মা'আরিফুল হাদীস
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হাদীস নং: ১৭২
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হযরত উসমান যিন্নুরাইন রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৭২. হযরত উসমান রাযি.-এর আযাদকৃত গোলাম মুসলিম ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণিত, (যেদিন হযরত উসমানকে শহীদ করা হয়, সেদিন) তিনি বিশটি গোলাম আযাদ করলেন এবং পায়জামা আনতে বললেন (এবং এটা পরিধান করলেন।) এটাকে শক্ত করে বাধলেন। অথচ তিনি ইসলামপূর্ব জাহিলিয়্যাত যুগে এবং ইসলাম গ্রহণের পরও কখনো এটা পরিধান করেননি। তিনি বললেন, আমি গত রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ), হযরত আবূ বকর রাযি. ও উমরকে রাযি. স্বপ্নে দেখেছি। তাঁরা আমাকে বলছেন, তুমি ধৈর্যধারণ কর, আগামীকাল তুমি আমাদের সাথে ইফতার করবে। তারপর তিনি কুরআন শরীফ আনতে বললেন এবং সামনে নিয়ে খুলে পড়তে শুরু করলেন। পরে এ অবস্থায়ই তাকে হত্যা করা হল যে, কুরআন শরীফ তাঁর সামনেই ছিল।-মুসনাদে আহমদ, মুসনাদে আবূ ই'য়ালা
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ مُسْلِمٍ بْنِ سَعِيدٍ، مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، إِنَّ عُثْمَانَ أَعْتَقَ عِشْرِينَ عَبْدًا وَدَعَا بِسَرَاوِيلَ فَشَدَّهَا عَلَيْهِ، وَلَمْ يَلْبَسْهَا فِي جَاهِلِيَّةٍ، وَلا إِسْلامٍ وَقَالَ: إِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، الْبَارِحَةَ فِي الْمَنَامِ، وَرَأَيْتُ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ، وَإِنَّهُمْ قَالُوا لِي: «اصْبِرْ فَإِنَّكَ تُفْطِرُ عِنْدَنَا الْقَابِلَةَ، فَدَعَا بِمُصْحَفٍ فَنَشَرَهُ بَيْنَ يَدَيْهِ فَقُتِلَ، وَهُوَ بَيْنَ يَدَيْهِ» (رواه ابن احمد والموصلى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আগেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, হযরত উসমান রাযি. অন্তরের নূর অর্থাৎ, ঈমানী দূরদৃষ্টি দ্বারা এবং কিছু গায়েবী ইশারার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন যে, বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসীদের এ ফেতনা আমার শাহাদতের কুদরতী ব্যবস্থা- যার ভবিষ্যদ্বাণী হুযুর (ﷺ) বিভিন্ন ক্ষেত্রে করেছিলেন। আর এ হাদীসে গত রাতের যে স্বপ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর দু'সাথী হযরত আবু বকর রাযি. ও উমরকে রাযি. স্বপ্নে দেখলেন যে, তাঁরা বলছেন, উসমান। তুমি সবর কর, আগামীকাল তুমি আমাদের কাছে এসে ইফতার করবে, এটা শেষ গায়েবী ইশারা। এরপরই হযরত উসমান রাযি. শাহাদতের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে শুরু করলেন। যে রাতে তিনি এ স্বপ্ন দেখেছিলেন, এটা ছিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত। পরের দিন শুক্রবারে তিনি রোযা রাখলেন, বিভিন্ন ধরনের নেক আমল অতি যত্নসহকারে আঞ্জাম দিলেন, বিশজন গোলাম আযাদ করলেন এবং তিনি পায়জামা আনতে বললেন, যা তিনি কখনো পরিধান করেননি। আরবদের মধ্যে সাধারণত লুঙ্গি পরার প্রচলন ছিল, তিনিও