মা'আরিফুল হাদীস
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হাদীস নং: ৯৬
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে ইলম ও জ্ঞানদান করা হয়েছিল, আর তাঁর মাধ্যমে তাঁর উম্মত লাভ করেছে, যা মনুষ্য জীবনের বিভিন্ন শাখা সম্বন্ধে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিভক্ত, সেগুলোর মধ্যে প্রশংসা ও ফযীলত অধ্যায়ও একটি। হাদীসের প্রায় সব কিতাবেই كتاب المناقب অথবা أبواب المناقب' জাতীয় বিষয়াবলির অধীনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সেই বাণীসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে যেগুলোতে তিনি কতক বিশেষ ব্যক্তি বা বিশেষ শ্রেণীর সেই প্রশংসা ও ফযীলত বর্ণনা করেছেন যা আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর ওপর প্রতিভাত করেছেন। কোন কোন দৃষ্টিকোণ থেকে এ অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। এতে উম্মতের জন্য হিদায়াতের বিরাট উপকরণ রয়েছে। আল্লাহর নামে আজ এ অধ্যায়ের হাদীসসমূহের ব্যাখ্যার ধারাবাহিকতা শুরু করা হচ্ছে। আর এ সূচনা কতক সেই হাদীসের ব্যাখ্যা দ্বারা করা হচ্ছে, যেগুলোতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশ اَمَّا بِنِعۡمَۃِ رَبِّکَ فَحَدِّثۡ পালনার্থে মহান প্রভুর বিশেষ নি'আমতরাজি ও সেই উঁচু স্তর সমূহের উল্লেখ করেছেন, যার ওপর তাঁকে সমাসীন করা হয়েছিল। এতদসঙ্গে ইন্শাআল্লাহ্ তাঁর মহান গুণাবলি, চরিত্র ও বিশেষ অবস্থাদি সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহও ব্যাখ্যাসহ পাঠকবৃন্দের সামনে পেশ করা হবে।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহান গুণাবলি ও সুউচ্চ মর্যাদাসমূহ
আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে ইলম ও জ্ঞানদান করা হয়েছিল, আর তাঁর মাধ্যমে তাঁর উম্মত লাভ করেছে, যা মনুষ্য জীবনের বিভিন্ন শাখা সম্বন্ধে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিভক্ত, সেগুলোর মধ্যে প্রশংসা ও ফযীলত অধ্যায়ও একটি। হাদীসের প্রায় সব কিতাবেই كتاب المناقب অথবা أبواب المناقب' জাতীয় বিষয়াবলির অধীনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সেই বাণীসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে যেগুলোতে তিনি কতক বিশেষ ব্যক্তি বা বিশেষ শ্রেণীর সেই প্রশংসা ও ফযীলত বর্ণনা করেছেন যা আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর ওপর প্রতিভাত করেছেন। কোন কোন দৃষ্টিকোণ থেকে এ অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। এতে উম্মতের জন্য হিদায়াতের বিরাট উপকরণ রয়েছে। আল্লাহর নামে আজ এ অধ্যায়ের হাদীসসমূহের ব্যাখ্যার ধারাবাহিকতা শুরু করা হচ্ছে। আর এ সূচনা কতক সেই হাদীসের ব্যাখ্যা দ্বারা করা হচ্ছে, যেগুলোতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশ اَمَّا بِنِعۡمَۃِ رَبِّکَ فَحَدِّثۡ পালনার্থে মহান প্রভুর বিশেষ নি'আমতরাজি ও সেই উঁচু স্তর সমূহের উল্লেখ করেছেন, যার ওপর তাঁকে সমাসীন করা হয়েছিল। এতদসঙ্গে ইন্শাআল্লাহ্ তাঁর মহান গুণাবলি, চরিত্র ও বিশেষ অবস্থাদি সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহও ব্যাখ্যাসহ পাঠকবৃন্দের সামনে পেশ করা হবে।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহান গুণাবলি ও সুউচ্চ মর্যাদাসমূহ
৯৬. হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন আমি সব আদম সন্তানের সায়্যিদ (সরদার) হব। আমি প্রথম ব্যক্তি হব যার কবর বিদীর্ণ হবে (অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার নিদের্শে সর্ব প্রথম আমার কবর বিদীর্ণ হবে। আর সর্ব প্রথম আমি আমার কবর থেকে উঠব) আর আমি প্রথম সুপারিশকারী হব (অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলার নিকট থেকে সর্ব প্রথম আমি শাফা'আত করার অনুমতিপ্রাপ্ত হব। এবং সর্ব প্রথম আমিই তাঁর মহান সমীপে শাফা'আত করব)। আর আমিই প্রথম ব্যক্তি, যার শাফা'আত গৃহীত হবে। (সহীহ মুসলিম)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَوَّلُ مَنْ يَنْشَقُّ عَنْهُ الْقَبْرُ وَأَوَّلُ شَافِعٍ وَأَوَّلُ مُشَفَّعٍ. (رواه مسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ বাণীর উদ্দেশ্য এই যে, আমার প্রতি আল্লাহ্ তা'আলা একটি বিশেষ নি'আমত এটাও দান করেছেন যে, হযরত আদম (আ)-এর সন্তানদের মধ্যে (যাদের মধ্যে সব নবী শামিল রয়েছেন) আমাকে সর্বাধিক উঁচু স্থান ও মর্যাদা দান করেছেন। আমাকে সবার সায়্যিদ ও নেতা বানিয়েছেন। এর সর্বজন দৃষ্টি গোচরীভূত পূর্ণ প্রকাশ কিয়ামতের দিন হবে। আর সে দিনই আল্লাহ্ তা'আলার সেই বিশেষ নি'আমতও প্রকাশ পাবে, যখন মৃতদের কবর থেকে উঠার সময় নিকটে হবে। তখন আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশে সর্ব প্রথম আমার কবর উপর থেকে ফাঁক হবে। আমিই সর্ব প্রথম কবর থেকে বের হয়ে আসব। এর পর যখন শাফা'আতের দরজা খোলার সময় হবে, আল্লাহ্ তা'আলার অনুমতিক্রমে সর্ব প্রথম আমিই সুপারিশকারী হব। আর সর্ব প্রথম আমিই সেই ব্যক্তি হব, আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে যার সুপারিশ কবুল করা হবে। আল্লাহ্ তা'আলার এ জাতীয় নি'আমতসমূহ আল্লাহ্ তা'আলারই নির্দেশে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এজন্য প্রকাশ করেছেন যে, উম্মত তাঁর উঁচু মর্যাদা সম্বন্ধে অবগত হবে। আর উম্মতের হৃদয়ে তাঁর সেই মর্যাদা ও ভালবাসা সৃষ্টি হবে যা হওয়া উচিত। এরপর হৃদয়ে তাঁকে অনুসরণের আবেগ ও আকাঙ্খা উৎসারিত হবে। বস্তুত আল্লাহ্ তা'আলার এই বিরাট নি'আমতের শোর আদায়ের তাওফীক লাভ হবে যে, তিনি এমন মহান মর্যাদাবান নবীর উম্মত বানিয়েছেন। মোটকথা, তাঁর এ জাতীয় বাণীসমূহ নি'আমতের উল্লেখ ও নি'আমতের শোর ছাড়াও তাতে উম্মতের হিদায়াত ও দীক্ষা গ্রহণের শিক্ষাও রয়েছে। এখানে এ কথাও উল্লেখযোগ্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ বিষয়ে বিভিন্ন হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, অমুক নবীর ওপর আমাকে মর্যাদা দেওয়া হবে না।
তাঁর এ জাতীয় বাণীসমূহের উদ্দেশ্য (যা ভাষ্যকারগণ লিখেছেন আর স্বয়ং এ সব হাদীসের বাচনভঙ্গি থেকে যা জানা যায় তা) এই যে, আল্লাহ্ তা'আলার কোন নবীর সাথেই কাউকে মুকাবিলা ও তুলনা করে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করা যাবে না। এতে তাঁর মর্যাদাহানী ও তাঁর প্রতি বেআদবীর আশংকা রয়েছে। নচেৎ আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় কিতাব কুরআন মজীদে বলেছেন- تِلۡکَ الرُّسُلُ فَضَّلۡنَا بَعۡضَہُمۡ عَلٰی بَعۡض (এ সব রাসূল তাদের মধ্যে কাউকে কারো ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি) আর কুরআন মজীদে বিভিন্ন আয়াত রয়েছে যেগুলো দ্বারা সব নবী ও রাসূল থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শ্রেষ্ঠত্ব সুষ্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। যেমন وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا رَحۡمَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ এবং وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا کَآفَّۃً لِّلنَّاسِ الآية ইত্যাদি।
তাঁর এ জাতীয় বাণীসমূহের উদ্দেশ্য (যা ভাষ্যকারগণ লিখেছেন আর স্বয়ং এ সব হাদীসের বাচনভঙ্গি থেকে যা জানা যায় তা) এই যে, আল্লাহ্ তা'আলার কোন নবীর সাথেই কাউকে মুকাবিলা ও তুলনা করে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করা যাবে না। এতে তাঁর মর্যাদাহানী ও তাঁর প্রতি বেআদবীর আশংকা রয়েছে। নচেৎ আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় কিতাব কুরআন মজীদে বলেছেন- تِلۡکَ الرُّسُلُ فَضَّلۡنَا بَعۡضَہُمۡ عَلٰی بَعۡض (এ সব রাসূল তাদের মধ্যে কাউকে কারো ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি) আর কুরআন মজীদে বিভিন্ন আয়াত রয়েছে যেগুলো দ্বারা সব নবী ও রাসূল থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শ্রেষ্ঠত্ব সুষ্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। যেমন وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا رَحۡمَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ এবং وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا کَآفَّۃً لِّلنَّاسِ الآية ইত্যাদি।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)