সাওয়াব পাবে।
তখন জনৈক সাহাবী জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাদের মাঝের পঞ্চাশ জনের নেকীর অনুরূপ নেকী সে পাবে? তিনি বলেনঃ তোমাদের মত পঞ্চাশ জনের সাওয়াবের অনুরূপ সাওয়াব সে পাবে।
একদা আমি এ আয়াত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেনঃ তুমি তোমার সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করার পর তোমার দায়িত্ব হলো- সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা। একাজ তুমি ততক্ষণ করবে, যতক্ষণ না তুমি লোকদের কৃপণতার অনুসারী এবং স্বীয় খাহেশের অনুগামী দেখবে। আর দুনিয়াকে দ্বীনের উপর প্রাধান্য দিতে থাকে এবং প্রত্যেক অহংকারী ব্যক্তি নিজের মতামতের অনুসরণকারী হয়। এমতাবস্থায় তুমি তোমার সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করবে এবং সাধারণের কথা পরিত্যাগ করবে। কেননা, এর পরেই সবরের সময়। আর সে সময় সবর করা এরূপ, যেন জ্বলন্ত আগুন হাতে রাখা। সে সময় যে ব্যক্তি নেক আমল করবে, সে পঞ্চাশ জনের সমান সাওয়াব পাবে।
তখন জনৈক সাহাবী জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাদের মাঝের পঞ্চাশ জনের নেকীর অনুরূপ নেকী সে পাবে? তিনি বলেনঃ তোমাদের মত পঞ্চাশ জনের সাওয়াবের অনুরূপ সাওয়াব সে পাবে।
كتاب الملاحم
باب الأَمْرِ وَالنَّهْىِ
حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ، سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ عُتْبَةَ بْنِ أَبِي حَكِيمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ جَارِيَةَ اللَّخْمِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو أُمَيَّةَ الشَّعْبَانِيُّ، قَالَ سَأَلْتُ أَبَا ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيَّ فَقُلْتُ يَا أَبَا ثَعْلَبَةَ كَيْفَ تَقُولُ فِي هَذِهِ الآيَةِ ( عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ ) قَالَ أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ سَأَلْتَ عَنْهَا خَبِيرًا سَأَلْتُ عَنْهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " بَلِ ائْتَمِرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَتَنَاهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ حَتَّى إِذَا رَأَيْتَ شُحًّا مُطَاعًا وَهَوًى مُتَّبَعًا وَدُنْيَا مُؤْثَرَةً وَإِعْجَابَ كُلِّ ذِي رَأْىٍ بِرَأْيِهِ فَعَلَيْكَ - يَعْنِي بِنَفْسِكَ - وَدَعْ عَنْكَ الْعَوَامَّ فَإِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ أَيَّامَ الصَّبْرِ الصَّبْرُ فِيهِ مِثْلُ قَبْضٍ عَلَى الْجَمْرِ لِلْعَامِلِ فِيهِمْ مِثْلُ أَجْرِ خَمْسِينَ رَجُلاً يَعْمَلُونَ مِثْلَ عَمَلِهِ " . وَزَادَنِي غَيْرُهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَجْرُ خَمْسِينَ مِنْهُمْ قَالَ " أَجْرُ خَمْسِينَ مِنْكُمْ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আবু সা'আলাবা খুশানী (রা) কে আবূ উমাইয়া শা'বানী নামক এক তাবিঈ সূরা মায়িদার সেই ১০৫নং আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি এই উত্তর দেন যে, আমি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই আয়াত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। (কেননা, এর প্রকাশ্য শব্দাবলিতে এ সন্দেহ জাগ্রত হতে পারে যে, যদি আমরা স্বয়ং আল্লাহ্ ও রাসূলের হিদায়াত অনুযায়ী চলি তবে অন্য লোকদের দীনের চিন্তা এবং 'আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকার' আমাদের জিম্মায় নয়) তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে উত্তর দিয়েছিলেন তা হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে।
