মা'আরিফুল হাদীস

গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৬১
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হযরত উসমান যিন্নুরাইন রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৬১. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (আমার পিতা) হযরত আবূ বকর রাযি. কোন প্রয়োজনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসার অনুমতি চাইলেন। এ সময় তিনি আমার বিছানায় আমার একটি চাদর গায়ে দিয়ে শোয়া ছিলেন। তিনি তাঁকে ভিতরে আসার অনুমতি দিলেন এবং তিনি যেভাবে শোয়া ছিলেন সেভাবেই শুয়ে থাকলেন, আবূ বকর রাযি. ভিতরে আসলেন এবং প্রয়োজনীয় কথা বলে চলে গেলেন। তারপর হযরত উমর রাযি. (কোন প্রয়োজনে) ভিতরে আসার অনুমতি প্রার্থনা করলেন এবং তিনি তাঁকেও অনুমতি দিলেন। হযরত উমর রাযি. ভিতরে আসলেন এবং তিনি যে অবস্থায় ছিলেন, সে অবস্থায়ই থাকলেন। তারপর তিনিও নিজের প্রয়োজনীয় কথা বলে ফিরে গেলেন। তারপর হযরত উসমান রাযি. ভিতরে আসার অনুমতি চাইলেন। এবার তিনি গোছালো অবস্থায় বসে গেলেন এবং নিজের কাপড়গুলো ঠিক করে নিলেন, আর আমাকে বললেন, তুমিও নিজের কাপড় (চাদর ইত্যাদি) ভালভাবে গায়ে দিয়ে নাও। তারপর তিনি তাঁকে ভিতরে আসার অনুমতি দিলেন। তিনিও তাঁর নিকট আসলেন এবং যেসব প্রয়োজনীয় কথা বলার ছিল সেগুলো বলে চলে গেলেন। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, (হযরত উসমান রাযি. চলে যাওয়ার পর) আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। উসমান রাযি.-এর জন্য আপনি যেরূপ ব্যবস্থা অবলম্বন করেছেন, আবূ বকর রাযি. ও উমর রাযি.-এর জন্য তো এরূপ করতে দেখলাম না। তিনি উত্তর দিলেন, উসমান খুবই লাজুক মানুষ। তাই আমি আশংকা করেছিলাম যে, তাঁকে যদি এ অবস্থায় অনুমতি দিয়ে দেই, তাহলে সে (চরম লাজুকতার কারণে দ্রুত চলে যাবে) এবং সেই প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলতে পারবে না, যার জন্য সে এসেছিল। (এজন্যই আমি তাঁর সাথে একটু ভিন্ন আচরণ করেছি।) মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ اسْتَأْذَنَ أَبُوْ بَكْرٍ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُضْطَجِعٌ عَلَى فِرَاشِىْ، عَلَيْهِ مِرْطٌ لِىْ، فَأَذِنَ لَهُ وَهُوَ عَلَى حَالِهِ، فَقَضَى إِلَيْهِ حَاجَتَهُ، ثُمَّ انْصَرَفَ، ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ، فَأَذِنَ لَهُ وَهُوَ عَلَى تِلْكَ الْحَالَةِ فَقَضَى إِلَيْهِ حَاجَتَهُ، ثُمَّ انْصَرَفَ،: ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُثْمَانُ فَجَلَسَ وَاَصْلَحَ عَلَيْهِ ثِيَابَهُ، وَقَالَ: «اجْمَعِي عَلَيْكِ ثِيَابَكِ» فَقَضَى إِلَيْهِ حَاجَتَهُ، ثُمَّ انْصَرَفَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ لَمْ أَرَكَ فَزِعْتَ لِأَبِي بَكْرٍ، وَعُمَرَ، كَمَا فَزِعْتَ لِعُثْمَانَ؟ فَقَالَ يَا عَائِشَةُ «إِنَّ عُثْمَانَ رَجُلٌ حَيِيٌّ، وَإِنِّي خَشِيتُ، إِنْ أَذِنْتُ لَهُ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ، أَنْ لَا يَبْلُغَ إِلَيَّ فِي حَاجَتِهِ» وَفِىْ رِوَايَةٍ قَالَ لَهَا اَلَا اَسْتَحْىِ مِنْ رَجُلٍ تَسْتَحْىِ مِنْهُ الْمَلَائِكَةُ. (رواه مسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীসটির প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা অনুবাদের ভিতরে করে দেওয়া হয়েছে। এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, হযরত উসমান রাযি.-এর মধ্যে লাজুকতার কি পরিমাণ প্রাবল্য ছিল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি কি পরিমাণ খেয়াল রাখতেন।

মুসলিম শরীফের এ হাদীসেরই অপর এক বর্ণনায় রয়েছে যে, হযরত আয়েশা রাযি.-এর প্রশ্নের উত্তরে হুযুর (ﷺ) বলেছিলেন: "ألا أستحي من رجل تستحي منه الملائكة" (আমি কি এমন ব্যক্তির লেহায করব না, ফিরিশতারাও যার লেহায করে।)

এখানে এ কথাটিও উল্লেখ করার মত যে, বাহ্যত এ ঘটনাটি ঐ যুগের, যখন হিজাব তথা পর্দার বিধান নাযিল হয়নি। কেননা, হযরত উমর রাযি. ও হযরত আয়েশা রাযি.-এর জন্য গায়ের মাহরাম ছিলেন। তাঁর আগমনে হুযুর (ﷺ) হযরত আয়েশাকে আলাদাভাবে কাপড় গায়ে দেওয়ার হুকুম করেননি, হযরত উসমানের আগমনে যার হুকুম দিয়েছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান