মা'আরিফুল হাদীস
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হাদীস নং: ২১৫
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ রাযি.
২১৫. হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নয় ব্যক্তি সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তারা জান্নাতী। আর যদি দশম ব্যক্তি সম্পর্কেও এ সাক্ষ্য দেই, তাহলে গুনাহগার হব না। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, এটা কিভাবে? (অর্থাৎ, কিসের ভিত্তিতে আপনি এ কথা বলেছেন?) সাইদ ইবনে যায়েদ উত্তরে বললেন, আমরা একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে হেরা পর্বতে ছিলাম। (হঠাৎ পাহাড়ে কম্পন সৃষ্টি হল এবং এটা দুলতে লাগল।) রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এ সময় বললেন, হে হেরা! তুমি স্থির হয়ে যাও। এ মুহূর্তে তোমার উপর রয়েছেন আল্লাহর নবী অথবা সিদ্দীক অথবা শহীদ। পরে সাঈদকে জিজ্ঞাসা করা হল, তাঁরা কারা ছিলেন? তিনি উত্তর দিলেন, (১) রাসুলুল্লাহ (ﷺ), (২) আবু বকর, (৩) উমর, (৪) উসমান, (৫) আলী, (৬) তালহা, (৭) যুবায়ের, (৮) সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস, (৯) আব্দুর রহমান ইবনে আউফ। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, দশম ব্যক্তিটি কে? তিনি উত্তর দিলেন, স্বয়ং এ বান্দা। (তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ، أَنَّهُ قَالَ: أَشْهَدُ عَلَى التِّسْعَةِ أَنَّهُمْ فِي الجَنَّةِ، وَلَوْ شَهِدْتُ عَلَى العَاشِرِ لَمْ آثَمْ. قِيلَ: وَكَيْفَ ذَاكَ؟ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحِرَاءَ، فَقَالَ: اثْبُتْ حِرَاءُ، فَإِنَّهُ لَيْسَ عَلَيْكَ إِلاَّ نَبِيٌّ أَوْ صِدِّيقٌ أَوْ شَهِيدٌ. قِيلَ: وَمَنْ هُمْ؟ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، وَعُثْمَانُ، وَعَلِيٌّ، وَطَلْحَةُ، وَالزُّبَيْرُ، وَسَعْدٌ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ. قِيلَ فَمَنِ العَاشِرُ؟ قَالَ: أَنَا. (رواه الترمذى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আশারা মুবাশশারার সাথে সংশ্লিষ্ট হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযি.-এর ঐ রেওয়ায়াতটি তিরমিযী শরীফের বরাতে আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে, যেখানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের দশজন সাহাবীর নাম নিয়ে তাদের ব্যাপারে জান্নাতী হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন। এদের মধ্যে নয়জন তো তাঁরাই, যাঁদের নাম হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদের ব্যাখ্যাধীন হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, আর দশম নামটি হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রাযি.-এর। এ অধম সংকলকের ধারণা যে, হেরা পাহাড়ের যে ঘটনা হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ বর্ণনা করেছেন, সেখানে আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ হুযুর (ﷺ)-এর সাথে ছিলেন না।
আরেকটি পার্থক্য এ দু রেওয়ায়াতের মধ্যে এই যে, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফের বর্ণিত রেওয়ায়াতে হুযুর (ﷺ) দশজন সাহাবীর নাম নিয়ে তাঁদের জান্নাতী হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন, আর হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদের এ রেওয়ায়াতে হুযুর (ﷺ) কারো নাম উল্লেখ করে কিছু বলেননি; বরং শুধু এতটুকু বলেছেন: হে হেরা। স্থির হয়ে যাও। এ মুহূর্তে তোমার উপর আল্লাহর এক নবী রয়েছেন, অথবা সিদ্দীক, কিংবা