মা'আরিফুল হাদীস

গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৫৫
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
ফাযায়েলে শায়খাইন

পূর্ববর্তী পৃষ্ঠাসমূহে প্রথমে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ পাঠকদের খেদমতে পেশ করা হয়েছিল। তারপর হযরত উমর রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ। এবার হুযুর (ﷺ)-এর কয়েকটি এমন বাণী পেশ করা হচ্ছে, যেগুলোর মধ্যে তিনি আপন এ বিশেষ দু' সাথীর কথা একসাথে উল্লেখ করেছেন। যার দ্বারা স্পষ্ট জানা যায় যে, হুযুর (ﷺ)-এর দৃষ্টিতে এ দু'জনের বিশেষ অবস্থান ছিল। অনেক ক্ষেত্রে তিনি এ দু'জনের কথা নিজের সাথে এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা যেন তাঁর অবস্থার অংশীদার ও বিশেষ সঙ্গী। এ প্রসঙ্গে সর্বপ্রথম হযরত ইবনে আব্বাসের রিওয়ায়াতে হযরত আলী রাযি.-এর একটি বক্তব্য পাঠকদের খেদমতে পেশ করা হচ্ছে।
১৫৫. হযরত ইবনে আবী মুলায়কা (তাবেয়ী) থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছেন: হযরত উমর রাযি.-কে (মৃত্যুর পর গোসল দেওয়ার জন্য) খাটিয়ায় রাখা হল, তখন লোকেরা তাঁর চতুর্পার্শ্বে দাঁড়িয়ে ছিল এবং তারা তাঁর জন্য দু‘আ ও আল্লাহর রহমত কামনা করছিল। আমিও তাদের সাথে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমি অনুভব করলাম যে, কেউ যেন আমার কাঁধ ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আমি লক্ষ্য করে দেখলাম যে, তিনি হযরত আলী ইবনে আবী তালেব। তিনি হযরত উমরের জন্য রহমতের দু‘আ করছিলেন এবং বলছিলেন, আপনি আপনার পর এমন কাউকে রেখে যাননি যে, আমার এ আকাঙ্খা হবে যে, তার আমলের মত আমল নিয়ে আমি আল্লাহর দরবারে হাজির হব। আল্লাহর কসম। আমি এ ধারণাই করতাম যে, আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে আপনার দু'সাথী (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর)-এর সাথেই রাখবেন। কেননা, আমি অনেক সময় নবী করীম (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন, (অমুক কাজের জন্য) আমি গেলাম, আবু বকর রাযি. ও উমর রাযি. ও গেল, আমি (মসজিদে অথবা অন্য কোন জায়গায়) প্রবেশ করলাম, আমার সাথে আবু বকর রাযি. ও উমর রাযি.ও প্রবেশ করল। আমি বের হলাম, আর আবু বকর রাযি. ও উমর রাযি.ও বের হল। বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ: وُضِعَ عُمَرُ عَلَى سَرِيرِهِ فَتَكَنَّفَهُ النَّاسُ، يَدْعُونَ وَيُصَلُّونَ قَبْلَ أَنْ يُرْفَعَ وَأَنَا فِيهِمْ، فَلَمْ يَرُعْنِي إِلَّا رَجُلٌ آخِذٌ مَنْكِبِي، فَإِذَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَتَرَحَّمَ عَلَى عُمَرَ، وَقَالَ: مَا خَلَّفْتَ أَحَدًا أَحَبَّ إِلَيَّ أَنْ أَلْقَى اللَّهَ بِمِثْلِ عَمَلِهِ مِنْكَ، وَايْمُ اللَّهِ إِنْ كُنْتُ لَأَظُنُّ أَنْ يَجْعَلَكَ اللَّهُ مَعَ صَاحِبَيْكَ، وَحَسِبْتُ إِنِّي كُنْتُ كَثِيرًا أَسْمَعُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «ذَهَبْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، وَدَخَلْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، وَخَرَجْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ» (رواه البخارى ومسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আলী রাযি.-এর এ বক্তব্য কোন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন রাখে না। এতে তিনি যে বলেছেন: "আল্লাহর কসম! আমি এটাই ধারণা করতাম যে, আল্লাহ্ আপনাকে আপনার দু'সাথী (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবূ বকর সিদ্দীক)-এর সঙ্গেই করে দিবেন।" এর অর্থ এটাও হতে পারে যে, আমার এটাই আশা ছিল যে, আপনি তাঁদের সাথেই সমাহিত হবেন। আর এ অর্থও হতে পারে যে, আখেরাতে জান্নাতে আপনাকে তাঁদের সাথী বানিয়ে দেওয়া হবে। আর উভয় অর্থও নেওয়া যেতে পারে। অধম সংকলকের নিকট এটাই প্রাধান্যযোগ্য। হযরত আলী রাযি. এ বক্তব্যে এ বাস্তব সত্যটি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে দিয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর আপন এ দু'সাথীর সাথে তাঁর এমন বিশেষ সম্পর্ক ছিল, যা কেবল তাঁদের ভাগ্যেই জুটেছিল।

হযরত আলী রাযি. নিজের এ বক্তব্যের শুরুতে এই যে কথা বলেছেন, ما خلفت أحدا أحب إلى (অর্থাৎ, আপনি আপনার পর আল্লাহর এমন কোন বান্দা ছেড়ে যাননি, যার আমলের মত আমল নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়া আমি পছন্দ করব।) এর দ্বারা জানা গেল যে, হযরত আলী রাযি.-এর অপছন্দ ও বাসনা ছিল যে, আমি আল্লাহর দরবারে হযরত উমরের ন্যায় আমল নিয়ে যদি উপস্থিত হতে পারতাম। আর হযরত উমরের পর এমন কোন ব্যক্তি রইলেন না।

হাফেয ইবনে হাজার (রহঃ) এ হাদীসেরই ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন:

وَقَدْ أَخْرَجَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَمُسَدَّدٌ مِنْ طَرِيقِ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ نَحْوَ هَذَا الْكَلَامِ، وَسَنَدُهُ صَحِيحٌ، وَهُوَ شَاهِدٌ جَيِّدٌ لِحَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ، كَوْنُ مُخْرَجِهِ مِنْ آلِ عَلِيٍّ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ.

অর্থাৎ, ইবনে আবী শায়বা ও মুসাদ্দাদ হযরত জাফর সাদেকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নিজের পিতা মুহাম্মদ (বাকের) থেকে স্বয়ং হযরত আলী রাযি.-এর মুখ নিসৃত এ ধরনের বক্তব্য বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাসূত্র বিশুদ্ধ এবং ইবনে আব্বাসের বর্ণনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে। কেননা, এটা স্বয়ং হযরত আলী রাযি.-এর আওলাদের বর্ণনা। -ফতহুল বারী, খণ্ড-১৪, পৃষ্ঠা-৩৭৪
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান