মা'আরিফুল হাদীস
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হাদীস নং: ১২২
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
ওফাত ও ওফাতপূর্ব অসুস্থতা
১২২. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) নিজের ওফাতকালীন অসুস্থতার সময় (একদিন) নিজ কন্যা হযরত ফাতেমা রাযি.-কে নিজের কাছে ডাকলেন ও তাঁর কানে কানে কিছু বললেন। ফলে ফাতেমা কাঁদতে শুরু করলেন। তারপর তিনি আবার তাঁকে ডেকে কানে কানে কিছু বললেন, ফাতেমা হাসতে লাগলেন। আয়েশা বলেন, আমি এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করলে বললেন, প্রথমে যখন নবী করীম (ﷺ) আমার কানে কানে কথা বলেছিলেন, তখন একথা বলেছিলেন যে, তিনি এ অসুস্থতায়ই ইন্তিকাল করবেন। তাই আমি কেঁদে ছিলাম। তারপর-তিনি দ্বিতীয়বার যখন আমাকে ডেকে কথা বললেন, তখন আমাকে বলেছিলেন যে, তাঁর পরিবারের মধ্যে আমিই তাঁর পেছনে রওয়ানা হব (এবং তাঁর সাথে মিলিত হব।) তাই আমি আনন্দে হেসেছিলাম। বুখারী
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: دَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلاَمُ فِي شَكْوَاهُ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ، فَسَارَّهَا بِشَيْءٍ فَبَكَتْ، ثُمَّ دَعَاهَا فَسَارَّهَا بِشَيْءٍ فَضَحِكَتْ، فَسَأَلْنَا عَنْ ذَلِكَ فَقَالَتْ: «سَارَّنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ يُقْبَضُ فِي وَجَعِهِ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ فَبَكَيْتُ، ثُمَّ سَارَّنِي فَأَخْبَرَنِي أَنِّي أَوَّلُ أَهْلِهِ يَتْبَعُهُ فَضَحِكْتُ» (رواه البخارى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসটির বিষয়বস্তু স্পষ্ট। তবে এ কথাটি উল্লেখ করে দেওয়া সমীচীন হবে যে, হযরত আয়েশা রাযি.-এর বুখারী শরীফেরই অন্য এক বর্ণনায় বিষয়টি আরেকটু বিস্তারিতভাবে এসেছে যে, হুযুর (ﷺ)-এর মৃত্যুশয্যায় যে দিন এ ঘটনা হয়েছিল, সেদিনই হযরত আয়েশা রাযি. হযরত ফাতেমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, হুযুর (ﷺ) তোমার সাথে কি কথা বলেছেন যে, প্রথমে তুমি কাঁদতে শুরু করলে, আবার একটু পরেই হাসতে লাগলে। ফাতেমা রাযি. এদিন একথার উত্তর দিলেন না; বরং বললেন যে, হুযুর (ﷺ) যে কথাটি গোপনীয়তার সাথে বলেছেন, সেটা আমি প্রকাশ করে দিতে পারি না। তারপর যখন হুযুর (ﷺ)-এর ওফাত হয়ে গেল, তখন হযরত আয়েশা রাযি. আবার ফাতেমাকে জিজ্ঞাসা করলেন। ফাতেমা রাযি. তখন বললেন যে, হুযুর (ﷺ) প্রথমবার আমাকে বলেছিলেন যে, এ অসুস্থতায়ই আমাকে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেওয়া হবে, তখন আমি শোকে-দুঃখে কাঁদতে শুরু করেছিলাম। তারপর দ্বিতীয় বার যখন তিনি বললেন যে, তাঁর পরিবারের লোকদের মধ্য থেকে আমিই সবার আগে তাঁর সাথে মিলিত হব, তখন আমার দুঃখ-জ্বালা দূর হয়ে গেল এবং আমি আনন্দে হাসতে লাগলাম।
এখানে একথাটি উল্লেখ করার মত যে, হুযুর (ﷺ) যে দু'টি কথা বলেছিলেন, উভয়টিই বাস্তবরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। এক. হুযুর (ﷺ) যেমন বলেছিলেন যে, এ অসুস্থতায়ই তাঁর ওফাত হবে, বাস্তবে তাই হয়েছে। দুই. হুযূর (ﷺ)-এর পর তাঁর পরিবার পরিজনের মধ্যে সর্বপ্রথম ওফাত হযরত ফাতেমারই হয়েছে- মাত্র ৬ মাস পর। নিঃসন্দেহে এটা ঐসব ভবিষ্যদ্বাণীর অন্তর্ভুক্ত, যেগুলো তাঁর নবুওয়াতের প্রকৃষ্ট দলীল।
এখানে একথাটি উল্লেখ করার মত যে, হুযুর (ﷺ) যে দু'টি কথা বলেছিলেন, উভয়টিই বাস্তবরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। এক. হুযুর (ﷺ) যেমন বলেছিলেন যে, এ অসুস্থতায়ই তাঁর ওফাত হবে, বাস্তবে তাই হয়েছে। দুই. হুযূর (ﷺ)-এর পর তাঁর পরিবার পরিজনের মধ্যে সর্বপ্রথম ওফাত হযরত ফাতেমারই হয়েছে- মাত্র ৬ মাস পর। নিঃসন্দেহে এটা ঐসব ভবিষ্যদ্বাণীর অন্তর্ভুক্ত, যেগুলো তাঁর নবুওয়াতের প্রকৃষ্ট দলীল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)