শহীদ। সামনে হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদের বর্ণনায় রয়েছে যে, এ সময় হুযুর (ﷺ)-এর সাথে তাঁর আরো নয়জন সাহাবী ছিলেন- যাদের নাম হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ হুযুর (ﷺ)-এর বাণীর ভিত্তিতে বিশ্বাস করে নিলেন যে, তাঁরা সবাই জান্নাতী এবং এরই ভিত্তিতে তাঁদের জান্নাতী হওয়ার সাক্ষ্য দিলেন। কেননা, আল্লাহর নবী, সিদ্দীক ও শহীদের জান্নাতী হওয়ার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ যাদের নাম উল্লেখ করেছেন, তাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর নবী, আর আবু বকর রাযি. হলেন সিদ্দীক- বরং সিদ্দীকে আকবার। এ দিকে হযরত উমর, হযরত উসমান, হযরত আলী, হযরত তালহা, হযরত যুবায়ের এ পাঁচজনই শহীদ হয়েছেন। অবশিষ্ট হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ, হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস ও হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ এ তিনজনও নিঃসন্দেহে সিদ্দীকদের অন্তর্ভুক্ত।
হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদের আল্লাহর নিকট কি মর্যাদা ও মর্তবা ছিল, সেটা ঐ হাদীস থেকেও জানা যায়- যা মা'আরিফুল হাদীস সিরিজের কিতাবুল মুআমালাত অধ্যায়ের 'গাছব' নামক অনুচ্ছেদটি উল্লেখ করে আসা হয়েছে- যার একজন বর্ণনাকারী স্বয়ং সাঈদ ইবনে যায়েদও। আমরা এখানে এ হাদীসটি উদ্ধৃত করা উপযোগী মনে করছি। হাদীসের ঘটনা এই:
এক মহিলা (যার নাম ছিল আরওয়া।) হযরত মু'আবিয়া রাযি.-এর খেলাফতকালে এই সাঈদ ইবনে যায়েদের বিরুদ্ধে মদীনার তৎকালীন শাসক মারওয়ানের আদালতে দাবী করল যে, 'সাঈদ ইবনে যায়েদ আমার অমুক ভূমি খণ্ডটি গ্রাস করে নিয়েছে।' হযরত সাঈদ রাযি. এ মিথ্যা অপবাদের কারণে খুবই দুঃখ পেলেন। তিনি মারওয়ানকে বললেন:
قال: أنا أَنْتَقِصُ مِنْ حَقِّهَا شَيْئًا؟ أَشْهَدُ لَسَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ أَخَذَ شِبْرًا مِنَ الأَرْضِ ظُلْمًا، فَإِنَّهُ يطوقه يَوْم الْقِيَامَة مِنْ سَبْعِ أَرَضِينَ.
আমি এ মহিলার ভূমি গ্রাস করব? অথচ আমি নিজে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো এক বিঘত পরিমাণ ভূমি জবর দখল করবে, কিয়ামতের দিন এর সাত তবক ভূমি তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।
একথাটি হযরত সাঈদ অন্তরের এমন বেদনা ও আবেগের সাথে বললেন যে, স্বয়ং মারওয়ান খুবই প্রভাবান্বিত হয়ে গেল এবং বলল, আমি আপনার নিকট কোন দলীল-প্রমাণ চাই না। তারপর হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ ব্যথিত হৃদয়ে বদ দু‘আ করলেন যে, 'হে আল্লাহ। তুমি যদি জান যে, এ মহিলা আমার উপর মিথ্যা দোষ চাপিয়েছে, তাহলে তাকে চোখের আলো থেকে বঞ্চিত করে দাও এবং তার ভূমিকেও তার কবর বানিয়ে দাও।' (ঘটনার বর্ণনাকারী হযরত উরওয়া বলেন,) তারপর তেমনটিই হল। আমি স্বয়ং এ মহিলাকে দেখেছি যে, শেষ বয়সে সে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল- এবং নিজেই বলত যে, সাঈদ ইবনে যায়েদের বদ দু‘আর ফলে আমার এ অবস্থা হয়েছে। তারপর একদিন এ ঘটনা ঘটল যে, এ মহিলা নিজের ভূমিতে হেটে যাচ্ছিল, এ সময় এক গর্তে পড়ে গেল এবং গর্তেই তার কবর হয়ে গেল। (বুখারী, মুসলিম)
আল্লাহ তা'আলা এ ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার তাওফীক দান করুন।
