আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
২৪- রোযার অধ্যায়
হাদীস নং: ১৮২৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৯৪৮
- রোযার অধ্যায়
১২২০. সফর অবস্থায় রোযা ভঙ্গ করা, যাতে লোকেরা দেখতে পায়।
১৮২৪। মুসা ইবনে ইসমা‘ঈল (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনা থেকে মক্কায় রওয়ানা হলেন। তখন তিনি রোযা পালন করছিলেন। উসফানে পৌছার পর তিনি পানি আনার জন্য আদেশ করলেন। তারপর তিনি লোকদেরকে দেখানোর জন্য পানি হাতের উপর উচুঁ করে ধরে রোযা ভঙ্গ করলেন এবং এ অবস্থায় মক্কায় পৌছলেন। এ ছিল রমজান মাসে। তাই ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলতেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রোযা পালন করেছেন এবং রোযা ভঙ্গও করেছেন। যার ইচ্ছা রোযা পালন করতে পারে আর যার ইচ্ছা রোযা ভঙ্গ করতে পারে।
كتاب الصوم
باب مَنْ أَفْطَرَ فِي السَّفَرِ لِيَرَاهُ النَّاسُ
1948 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مِنَ المَدِينَةِ إِلَى مَكَّةَ، فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ عُسْفَانَ، ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَرَفَعَهُ إِلَى يَدَيْهِ لِيُرِيَهُ النَّاسَ، فَأَفْطَرَ حَتَّى قَدِمَ مَكَّةَ، وَذَلِكَ فِي رَمَضَانَ "، فَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ: «قَدْ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَفْطَرَ، فَمَنْ شَاءَ صَامَ وَمَنْ شَاءَ أَفْطَرَ»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসে মক্কার যে সফরের উল্লেখ রয়েছে এটা মক্কা বিজয়ের সময়কার সফর ছিল- যা অষ্টম হিজরীর রমযান মাসে হয়েছিল। এতে তিনি প্রথমে রোযা রাখতে থাকলেন, কিন্তু যখন উসফান নামক স্থানে পৌছলেন, (যা মক্কা মুকাররমা থেকে ৩৫/৩৬ মাইল সম্মুখে একটি ঝর্ণা ছিল।) এবং সেখান থেকে মক্কা কেবল দুই মনযিলের দূরত্ব রয়ে গেল, আর এ আশংকা দেখা দিল যে, নিকটবর্তী সময়েই কোন প্রতিরোধ অথবা যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। তাই তিনি তখন রোযা রাখা উপযোগী মনে করলেন না এবং নিজেই রোযা ছেড়ে দিলেন এবং অন্যদেরকে দেখিয়ে পানি পান করে নিলেন- যাতে কারো জন্য রোযা ছেড়ে দেওয়া কঠিন মনে না হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ বাস্তব কর্ম দ্বারা জানা গেল যে, যে পর্যন্ত রোযা ছেড়ে দেওয়ার তেমন কোন কারণ ও যুক্তিসিদ্ধতা না থাকে, সে পর্যন্ত রোযা রেখে যাওয়াই উত্তম। এ জন্যই তিনি 'উসফান' পর্যন্ত রোযা রেখে গিয়েছেন। কোন বিশেষ কারণ ও যুক্তিসিদ্ধতা ছাড়াও যদি সফরে রোযা ছেড়ে দেওয়া উত্তম হত, তাহলে তিনি সফরের শুরু থেকেই রোযা ছেড়ে দিতেন।
এ ঘটনা সম্পর্কেই হযরত জাবের রাযি. থেকেও একটি বর্ণনা মুসলিম শরীফে এসেছে। সেখানে এ অতিরিক্ত সংযোজনও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এভাবে ঘোষণা দিয়ে রোযা ছেড়ে দেওয়ার পর এবং সবাইকে দেখিয়ে পানি পান করার পরও কিছু লোক রোযা অব্যাহত রাখল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বিষয়টি জানতে পারলেন, তখন বললেন: 'এরা হচ্ছে অবাধ্য ও গুনাহগার'। কেননা, তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় প্রকাশ পাওয়ার পরও এর বিপরীত কাজ করেছে- যদিও না জেনে অথবা ভুল বুঝাবুঝির কারণে করেছে। কেননা, নৈকট্যশীলদের সামান্য ভুলও অপরাধ।
এ ঘটনা সম্পর্কেই হযরত জাবের রাযি. থেকেও একটি বর্ণনা মুসলিম শরীফে এসেছে। সেখানে এ অতিরিক্ত সংযোজনও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এভাবে ঘোষণা দিয়ে রোযা ছেড়ে দেওয়ার পর এবং সবাইকে দেখিয়ে পানি পান করার পরও কিছু লোক রোযা অব্যাহত রাখল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বিষয়টি জানতে পারলেন, তখন বললেন: 'এরা হচ্ছে অবাধ্য ও গুনাহগার'। কেননা, তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় প্রকাশ পাওয়ার পরও এর বিপরীত কাজ করেছে- যদিও না জেনে অথবা ভুল বুঝাবুঝির কারণে করেছে। কেননা, নৈকট্যশীলদের সামান্য ভুলও অপরাধ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)