মা'আরিফুল হাদীস
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হাদীস নং: ২২৩
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হযরত আয়েশা রাযি.-এর মর্যাদা ও পরাকাষ্ঠা গুণ
২২৩. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তোমাকে তিন রাত স্বপ্নে আমাকে দেখানো হয়েছে যে, একজন ফিরিশতা রেশমী কাপড়ে জড়িয়ে তোমাকে আমার সামনে নিয়ে আসছে এবং আমাকে বলছে যে, ইনি হচ্ছেন আপনার স্ত্রী। আমি তোমার মুখের কাপড় সরিয়ে দেখলাম যে, সে তুমিই। আমি তখন মনে মনে বললাম, এটা যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তাহলে তিনি এ স্বপ্ন বাস্তবায়িত করবেন। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ لِيْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أُرِيتُكِ فِي الْمَنَامِ ثَلاَثَ لَيَالٍ جَاءَنِي بِكِ الْمَلَكُ فِي سَرَقَةٍ مِنْ حَرِيرٍ فَيَقُولُ هَذِهِ امْرَأَتُكَ. فَأَكْشِفُ عَنْ وَجْهِكِ فَإِذَا أَنْتِ هِيَ فَقُلْتُ إِنْ يَكُنْ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ يُمْضِهِ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসে এর কোন উল্লেখ নেই যে, এ স্বপ্ন তিনি কখন ও কোন্ যুগে দেখেছিলেন। তবে হযরত খাদিজা রাযি.-এর ওফাতের পর যখন তাঁর মত জীবন সঙ্গিনীর বিচ্ছেদের কারণে স্বাভাবিকভাবেই অন্তর শোকাহত ছিল এবং ভবিষ্যতের ব্যাপারে চিন্তা ছিল, ঐ সময় তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে এটা দেখানো হয়। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. যদিও তখন ৬/৭ বছরের অল্পবয়স্কা শিশু ছিলেন, তথাপি এ বাল্যকালেই তাঁর যে অবস্থা ও চালচলন ছিল, এগুলোর দ্বারা হুযুর (ﷺ) তাঁর মেধা, বুদ্ধিমত্তা ও অসাধারণ যোগ্যতা আঁচ করে নিয়েছিলেন। এভাবে হুযুর (ﷺ)কে আল্লাহর পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হল যে, ইনিই ভবিষ্যতে আপনার জন্য হযরত খাদীজার বদল ও স্থলাভিষিক্ত হবেন।
এ কথাটি লক্ষণীয় যে, নবুওয়াতের প্রাথমিক যুগে হুযুর (ﷺ)-এর জীবন সঙ্গিনীর জন্য যেসব গুণাবলীর প্রয়োজন ছিল, এর সবগুলোই আল্লাহ্ তা'আলা হযরত খাদীজাকে দান করেছিলেন। অপরদিকে হিজরতের পর মদীনার জীবনে নিজের জীবন সঙ্গিনীর মধ্যে তাঁর যেসব বৈশিষ্ট্যের প্রয়োজন ছিল, এর সবকিছুই আল্লাহ্ তা'আলা হযরত আয়েশাকে পরিপূর্ণ দান করেছিলেন।
হাদীসটির শেষ দিকে একটি কথা রয়েছে যে, হুযুর (ﷺ) এ স্বপ্ন দেখার পর মনে মনে বলেছিলেন: إن يكن هذا من عند الله يمضه যার শাব্দিক অনুবাদ এই করা হয়েছে, যদি এ স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তাহলে তিনি তা পূর্ণ করবেন। (অর্থাৎ, বাস্তবে রূপ দান করবেন।) এখানে কারো আপত্তি হতে পারে যে, আম্বিয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালাম বিশেষ করে হুযুর (ﷺ)-এর স্বপ্ন তো ওহীর একটি প্রকার। তাই এ ব্যাপারে সন্দেহ শোবার কি অবকাশ ছিল? বাস্তব কথা এই যে, 'যদিও শব্দটি সন্দেহ প্রকাশের জন্য নয়; বরং এটা ঠিক তেমন, যেমন কোন দেশের বাদশাহ কারো প্রতি খুশী হয়ে বলে, 'আমি যদি বাদশাহ হয়ে থাকি, তাহলে তোমার এ কাজ অবশ্যই করে দেওয়া হবে।' সারকথা, এ বাক্যের মর্ম এই যে, হুযুর (ﷺ) নিজের অন্তরে প্রসন্নতা অনুভব করেছিলেন যে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং অবশ্যই তেমনটিই হবে। আর বাস্তবে তাই হয়েছিল।
পরিশেষে এ কথাটিও উল্লেখ করার মত যে, তিরমিযী শরীফের বর্ণনায় স্পষ্ট রয়েছে যে, স্বপ্নে হযরত আয়েশার আকৃতি নিয়ে আগমনকারী ফিরিশতা ছিলেন হযরত জিবরাঈল (আ.) এবং তিনি হুযুর (ﷺ)কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: هَذِهِ زَوْجَتُكَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة অর্থাৎ, ইনি আপনার স্ত্রী হবেন দুনিয়া ও আখেরাতে।
এ কথাটি লক্ষণীয় যে, নবুওয়াতের প্রাথমিক যুগে হুযুর (ﷺ)-এর জীবন সঙ্গিনীর জন্য যেসব গুণাবলীর প্রয়োজন ছিল, এর সবগুলোই আল্লাহ্ তা'আলা হযরত খাদীজাকে দান করেছিলেন। অপরদিকে হিজরতের পর মদীনার জীবনে নিজের জীবন সঙ্গিনীর মধ্যে তাঁর যেসব বৈশিষ্ট্যের প্রয়োজন ছিল, এর সবকিছুই আল্লাহ্ তা'আলা হযরত আয়েশাকে পরিপূর্ণ দান করেছিলেন।
হাদীসটির শেষ দিকে একটি কথা রয়েছে যে, হুযুর (ﷺ) এ স্বপ্ন দেখার পর মনে মনে বলেছিলেন: إن يكن هذا من عند الله يمضه যার শাব্দিক অনুবাদ এই করা হয়েছে, যদি এ স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তাহলে তিনি তা পূর্ণ করবেন। (অর্থাৎ, বাস্তবে রূপ দান করবেন।) এখানে কারো আপত্তি হতে পারে যে, আম্বিয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালাম বিশেষ করে হুযুর (ﷺ)-এর স্বপ্ন তো ওহীর একটি প্রকার। তাই এ ব্যাপারে সন্দেহ শোবার কি অবকাশ ছিল? বাস্তব কথা এই যে, 'যদিও শব্দটি সন্দেহ প্রকাশের জন্য নয়; বরং এটা ঠিক তেমন, যেমন কোন দেশের বাদশাহ কারো প্রতি খুশী হয়ে বলে, 'আমি যদি বাদশাহ হয়ে থাকি, তাহলে তোমার এ কাজ অবশ্যই করে দেওয়া হবে।' সারকথা, এ বাক্যের মর্ম এই যে, হুযুর (ﷺ) নিজের অন্তরে প্রসন্নতা অনুভব করেছিলেন যে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং অবশ্যই তেমনটিই হবে। আর বাস্তবে তাই হয়েছিল।
পরিশেষে এ কথাটিও উল্লেখ করার মত যে, তিরমিযী শরীফের বর্ণনায় স্পষ্ট রয়েছে যে, স্বপ্নে হযরত আয়েশার আকৃতি নিয়ে আগমনকারী ফিরিশতা ছিলেন হযরত জিবরাঈল (আ.) এবং তিনি হুযুর (ﷺ)কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: هَذِهِ زَوْجَتُكَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة অর্থাৎ, ইনি আপনার স্ত্রী হবেন দুনিয়া ও আখেরাতে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)