আরেকটি পার্থক্য এ দু রেওয়ায়াতের মধ্যে এই যে, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফের বর্ণিত রেওয়ায়াতে হুযুর (ﷺ) দশজন সাহাবীর নাম নিয়ে তাঁদের জান্নাতী হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন, আর হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদের এ রেওয়ায়াতে হুযুর (ﷺ) কারো নাম উল্লেখ করে কিছু বলেননি; বরং শুধু এতটুকু বলেছেন: হে হেরা। স্থির হয়ে যাও। এ মুহূর্তে তোমার উপর আল্লাহর এক নবী রয়েছেন, অথবা সিদ্দীক, কিংবা শহীদ। সামনে হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদের বর্ণনায় রয়েছে যে, এ সময় হুযুর (ﷺ)-এর সাথে তাঁর আরো নয়জন সাহাবী ছিলেন- যাদের নাম হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ হুযুর (ﷺ)-এর বাণীর ভিত্তিতে বিশ্বাস করে নিলেন যে, তাঁরা সবাই জান্নাতী এবং এরই ভিত্তিতে তাঁদের জান্নাতী হওয়ার সাক্ষ্য দিলেন। কেননা, আল্লাহর নবী, সিদ্দীক ও শহীদের জান্নাতী হওয়ার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ যাদের নাম উল্লেখ করেছেন, তাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর নবী, আর আবু বকর রাযি. হলেন সিদ্দীক- বরং সিদ্দীকে আকবার। এ দিকে হযরত উমর, হযরত উসমান, হযরত আলী, হযরত তালহা, হযরত যুবায়ের এ পাঁচজনই শহীদ হয়েছেন। অবশিষ্ট হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ, হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস ও হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ এ তিনজনও নিঃসন্দেহে সিদ্দীকদের অন্তর্ভুক্ত।
হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদের আল্লাহর নিকট কি মর্যাদা ও মর্তবা ছিল, সেটা ঐ হাদীস থেকেও জানা যায়- যা মা'আরিফুল হাদীস সিরিজের কিতাবুল মুআমালাত অধ্যায়ের 'গাছব' নামক অনুচ্ছেদটি উল্লেখ করে আসা হয়েছে- যার একজন বর্ণনাকারী স্বয়ং সাঈদ ইবনে যায়েদও। আমরা এখানে এ হাদীসটি উদ্ধৃত করা উপযোগী মনে করছি। হাদীসের ঘটনা এই:
এক মহিলা (যার নাম ছিল আরওয়া।) হযরত মু'আবিয়া রাযি.-এর খেলাফতকালে এই সাঈদ ইবনে যায়েদের বিরুদ্ধে মদীনার তৎকালীন শাসক মারওয়ানের আদালতে দাবী করল যে, 'সাঈদ ইবনে যায়েদ আমার অমুক ভূমি খণ্ডটি গ্রাস করে নিয়েছে।' হযরত সাঈদ রাযি. এ মিথ্যা অপবাদের কারণে খুবই দুঃখ পেলেন। তিনি মারওয়ানকে বললেন:
قال: أنا أَنْتَقِصُ مِنْ حَقِّهَا شَيْئًا؟ أَشْهَدُ لَسَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ أَخَذَ شِبْرًا مِنَ الأَرْضِ ظُلْمًا، فَإِنَّهُ يطوقه يَوْم الْقِيَامَة مِنْ سَبْعِ أَرَضِينَ.
আমি এ মহিলার ভূমি গ্রাস করব? অথচ আমি নিজে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো এক বিঘত পরিমাণ ভূমি জবর দখল করবে, কিয়ামতের দিন এর সাত তবক ভূমি তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।
একথাটি হযরত সাঈদ অন্তরের এমন বেদনা ও আবেগের সাথে বললেন যে, স্বয়ং মারওয়ান খুবই প্রভাবান্বিত হয়ে গেল এবং বলল, আমি আপনার নিকট কোন দলীল-প্রমাণ চাই না। তারপর হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ ব্যথিত হৃদয়ে বদ দু‘আ করলেন যে, 'হে আল্লাহ। তুমি যদি জান যে, এ মহিলা আমার উপর মিথ্যা দোষ চাপিয়েছে, তাহলে তাকে চোখের আলো থেকে বঞ্চিত করে দাও এবং তার ভূমিকেও তার কবর বানিয়ে দাও।' (ঘটনার বর্ণনাকারী হযরত উরওয়া বলেন,) তারপর তেমনটিই হল। আমি স্বয়ং এ মহিলাকে দেখেছি যে, শেষ বয়সে সে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল- এবং নিজেই বলত যে, সাঈদ ইবনে যায়েদের বদ দু‘আর ফলে আমার এ অবস্থা হয়েছে। তারপর একদিন এ ঘটনা ঘটল যে, এ মহিলা নিজের ভূমিতে হেটে যাচ্ছিল, এ সময় এক গর্তে পড়ে গেল এবং গর্তেই তার কবর হয়ে গেল। (বুখারী, মুসলিম)
আল্লাহ তা'আলা এ ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার তাওফীক দান করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)