মা'আরিফুল হাদীস
কিয়ামতের আলামতসমূহ অধ্যায়
হাদীস নং: ৯১
কিয়ামতের আলামতসমূহ অধ্যায়
হযরত ঈসা (আ)-এর অবতরণ
৯১. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার উম্মতের মধ্যে সর্বদা এমন এক দল থাকবে যারা সত্যের জন্য লড়তে থাকবে, এবং বিজয়মণ্ডিত হবে। এ কথার ধারাবাহিকতায় সামনে তিনি বলেন, এরপর অবতরণ করবেন ঈসা ইবনে মারয়াম। মুসলমানদের সে সময়ের ইমাম ও শাসক তাঁকে বলবে, আপনি নামায পড়ান। ঈসা ইবনে মারয়াম বলবেন, না। (অর্থাৎ আমি ইমাম হয়ে নামায পড়াব না) তোমাদের শাসক ও ইমাম তোমাদেরই মধ্যে। আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে এ সম্মান এই উম্মতকে প্রদান করা হয়েছে। (সহীহ মুসলিম)
کتاب علاماتِ قیامت
عَنِ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ- قَالَ- فَيَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَقُولُ أَمِيرُهُمْ تَعَالَ صَلِّ لَنَا. فَيَقُولُ لاَ. إِنَّ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ أُمَرَاءُ. تَكْرِمَةَ اللَّهِ هَذِهِ الأُمَّةَ. (رواه مسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীসের প্রথম অংশে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কথা বলেছেন, আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে এটা নির্ধারিত হয়েছে আমার উম্মতের মধ্যে সর্বদা এক দল থাকবে যারা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। আর অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সত্যের জন্য শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করে যাবে এবং সফল হতে থাকবে। হাদীসের ভাষ্যকারগণ লিখেন, সত্য দীনের হিফাযত ও স্থায়িত্ব এবং উন্নতির জন্য এই যুদ্ধ সশস্ত্র যুদ্ধের আকারেও হতে পারে, আর মুখ ও কলম এবং দলীল প্রমাণাদি দ্বারাও হতে পারে। এভাবে সত্য দীনের হিফাযত ও এর উন্নতির চেষ্টা-প্রচেষ্টাকারী সব সৌভাগ্যবান বান্দাই দীনে হকের সিপাহী এবং সত্য পথের মুজাহিদ। নিঃসন্দেহে কোন যুগই আল্লাহর এরূপ বান্দাদের থেকে খালি হবে না। এভাবেই এ ধারাবাহিকতা কিয়ামত পর্যন্ত চালু থাকবে। এটা আল্লাহ্ তা'আলারই নিকট হতে নির্ধারিত হয়ে আছে।
হাদীসের অন্য অংশে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ ও ভবিষ্যতবাণীরূপে এ ঘোষণা দেন যে, কিয়ামতের নিকটে শেষ যুগে ঈসা ইবনে মারয়াম অবতরণ করবেন। তখন নামাযের সময় হবে, তখনকার মুসলমানদের যিনি ইমাম ও শাসক হবেন তিনি হযরত ঈসা (আ) কে অনুরোধ করবেন, আপনি আসুন, এখন আপনিই নামায পড়ান। হযরত ঈসা (আ) তখন নামায পড়াতে অস্বীকার করে বলবেন, নামায আপনিই পড়ান। আল্লাহ্ তা'আলা মুহাম্মদী উম্মতকে যে বিশেষ সম্মান দিয়েছেন এর চাহিদা হচ্ছে, তাঁদের ইমাম তাঁদেরই মধ্য হতে হবে।
সুনানে ইবনে মাজাহ্-এ হযরত আবূ উমামা (রা)-এর বর্ণনায় দাজ্জালের প্রকাশ ও হযরত মাসীহ্ (আ)-এর অবতরণ সম্বন্ধে এক দীর্ঘ হাদীস রয়েছে। তাতে বিস্তারিত এই রয়েছে, মুসলমান বায়তুল মুকাদ্দাসে একত্রিত হবে। (অর্থাৎ দাজ্জালের ফিতনা হতে এবং তার মুকাবিলার জন্য মুসলমান বায়তুল মুকাদ্দাসে একত্রিত হবে) ফজরের নামাযের সময় হবে। নামাযের জন্য মানুষ দাঁড়াবে, তাদের ইমাম যিনি এক 'যোগ্যব্যক্তি' হবেন (হতে পারে তিনি মাহদী হবেন) নামায পড়াবার জন্য ইমামের স্থানে দাঁড়িয়ে যাবেন, আর ইকামত বলা হতে থাকবে। এ সময় হঠাৎ ঈসা (আ) আগমন করবেন। তখন মুসলমানদের যে ইমাম ও শাসক নামায পড়াবার জন্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তিনি পেছনে আসতে থাকবেন। হযরত ঈসা (আ) কে অনুরোধ করবেন, এখন নামায আপনি পড়ান। (কেননা, এটাই উত্তম যে, জামা'আতে যিনি সর্বাধিক উত্তম তিনিই ইমামত করবেন ও নামায পড়াবেন। আর হযরত ঈসা (আ) যিনি পূর্ববর্তী যুগে আল্লাহর নবী ও রাসূল ছিলেন, নিঃসন্দেহে তিনি সবার থেকে উত্তম হবেন। এ কারণে তখনকার মুসলমানের ইমাম ইমামতের মুসাল্লা থেকে পেছনে সরে তাঁকে নিবেদন করবেন, এখন যখন আপনি এসেছেন আপনিই নামায পড়ান। হযরত ঈসা (আ) তখন নামায পড়াতে অস্বীকার করবেন। বলবেন, আপনিই নামায পড়ান)। কেননা, আপনার নেতৃত্বে নামায পড়ার জন্য এখন জামা'আত দণ্ডায়মান এবং ইকামত হয়ে গেছে।
