মা'আরিফুল হাদীস
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হাদীস নং: ২২৫
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হযরত আয়েশা রাযি.-এর মর্যাদা ও পরাকাষ্ঠা গুণ
২২৫. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরাম তাঁদের হাদিয়া নিয়ে আমার পালার দিনটির অপেক্ষা করতেন, আর এর দ্বারা তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে খুশী করতে চাইতেন। এদিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রীদের মধ্যে দু'টি দল ছিল। একদলে আয়েশা, হাফসা, ছফিয়্যা ও সাওদা ছিলেন। অপর দলে উম্মে সালামা ও অবশিষ্ট স্ত্রীগণ। হযরত উম্মে সালামার দলের আযওয়াজে মুতাহহারাত উম্মে সালামাকে বললেন, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলুন যে, আপনার সাহাবীদেরকে বলে দিন যে, তাদের কেউ যদি কিছু হাদিয়া দিতে চায়, তাহলে আপনি পালাক্রমে যার ঘরেই থাকুন, সেখানেই যেন হাদিয়া দিয়ে যায়। উম্মে সালামা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে একথা বললেন। তিনি উত্তরে বললেন, তোমরা আমাকে আয়েশার ব্যাপারে কষ্ট দিয়ো না। এটা আয়েশারই বৈশিষ্ট্য যে, তাঁর সাথে অবস্থানকালেই তাঁর লেহাফের নীচে আমার উপর ওহী নাযিল হয়েছে। (অন্য কোন স্ত্রীর সাথে এভাবে অবস্থানকালে ওহী আসেনি।) উম্মে সালামা তখন বললেন, আমি আপনাকে কষ্ট দেওয়া থেকে মহান আল্লাহর দরবারে তওবা করছি। তারপর উম্মে সালামার দলের স্ত্রীগণ হযরত ফাতেমাকে এ উদ্দেশ্যে তাঁর নিকট পাঠালেন এবং তিনি ঐ কথাই নিবেদন করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন, হে আদরের কন্যা। তুমি কি তাকে ভালবাসবে না, যাঁকে আমি ভালবাসি। তিনি উত্তর দিলেন, অবশ্যই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন, তাহলে তুমি তাঁর (আয়েশার) প্রতি ভালবাসা প্রদর্শন কর। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّاسَ كَانُوا يَتَحَرَّوْنَ بِهَدَايَاهُمْ يَوْمَ عَائِشَةَ يَبْتَغُونَ بِذَلِكَ مَرْضَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَتْ إِنَّ نِسَاءَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُنَّ حِزْبَيْنِ فَحِزْبٌ فِيهِ عَائِشَةُ وَحَفْصَةُ وَصَفِيَّةُ وَسَوْدَةُ، وَالْحِزْبُ الآخَرُ أُمُّ سَلَمَةَ وَسَائِرُ نِسَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَلَّمَ حِزْبُ أُمِّ سَلَمَةَ، فَقُلْنَ لَهَا كَلِّمِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكَلِّمُ النَّاسَ، فَيَقُولُ مَنْ أَرَادَ أَنْ يُهْدِيَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَدِيَّةً فَلْيُهْدِهِ إِلَيْهِ حَيْثُ كَانَ، فَكَلَّمَتْهُ فَقَالَ لَهَا: لاَ تُؤْذِينِي فِي عَائِشَةَ، فَإِنَّ الْوَحْيَ لَمْ يَأْتِنِي، وَأَنَا فِي ثَوْبِ امْرَأَةٍ إِلاَّ عَائِشَةَ. قَالَتْ أَتُوبُ إِلَى اللَّهِ مِنْ أَذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ. ثُمَّ إِنَّهُنَّ دَعَوْنَ فَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَرْسَلْنَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَلَّمَتْهُ. فَقَالَ: يَا بُنَيَّةُ، أَلاَ تُحِبِّينَ مَا أُحِبُّ. قَالَتْ بَلَى قَالَ فَأَحُبِّيْ هَذِهِ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসের কয়েকটি বিষয় ব্যাখ্যার প্রয়োজন রাখে। প্রথম বিষয়টি এই যে, এ হাদীসে হুযুর (ﷺ)-এর স্ত্রীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তাঁরা দুই দলে বিভক্ত ছিলেন। এ বিভক্তি কোন মতবিরোধের কারণে ছিল না; বরং এই মনে করা চাই যে, কোন কোন স্ত্রীর মেযাজের মিল হযরত আয়েশার সাথে বেশী ছিল, আবার কারো কারো হযরত উম্মে সালামার সাথে। ঘটনাবলী দ্বারা জানা যায় যে, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দিক দিয়ে এ দু'জন সকল স্ত্রীদের মধ্যে অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারিণী ছিলেন এবং হুযুর (ﷺ)-এর আন্তরিক টানও অন্য স্ত্রীদের তুলনায় তাঁদের প্রতি বেশী ছিল। দ্বিতীয়টি এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খানাপিনা, লেবাস পোশাক ও রাত্রি যাপনের মত এখতেয়ারী ও ইচ্ছাধীন বিষয়সমূহে সকল স্ত্রীদের সাথে যতদূর সম্ভব সমান ব্যবহার করতেন। কিন্তু আন্তরিক ভালবাসার সম্পর্ক মানুষের ইচ্ছাধীন বিষয় নয়। এ কারণেই তিনি আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দু‘আ করতেন:
اللَّهُمَّ هَذَا قَسْمِي فِيمَا أَمْلِكُ، فَلَا تَلُمْنِي فِيمَا تَمْلِكُ وَلَا أَمْلِكُ
(অর্থাৎ, হে আল্লাহ্! আমি ঐসব বিষয়ে স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষা করার চেষ্টা করি, যেগুলো আমার এখতিয়ারে রয়েছে। অতএব, আমাকে তিরস্কার করো না ঐসব বিষয়ে, যেগুলো কেবল তোমারই এখতিয়ারে এবং আমার ইচ্ছাধীন নয়।)
যাহোক এটা বাস্তব কথা যে, হুযুর (ﷺ)-এর কোন কোন স্ত্রীর প্রতি অধিক মহব্বত ছিল, আর সবচেয়ে বেশী মহব্বত ছিল হযরত আয়েশার প্রতি। হুযূর (ﷺ) এর ঘনিষ্ঠ সাহাবীগণ এ সত্যটি ভালভাবেই অবগত ছিলেন।
এ জন্য তাঁরা যখন খানা ইত্যাদি কোন জিনিস হাদিয়া হিসাবে পাঠাতে চাইতেন, তখন তারা লক্ষ্য রাখতেন যে, এ দিনটা যেন হযরত আয়েশার ঘরে তাঁর অবস্থানের দিন হয়। এখানে এ কথাটিও বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, হুযুর (ﷺ) এ জন্য কখনো কাউকে ইশারাও করেন নাই। এতদসত্ত্বেও বিষয়টি ঐ স্ত্রীদের জন্য কিছুটা মনোকষ্টের কারণ হয়েছিল, যারা হযরত উম্মে সালামার সাথে বিশেষ সম্পর্ক রাখতেন। তাই তাঁরা হযরত উম্মে সালামাকে বললেন যে, আপনি হুযুর (ﷺ)-এর সাথে এ ব্যাপারে কথা বলুন এবং এ অনুরোধ করুন। তারপর হুযুর (ﷺ)-এর নিকট হযরত উম্মে সালামার অনুরোধ জ্ঞাপন ও হুযুর (ﷺ) এর উত্তর প্রদান এবং এর উপর হযরত উম্মে সালামার নিবেদন- এসব বিষয় আপনি হাদীসের তরজমার মধ্যেই পড়ে নিয়েছেন। সামনে হাদীসে রয়েছে যে, এরপর তাঁরা হুযুর (ﷺ)-এর আদরের কন্যা হযরত ফাতেমার সাথে কথা বললেন এবং তাঁকে এ উদ্দেশ্যেই হুযুর (ﷺ)-এর খেদমতে পাঠালেন। তিনি গিয়ে ঐসব স্ত্রীদের পক্ষ থেকে ঐ কথাই নিবেদন করলেন- যে নিবেদন উম্মে সালামা আগেও করেছিলেন। তারপর হুযুর (ﷺ) যা বললেন এবং ফাতেমা যা নিবেদন করলেন, সেটাও আপনারা তরজমার মধ্যেই পড়ে নিয়েছেন।
