কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

১৭. শপথ ও মান্নতের বিধান

হাদীস নং: ৩২৩০
আন্তর্জাতিক নং: ৩২৪৫
শপথ ও মান্নতের বিধান
২৬৫. যে ব্যক্তি অন্যের মাল আত্মসাতের জন্য মিথ্যা কসম খাবে।
৩২৩০. হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ...... ওয়াইল ইবনে হুজর হাযরামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হাযরামূত ও কিনদা গোত্রের দু’ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হয়। তখন হাযরামী বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ ব্যক্তি আমার পিতার জমি জোর করে দখল করেছে। এ সময় কিনদা গোত্রের লোকটি বলেঃ ঐ জমি তো আমার, আমি নিজেই সেখানে ফসল উৎপন্ন করি। সেখানে তার কোন অধিকার নেই। রাবী বলেন, তখন নবী (ﷺ) হাযরামীকে জিজ্ঞাসা করেনঃ এ ব্যাপারে তোমার পক্ষে কি কোন সাক্ষী আছে? তখন সে বলেঃ না। এ সময় তিনি বলেনঃ যদি তোমার পক্ষে কোন সাক্ষী না থাকে, তবে তোমার হক নির্ধারণের ব্যাপারে ঐ ব্যক্তির কসমই গ্রহণীয় হবে।

তখন হাযরামী বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে ব্যক্তি তো দুষ্কৃতকারী। সে কসম খাওয়ার ব্যাপারে ইতস্তত করবে না। কেননা, সে কোন ব্যাপারে বাছ-বিচার করে না। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমার জন্য এছাড়া বিকল্প আর কোন পথ নেই। এরপর কিনদা গোত্রের লোকটি এব্যাপারে কসম খাওয়ার জন্য রওয়ানা হয়। যখন সে পিঠ ফিরিয়ে যায়, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জেনে রাখ, যদি সে অন্যের মাল অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা কসম খায়, তবে সে যখন আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবে, তখন আল্লাহ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।
كتاب الأيمان والنذور
باب فِيمَنْ حَلَفَ يَمِينًا لِيَقْتَطِعَ بِهَا مَالاً لأحد
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنْ حَضْرَمَوْتَ وَرَجُلٌ مِنْ كِنْدَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ الْحَضْرَمِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هَذَا غَلَبَنِي عَلَى أَرْضٍ كَانَتْ لأَبِي . فَقَالَ الْكِنْدِيُّ هِيَ أَرْضِي فِي يَدِي أَزْرَعُهَا لَيْسَ لَهُ فِيهَا حَقٌّ . قَالَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلْحَضْرَمِيِّ " أَلَكَ بَيِّنَةٌ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَلَكَ يَمِينُهُ " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ فَاجِرٌ لاَ يُبَالِي مَا حَلَفَ عَلَيْهِ لَيْسَ يَتَوَرَّعُ مِنْ شَىْءٍ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ لَكَ مِنْهُ إِلاَّ ذَاكَ " . فَانْطَلَقَ لِيَحْلِفَ لَهُ فَلَمَّا أَدْبَرَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَا لَئِنْ حَلَفَ عَلَى مَالٍ لِيَأْكُلَهُ ظَالِمًا لَيَلْقَيَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَهُوَ عَنْهُ مُعْرِضٌ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

নিঃসন্দেহে কোন বান্দার জন্য এটা চূড়ান্ত পর্যায়ের দুর্ভাগ্য যে, ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির কারণে আল্লাহ তা'আলা আখিরাতে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। এটা তার জন্য অভিশপ্ত ও ক্ষমার অযোগ্য হওয়ার লক্ষণ হবে। এর পূর্বে আশ'আস ইব্‌ন কায়সের হাদীসে এরূপ লোকদের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ যে আয়াত তিলাওয়াত করেছিলেন-
{إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [آل عمران: 77]
হযরত ওয়াইলের সেই হাদীসে وهو عنه معرض এ হাদীসেরই এজমালী ব্যাখ্যা। আর আয়াতের বর্ণনা যেন তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা।

সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় একটি বাক্য এই-
فَانْطَلَقَ لِيَحْلِفَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَمَّا أَدْبَرَ الخ
যার তরজমা এই করা হয়েছে, যখন সেই কিন্দী শপথ করার জন্য অন্য দিকে চললেন, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সম্ভবত সেই কিন্দীকে বলে থাকবেন, মসজিদে গিয়ে নামায পড়ে সবার সামনে শপথ কর, অথবা মিম্বরের পাশে দাঁড়িয়ে শপথ কর। এরপর যখন তিনি শপথ করার জন্য সেই দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে সতর্ক করেন, যে কেউ মিথ্যা শপথ করে অপরের মাল অবৈধ পন্থায় অর্জন করবে আখিরাতে তার এই পরিণতি হবে।

সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় একথা উল্লেখ নেই যে, এরপর সেই ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করেছিলেন না কি শপথ গ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন। কিন্তু অন্য বর্ণনায় হাজরামী ও কিন্দীর এ মোকদ্দমা সম্পর্কে হযরত আশ্আস ইবনে কায়স-এর হাদীসের শেষে এ কথা রয়েছে- রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন আখিরাতের মন্দ পরিণতির ভয় শুনালেন, তখন কিন্দী শপথ করা থেকে থেমে গেলেন। তিনি স্বীকার করলেন যে, এ জমি বাদী হাজরামীরই। সুতরাং রাসূলুল্লাহ ﷺ সে অনুযায়ীই ফায়সালা প্রদান করেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)