বস্তুত হযরত ঈসা (আ)-এর অবতরণের এটা প্রথম নামায হবে। আর তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মতের এক মুক্তাদী হয়ে নামায আদায় করবেন। স্বয়ং ইমামত করতে অস্বীকার করবেন। এটা তিনি এজন্য করবেন যে, প্রথমেই কার্যত এ কথা সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যে, পূর্ববর্তী যুগের এক মর্যাদাবান নবী ও রাসূল হওয়া সত্ত্বেও এখন তিনি মুহাম্মদী উম্মতের সদস্যদের ন্যায় মুহাম্মদী শরী'আতের অনুগত। আর এখন দুনিয়া ধ্বংস পর্যন্ত মুহাম্মদী শরী'আতেরই যুগ।
হাদীসের অন্য অংশে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ ও ভবিষ্যতবাণীরূপে এ ঘোষণা দেন যে, কিয়ামতের নিকটে শেষ যুগে ঈসা ইবনে মারয়াম অবতরণ করবেন। তখন নামাযের সময় হবে, তখনকার মুসলমানদের যিনি ইমাম ও শাসক হবেন তিনি হযরত ঈসা (আ) কে অনুরোধ করবেন, আপনি আসুন, এখন আপনিই নামায পড়ান। হযরত ঈসা (আ) তখন নামায পড়াতে অস্বীকার করে বলবেন, নামায আপনিই পড়ান। আল্লাহ্ তা'আলা মুহাম্মদী উম্মতকে যে বিশেষ সম্মান দিয়েছেন এর চাহিদা হচ্ছে, তাঁদের ইমাম তাঁদেরই মধ্য হতে হবে।
সুনানে ইবনে মাজাহ্-এ হযরত আবূ উমামা (রা)-এর বর্ণনায় দাজ্জালের প্রকাশ ও হযরত মাসীহ্ (আ)-এর অবতরণ সম্বন্ধে এক দীর্ঘ হাদীস রয়েছে। তাতে বিস্তারিত এই রয়েছে, মুসলমান বায়তুল মুকাদ্দাসে একত্রিত হবে। (অর্থাৎ দাজ্জালের ফিতনা হতে এবং তার মুকাবিলার জন্য মুসলমান বায়তুল মুকাদ্দাসে একত্রিত হবে) ফজরের নামাযের সময় হবে। নামাযের জন্য মানুষ দাঁড়াবে, তাদের ইমাম যিনি এক 'যোগ্যব্যক্তি' হবেন (হতে পারে তিনি মাহদী হবেন) নামায পড়াবার জন্য ইমামের স্থানে দাঁড়িয়ে যাবেন, আর ইকামত বলা হতে থাকবে। এ সময় হঠাৎ ঈসা (আ) আগমন করবেন। তখন মুসলমানদের যে ইমাম ও শাসক নামায পড়াবার জন্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তিনি পেছনে আসতে থাকবেন। হযরত ঈসা (আ) কে অনুরোধ করবেন, এখন নামায আপনি পড়ান। (কেননা, এটাই উত্তম যে, জামা'আতে যিনি সর্বাধিক উত্তম তিনিই ইমামত করবেন ও নামায পড়াবেন। আর হযরত ঈসা (আ) যিনি পূর্ববর্তী যুগে আল্লাহর নবী ও রাসূল ছিলেন, নিঃসন্দেহে তিনি সবার থেকে উত্তম হবেন। এ কারণে তখনকার মুসলমানের ইমাম ইমামতের মুসাল্লা থেকে পেছনে সরে তাঁকে নিবেদন করবেন, এখন যখন আপনি এসেছেন আপনিই নামায পড়ান। হযরত ঈসা (আ) তখন নামায পড়াতে অস্বীকার করবেন। বলবেন, আপনিই নামায পড়ান)। কেননা, আপনার নেতৃত্বে নামায পড়ার জন্য এখন জামা'আত দণ্ডায়মান এবং ইকামত হয়ে গেছে।
বস্তুত হযরত ঈসা (আ)-এর অবতরণের এটা প্রথম নামায হবে। আর তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মতের এক মুক্তাদী হয়ে নামায আদায় করবেন। স্বয়ং ইমামত করতে অস্বীকার করবেন। এটা তিনি এজন্য করবেন যে, প্রথমেই কার্যত এ কথা সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যে, পূর্ববর্তী যুগের এক মর্যাদাবান নবী ও রাসূল হওয়া সত্ত্বেও এখন তিনি মুহাম্মদী উম্মতের সদস্যদের ন্যায় মুহাম্মদী শরী'আতের অনুগত। আর এখন দুনিয়া ধ্বংস পর্যন্ত মুহাম্মদী শরী'আতেরই যুগ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)