মা'আরিফুল হাদীস

গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৫৬
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
ফাযায়েলে শায়খাইন
১৫৬. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, (একদিন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এক মজলিসে) বললেন যে, এক ব্যক্তি একটি বলদ হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। চলতে চলতে সে যখন ক্লান্ত হয়ে গেল, তখন এর পিঠে সওয়ার হয়ে গেল। বলদটি বলল, আমাদেরকে তো এ জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে হাল চালানোর জন্য। তখন উপস্থিত লোকেরা আশ্চর্য হয়ে বলল, সুবহানাল্লাহ! বলদও কথা বলে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি বিশ্বাস রাখি যে, এমনই হয়েছে এবং আবু বকর রাযি. ও উমর রাযি.ও বিশ্বাস রাখে। রাবী বলেন, অথচ এ দু'জন তখন ঐ মজলিসে ছিলেনই না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ঘটনাও বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি তার ছাগলের পাল নিয়ে মাঠে ছিল। হঠাৎ একটি বাঘ এসে আক্রমণ করে এখান থেকে একটি ছাগল ছিনিয়ে নিয়ে গেল। ছাগলের মালিক তাকে ধরে ফেলল এবং মুক্ত করে আনল। বাঘ তখন তাকে বলল, হিংস্র প্রাণীর রাজত্বের দিন এগুলোর রাখাল কে থাকবে? সেদিন তো আমি ছাড়া তাদের কোন রাখাল থাকবে না। লোকেরা বলল, সুবহানাল্লাহ! বাঘও কথা বলে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার ঈমান রয়েছে যে, এ ঘটনা সত্য। আর আবু বকর রাযি. ও উমরের রাযি.ও বিশ্বাস রয়েছে। অথচ এ দু'জন (সে সময়) সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " بَيْنَمَا رَجُلٌ يَسُوقُ بَقَرَةً إِذْ أَعْيَى فَرَكِبَهَا، فَقَالَتْ: إِنَّا لَمْ نُخْلَقْ لِهَذَا، إِنَّمَا خُلِقْنَا لِحَرَاثَةِ الْاَرْضِ" فَقَالَ النَّاسُ: سُبْحَانَ اللَّهِ بَقَرَةٌ تَتَكَلَّمُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " فَإِنِّي أُومِنُ بِهِ، أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، - وَمَا هُمَا ثَمَّ – وَقَالَ بَيْنَمَا رَجُلٌ فِي غَنَمِهِ إِذْ عَدَا الذِّئْبُ، عَلَى شَاةٍ مِنْهَا فَاَخَذَهَا، فَاَدْرَكَهَا صَاحِبُهَا فَاسْتَنْقَذَهَا، فَقَالَ لَهُ الذِّئْبُ فَمَنْ لَهَا يَوْمَ السَّبُعِ، يَوْمَ لاَ رَاعِيَ لَهَا غَيْرِي " فَقَالَ النَّاسُ: سُبْحَانَ اللَّهِ ذِئْبٌ يَتَكَلَّمُ، فَقَالَ: «أُومِنُ بِهِ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ، وَمَا هُمَا ثَمَّ» (رواه البخارى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ঈমানের হাকীকত এই যে, আল্লাহর পয়গাম্বর ওহীর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সংবাদ পেয়ে যা কিছু বলবেন, এর উপর ঈমান আনতে হবে এবং এটাকে কোন সংশয়-সন্দেহ ছাড়া হক ও সত্য বলে মেনে নিতে হবে-যদিও দুনিয়ার সাধারণ অবস্থার দৃষ্টিতে ঐ বিষয়টি বোধগম্য না হয়। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলদ ও বাঘের কথা বলার যে বিষয়টি বর্ণনা করেছেন, এটা এ ধরনের বিষয়ই ছিল। এ কারণেই উপস্থিত লোকদের কেউ কেউ এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তখন হুযুর (ﷺ) বললেন যে, আমার ঈমান এই যে, এটা সত্য ও বাস্তব। তিনি নিজের সাথে আবু বকর রাযি. ও উমরের রাযি. নাম নিয়েও বললেন যে, তাঁদের দু'জনেরও ঈমান রয়েছে যে, এটা সত্য ও বাস্তব। বর্ণনাকারী বলেন যে, একথা তিনি এমন সময় বললেন, যখন তাঁদের দু'জনের একজনও সেখানে বর্তমান ছিলেন না। এ জন্য এ সন্দেহও করা যায় না যে, তাঁদের প্রতি সম্মান দেখাতে গিয়ে কিংবা তাঁদেরকে খুশী করার জন্য তিনি এ কথা বলেছেন। এটা হচ্ছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পবিত্র যবানে হযরত আবু বকর রাযি. ও উমরের রাযি. পরিপূর্ণ ঈমান, ঈমানী অবস্থায় হুযুর (ﷺ)-এর অতি নিকটবর্তী হওয়া এবং এক্ষেত্রে তাঁদের বৈশিষ্ট্যের প্রকৃষ্ট প্রমাণ। এ দু'জনের সাথে হুযুর (ﷺ)-এর ঐ আচরণেরও এটা একটি উদাহরণ, যার উল্লেখ হযরত আলী রাযি.-এর উপরের উক্তিতে পাওয়া যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অনেক ক্ষেত্রে নিজের সাথে এ দু'জনের উল্লেখও তাঁদের নাম নিয়ে করতেন। رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا وَأَرْضَاهُمَ

হাদীসের শেষাংশে يوم السبع শব্দ রয়েছে। হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ এর ব্যাখ্যায় বিভিন্ন বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। এ অধমের নিকট এ বক্তব্যটি প্রাধান্য পাওয়ারযোগ্য যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য কিয়ামতের নিকটবর্তী ঐ দিন, যখন কিয়ামতের আলামতসমূহ প্রকাশ পেয়ে যাবে। ঐ সময় লোকেরা ভেড়া, বকরী ইত্যাদি গবাদি পশুর হেফাযত ও দেখাশোনার কথা ভুলে যাবে। এরা লাওয়ারিশ হয়ে বনে জঙ্গলে ঘুরবে এবং বাঘ ইত্যাদি হিংস্র প্রাণীরাই এদের ওয়ারিস ও মালিক হয়ে যাবে। এ দৃষ্টিকোণ থেকেই এটাকে يوم السبع (হিংস্র প্রাণীদের রাজত্বের দিন) বলা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মা'আরিফুল হাদীস - হাদীস নং ১৫৬ | মুসলিম বাংলা