সবসময় লুঙ্গিই পরতেন। কিন্তু যেহেতু তাঁর মধ্যে লজ্জা প্রবল ছিল, এ জন্য এ দিন তিনি লুঙ্গির বদলে পায়জামা আনিয়ে পরিধান করলেন এবং এটা খুব শক্ত করে বেঁধে নিলেন। এমনটি তিনি এজন্য করেছিলেন, যেন মৃত্যু ও শাহাদতের পরও তাঁর দেহের কোন অংশ উন্মুক্ত হয়ে না যায়, তারপর তিনি কুরআন শরীফ আনতে বললেন এবং এর তিলাওয়াত শুরু করে দিলেন। এ অবস্থায়ই হতভাগা জালেমরা তাঁকে শহীদ করে দিল। কোন কোন রিওয়ায়াত দ্বারা জানা যায় যে, শাহাদতের মুহূর্তে তিনি সূরা বাকারার এ আয়াতটি তিলাওয়াত করছিলেন, فَسَیَکۡفِیۡکَہُمُ اللّٰہُ ۚ وَہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ এটা যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে এর ঘোষণা যে, এসব হতভাগা জালেমদের থেকে আল্লাহ তা'আলা পূর্ণ প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন। [এখানে হযরত উসমান রাযি.-এর মর্যাদা ও ফযীলত সংক্রান্ত কয়েকটি হাদীসের তরজমা ও কেবল প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা পেশ করা হয়েছে। ঘটনাসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ (রহঃ)-এর 'ইযালাতুল খাফা' এবং সীরাত ও ইতিহাসের কিতাবসমূহে দেখে নেওয়া যেতে পারে।
হযরত উসমান রাযি.-এর মর্যাদা সম্পর্কে যেসব হাদীস এখানে আনা হয়েছে, এগুলোর মধ্যে তাঁর দু'টি গুরুত্বপূর্ণ ফযীলত ও মর্যাদার আলোচনা আসে নাই, যেগুলোর মধ্যে তিনি সকল সাহাবায়ে কেরাম ও খুলাফায়ে রাশেদীনের মধ্যেও একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। একটি এই যে. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাথে নিজের দু'কন্যাকে একের পর এক বিয়ে দিয়েছিলেন। এ কারণেই তাঁকে যিন্নুরাইন বলা হয় (যিন্নুরাইন অর্থ দু'টি জ্যোতির অধিকারী)। দ্বিতীয়টি এই যে, তিনি হুযুর (ﷺ)-এর কন্যা এবং নিজের স্ত্রী হযরত রুকাইয়ার সাথে দু'বার হিজরত করেন। প্রথম মক্কা থেকে আবিসিনিয়ার দিকে এবং দ্বিতীয় হিজরত মদীনা মুনাওয়ারায়। এজন্য তাঁকে 'যুল হিজরাতাইন' বলা হয়। এখন এমন কয়েকটি হাদীস পাঠকদের সামনে পেশ করা হচ্ছে, যেগুলোর মধ্যে এ দু'টি ফযীলতের উল্লেখ রয়েছে।
হযরত উসমান রাযি.-এর মর্যাদা সম্পর্কে যেসব হাদীস এখানে আনা হয়েছে, এগুলোর মধ্যে তাঁর দু'টি গুরুত্বপূর্ণ ফযীলত ও মর্যাদার আলোচনা আসে নাই, যেগুলোর মধ্যে তিনি সকল সাহাবায়ে কেরাম ও খুলাফায়ে রাশেদীনের মধ্যেও একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। একটি এই যে. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাথে নিজের দু'কন্যাকে একের পর এক বিয়ে দিয়েছিলেন। এ কারণেই তাঁকে যিন্নুরাইন বলা হয় (যিন্নুরাইন অর্থ দু'টি জ্যোতির অধিকারী)। দ্বিতীয়টি এই যে, তিনি হুযুর (ﷺ)-এর কন্যা এবং নিজের স্ত্রী হযরত রুকাইয়ার সাথে দু'বার হিজরত করেন। প্রথম মক্কা থেকে আবিসিনিয়ার দিকে এবং দ্বিতীয় হিজরত মদীনা মুনাওয়ারায়। এজন্য তাঁকে 'যুল হিজরাতাইন' বলা হয়। এখন এমন কয়েকটি হাদীস পাঠকদের সামনে পেশ করা হচ্ছে, যেগুলোর মধ্যে এ দু'টি ফযীলতের উল্লেখ রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)