তবে একটি বিষয় এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, হাদীসে এ কথার কোন উল্লেখ নেই যে, ফাতেমা রাযি.-এর পূর্ব থেকেই জানা ছিল যে, এ ব্যাপারে উম্মে সালামা হুযূর (ﷺ)-এর সাথে কথা বলেছিলেন, যদি হযরত ফাতেমা জানতেন, তাহলে কখনো এর জন্য প্রস্তুত হতেন না।
اللَّهُمَّ هَذَا قَسْمِي فِيمَا أَمْلِكُ، فَلَا تَلُمْنِي فِيمَا تَمْلِكُ وَلَا أَمْلِكُ
(অর্থাৎ, হে আল্লাহ্! আমি ঐসব বিষয়ে স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষা করার চেষ্টা করি, যেগুলো আমার এখতিয়ারে রয়েছে। অতএব, আমাকে তিরস্কার করো না ঐসব বিষয়ে, যেগুলো কেবল তোমারই এখতিয়ারে এবং আমার ইচ্ছাধীন নয়।)
যাহোক এটা বাস্তব কথা যে, হুযুর (ﷺ)-এর কোন কোন স্ত্রীর প্রতি অধিক মহব্বত ছিল, আর সবচেয়ে বেশী মহব্বত ছিল হযরত আয়েশার প্রতি। হুযূর (ﷺ) এর ঘনিষ্ঠ সাহাবীগণ এ সত্যটি ভালভাবেই অবগত ছিলেন।
এ জন্য তাঁরা যখন খানা ইত্যাদি কোন জিনিস হাদিয়া হিসাবে পাঠাতে চাইতেন, তখন তারা লক্ষ্য রাখতেন যে, এ দিনটা যেন হযরত আয়েশার ঘরে তাঁর অবস্থানের দিন হয়। এখানে এ কথাটিও বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, হুযুর (ﷺ) এ জন্য কখনো কাউকে ইশারাও করেন নাই। এতদসত্ত্বেও বিষয়টি ঐ স্ত্রীদের জন্য কিছুটা মনোকষ্টের কারণ হয়েছিল, যারা হযরত উম্মে সালামার সাথে বিশেষ সম্পর্ক রাখতেন। তাই তাঁরা হযরত উম্মে সালামাকে বললেন যে, আপনি হুযুর (ﷺ)-এর সাথে এ ব্যাপারে কথা বলুন এবং এ অনুরোধ করুন। তারপর হুযুর (ﷺ)-এর নিকট হযরত উম্মে সালামার অনুরোধ জ্ঞাপন ও হুযুর (ﷺ) এর উত্তর প্রদান এবং এর উপর হযরত উম্মে সালামার নিবেদন- এসব বিষয় আপনি হাদীসের তরজমার মধ্যেই পড়ে নিয়েছেন। সামনে হাদীসে রয়েছে যে, এরপর তাঁরা হুযুর (ﷺ)-এর আদরের কন্যা হযরত ফাতেমার সাথে কথা বললেন এবং তাঁকে এ উদ্দেশ্যেই হুযুর (ﷺ)-এর খেদমতে পাঠালেন। তিনি গিয়ে ঐসব স্ত্রীদের পক্ষ থেকে ঐ কথাই নিবেদন করলেন- যে নিবেদন উম্মে সালামা আগেও করেছিলেন। তারপর হুযুর (ﷺ) যা বললেন এবং ফাতেমা যা নিবেদন করলেন, সেটাও আপনারা তরজমার মধ্যেই পড়ে নিয়েছেন।
তবে একটি বিষয় এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, হাদীসে এ কথার কোন উল্লেখ নেই যে, ফাতেমা রাযি.-এর পূর্ব থেকেই জানা ছিল যে, এ ব্যাপারে উম্মে সালামা হুযূর (ﷺ)-এর সাথে কথা বলেছিলেন, যদি হযরত ফাতেমা জানতেন, তাহলে কখনো এর জন্য প্রস্তুত হতেন না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)