মোট কথা, নিজের দীনের চিন্তার সাথে আল্লাহর অন্যান্য বান্দাদের দীনের চিন্তা এবং এ ধারাবাহিকতায় আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকারও দীনী দায়িত্ব এবং আল্লাহর অভিপ্রায়। তাই সর্বদা তা করতে থাক। হ্যাঁ, যখন উম্মতের অবস্থা এই দাঁড়াবে যে, বখিলী ও কৃপণতা স্বভাবে পরিণত হয়ে দাঁড়াবে, সম্পদের পূজা হতে থাকবে এবং আল্লাহ্ ও রাসূলের আহকামের স্থলে কেবল আত্ম প্রবৃত্তির আনুগত্য হতে থাকবে এবং আখিরাতকে ভুলে দুনিয়াকেই উদ্দেশ্য বানিয়ে নেবে, আত্মগর্ব ও স্বেচ্ছাধীন চলার মহামারি ব্যাপক হবে, এই মন্দ পরিবেশে যেহেতু আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকারের প্রভাব ও ফায়দা এবং জনগণের সংশোধনের আশা থাকে না তখন জনগণের চিন্তা ছেড়ে দিয়ে কেবল নিজের সংশোধন ও গুনাহ্ থেকে হিফাযতের চিন্তা করাই উচিত। শেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এমন যুগ আসবে যখন দীনে স্থির থাকা, আল্লাহ্ ও রাসূলের আহকামের ওপর চলা, হাতে আগুন লওয়ার মত কষ্টদায়ক ও ধৈর্য পরীক্ষার বিষয় হবে। প্রকাশ থাকে যে, এরূপ অবস্থায় নিজের দীনের ওপর স্থির থাকাই বিরাট জিহাদ হবে। আর অন্যদের সংশোধনের চিন্তাও এ ধারাবাহিকতায় আমর বিল মা'আরূফ ওয়া নাহি আনিল মুনকারের দায়িত্ব বাকি থাকবে না।
এরূপ প্রতিকূল পরিবেশ ও কঠিন অবস্থায় আল্লাহ্ ও রাসূলের নির্দেশাবলির ওপর ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে আমলকারীদের সম্বন্ধে তিনি বলেন, তারা তোমাদের ন্যায় পঞ্চাশ আমলকারীর সমান পুরস্কার ও সাওয়াব পাবে।
মোট কথা, নিজের দীনের চিন্তার সাথে আল্লাহর অন্যান্য বান্দাদের দীনের চিন্তা এবং এ ধারাবাহিকতায় আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকারও দীনী দায়িত্ব এবং আল্লাহর অভিপ্রায়। তাই সর্বদা তা করতে থাক। হ্যাঁ, যখন উম্মতের অবস্থা এই দাঁড়াবে যে, বখিলী ও কৃপণতা স্বভাবে পরিণত হয়ে দাঁড়াবে, সম্পদের পূজা হতে থাকবে এবং আল্লাহ্ ও রাসূলের আহকামের স্থলে কেবল আত্ম প্রবৃত্তির আনুগত্য হতে থাকবে এবং আখিরাতকে ভুলে দুনিয়াকেই উদ্দেশ্য বানিয়ে নেবে, আত্মগর্ব ও স্বেচ্ছাধীন চলার মহামারি ব্যাপক হবে, এই মন্দ পরিবেশে যেহেতু আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকারের প্রভাব ও ফায়দা এবং জনগণের সংশোধনের আশা থাকে না তখন জনগণের চিন্তা ছেড়ে দিয়ে কেবল নিজের সংশোধন ও গুনাহ্ থেকে হিফাযতের চিন্তা করাই উচিত। শেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এমন যুগ আসবে যখন দীনে স্থির থাকা, আল্লাহ্ ও রাসূলের আহকামের ওপর চলা, হাতে আগুন লওয়ার মত কষ্টদায়ক ও ধৈর্য পরীক্ষার বিষয় হবে। প্রকাশ থাকে যে, এরূপ অবস্থায় নিজের দীনের ওপর স্থির থাকাই বিরাট জিহাদ হবে। আর অন্যদের সংশোধনের চিন্তাও এ ধারাবাহিকতায় আমর বিল মা'আরূফ ওয়া নাহি আনিল মুনকারের দায়িত্ব বাকি থাকবে না।
এরূপ প্রতিকূল পরিবেশ ও কঠিন অবস্থায় আল্লাহ্ ও রাসূলের নির্দেশাবলির ওপর ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে আমলকারীদের সম্বন্ধে তিনি বলেন, তারা তোমাদের ন্যায় পঞ্চাশ আমলকারীর সমান পুরস্কার ও সাওয়াব পাবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)