কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
১৩. ওছিয়াতের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৮৬৮
আন্তর্জাতিক নং: ২৮৭৮
ওছিয়াতের অধ্যায়
১১৬. কোন ব্যক্তির কোন সম্পদ ওয়াক্ফ করা সম্পর্কে।
২৮৬৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উমর (রাযিঃ) খায়বরে একখণ্ড জমি পান। তখন তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলেনঃ আমি এমন এক খণ্ড জমি পেয়েছি, যা থেকে উত্তম কোন মাল ইতিপূর্বে আমি আর পাইনি। আপনি এ ব্যাপারে আমাকে কি নির্দেশ দেন? তিনি বলেনঃ যদি তুমি চাও, তবে আসল জমিটা রেখে দাও এবং এ থেকে উৎপন্ন ফসল দান করে দাও। তখন উমর (রাযিঃ) তা থেকে উৎপন্ন ফসল দান করতে থাকেন এবং তিনি এরূপ সিদ্ধান্ত নেন যে, আসল জমি বিক্রয় করবেন না, হিবা বা দানও করবেন না এবং উত্তরাধিকারীদেরও দেবেন না; বরং তা থেকে ফকীর, নিকটাত্মীয়, গোলাম, মিসকীন এবং মুসাফিররা আল্লাহ্ ওয়াস্তে উপকৃত হতে থাকবে।
রাবী বিশরের বর্ণনায় মেহমান শব্দটি অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর এ ব্যাপারে সকলে একমত যে, যিনি এই ওয়াক্ফকৃত সম্পত্তির মুতাওয়াল্লী হবেন, তিনি উত্তমভাবে নিয়মানুযায়ী তার লভ্যাংশ ভক্ষণ করতে পারবেন এবং ঐ সমস্ত বন্ধুকে খাওয়াতে পারবেন, যারা মালদার নয়।
রাবী বিশরের বর্ণনায় এরূপ অতিরিক্ত বর্ণিত আছে যে, রাবী মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেছেনঃ সে ব্যক্তি তার লভ্যাংশ ভোগ করতে পারবে, কিন্তু তা থেকে নিজের জন্য কিছু জমা করতে পারবে না।
রাবী বিশরের বর্ণনায় মেহমান শব্দটি অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর এ ব্যাপারে সকলে একমত যে, যিনি এই ওয়াক্ফকৃত সম্পত্তির মুতাওয়াল্লী হবেন, তিনি উত্তমভাবে নিয়মানুযায়ী তার লভ্যাংশ ভক্ষণ করতে পারবেন এবং ঐ সমস্ত বন্ধুকে খাওয়াতে পারবেন, যারা মালদার নয়।
রাবী বিশরের বর্ণনায় এরূপ অতিরিক্ত বর্ণিত আছে যে, রাবী মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেছেনঃ সে ব্যক্তি তার লভ্যাংশ ভোগ করতে পারবে, কিন্তু তা থেকে নিজের জন্য কিছু জমা করতে পারবে না।
كتاب الوصايا
باب مَا جَاءَ فِي الرَّجُلِ يُوقِفُ الْوَقْفَ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ أَصَابَ عُمَرُ أَرْضًا بِخَيْبَرَ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَصَبْتُ أَرْضًا لَمْ أُصِبْ مَالاً قَطُّ أَنْفَسَ عِنْدِي مِنْهُ فَكَيْفَ تَأْمُرُنِي بِهِ قَالَ " إِنْ شِئْتَ حَبَّسْتَ أَصْلَهَا وَتَصَدَّقْتَ بِهَا " . فَتَصَدَّقَ بِهَا عُمَرُ أَنَّهُ لاَ يُبَاعُ أَصْلُهَا وَلاَ يُوهَبُ وَلاَ يُورَثُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْقُرْبَى وَالرِّقَابِ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ - وَزَادَ عَنْ بِشْرٍ - وَالضَّيْفِ - ثُمَّ اتَّفَقُوا - لاَ جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهَا أَنْ يَأْكُلَ مِنْهَا بِالْمَعْرُوفِ وَيُطْعِمَ صَدِيقًا غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ . زَادَ عَنْ بِشْرٍ قَالَ وَقَالَ مُحَمَّدٌ غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ওয়াকফ বিষয়ে আলোচ্য হাদীস মূল ভিত্তির মতো গুরুত্ব রাখে। সপ্তম হিজরীতে যুদ্ধের ফলে খায়বর বিজিত হয়েছিল। সাধারণভাবে তথাকার জমি স্বর্ণ ফসলী ছিল। মক্কা বিজয়ের পর খায়বরের প্রায় অর্ধেক অংশ রাসুলুল্লাহ ﷺ মুজাহিদগণের মধ্যে বণ্টন করে দেন। হযরত উমর (রা)-এর অংশে জমির যে টুকরা এল, তিনি ধারণা করলেন আমার যাবতীয় সম্পদের মধ্যে এটা খুবই মূল্যবান ও দুষ্প্রাপ্য। আর কুরআন মজীদে বলা হয়েছে-
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ .
(তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করবে না)।
এ ভিত্তিতে হযরত উমর (রা)-এর অন্তরে এ কথা উদয় হল যে, খায়বরে আমার অংশ থেকে মূল্যবান কোন জিনিস আমার নিকট নেই। আমি এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ও সৌভাগ্য লাভ করব। কিন্তু তিনি নিজে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি যে, এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার আমার নিকট উত্তম পন্থা কি? তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে নির্দেশ চাইলেন। তিনি তাঁকে ওয়াকফ করার পরামর্শ দিলেন, যা সাদকায়ে জারিয়া। সুতরাং হযরত উমর তা ওয়াকফ করে দিলেন। আর এর ব্যয়ের খাতও নির্দিষ্ট করে দিলেন। এ খাত প্রায় তাই যা যাকাতের বর্ণনায় কুরআন মজীদে বলা হয়েছে। (যেমন-কুরআন মজীদে সূরা তাওবায় বলা হয়েছে- সাদকা (যাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণ গ্রস্তদের, আল্লাহর পথে জিহাদকারী ও মুসাফিরদের জন্য। (আয়াত: ৬০)
পরিশেষে ওয়াকফ-এর মুতাওয়াল্লী ও এর ব্যবস্থাপকগণ সম্পর্কে বলেন, নিজের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য তা থেকে কিছু গ্রহণ করবে না। তবে খাওয়া-দাওয়া, পরিজন ও মেহমানবৃন্দের জন্য এ থেকে সঙ্গতভাবে নিতে পারে।
(শরী'আতের অন্যান্য অধ্যায়ের ন্যায় ওয়াকফ-এর মাসআলাও ফিকহর কিতাবসমূহে দেখা যেতে পারে)
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ .
(তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করবে না)।
এ ভিত্তিতে হযরত উমর (রা)-এর অন্তরে এ কথা উদয় হল যে, খায়বরে আমার অংশ থেকে মূল্যবান কোন জিনিস আমার নিকট নেই। আমি এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ও সৌভাগ্য লাভ করব। কিন্তু তিনি নিজে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি যে, এটা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার আমার নিকট উত্তম পন্থা কি? তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে নির্দেশ চাইলেন। তিনি তাঁকে ওয়াকফ করার পরামর্শ দিলেন, যা সাদকায়ে জারিয়া। সুতরাং হযরত উমর তা ওয়াকফ করে দিলেন। আর এর ব্যয়ের খাতও নির্দিষ্ট করে দিলেন। এ খাত প্রায় তাই যা যাকাতের বর্ণনায় কুরআন মজীদে বলা হয়েছে। (যেমন-কুরআন মজীদে সূরা তাওবায় বলা হয়েছে- সাদকা (যাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণ গ্রস্তদের, আল্লাহর পথে জিহাদকারী ও মুসাফিরদের জন্য। (আয়াত: ৬০)
পরিশেষে ওয়াকফ-এর মুতাওয়াল্লী ও এর ব্যবস্থাপকগণ সম্পর্কে বলেন, নিজের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য তা থেকে কিছু গ্রহণ করবে না। তবে খাওয়া-দাওয়া, পরিজন ও মেহমানবৃন্দের জন্য এ থেকে সঙ্গতভাবে নিতে পারে।
(শরী'আতের অন্যান্য অধ্যায়ের ন্যায় ওয়াকফ-এর মাসআলাও ফিকহর কিতাবসমূহে দেখা যেতে পারে)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)