মা'আরিফুল হাদীস
কিয়ামতের আলামতসমূহ অধ্যায়
হাদীস নং: ৮৯
কিয়ামতের আলামতসমূহ অধ্যায়
হযরত ঈসা (আ)-এর অবতরণ
কিয়ামতের বড় আলামতগুলো যা হাদীসমূহের বর্ণনা অনুযায়ী দুনিয়া শেষ হওয়ার নিকটবর্তী পূর্বে প্রকাশ পাবে হযরত ঈসা (আ)-এর অবতরণও সেগুলোর মধ্যে একটি অস্বাভাবিক বড় ঘটনা। এ পৃষ্ঠাগুলোতে নিয়ামানুযায়ী এ বিষয় সম্পর্কিত কতক হাদীস পেশ করা হবে। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে, হাদীসের প্রায় সব কিতাবেই বিভিন্ন সনদে এত অধিক সাহাবা কিরাম (রা) থেকে ঈসা (আ)-এর অবতরণের হাদীসসমূহ বর্ণিত হয়েছে, যাদের ব্যাপারে (তাঁদের সাহাবা মর্যাদা থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে, বুদ্ধি ও রীতি নীতির হিসাবেও) এ সন্দেহ করা যেতে পারে না যে, তাঁরা পরস্পর যোগ সাজস করে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি মিথ্যা কাহিনী গড়েছেন যে, কিয়ামতের পূর্বে আসমান থেকে হযরত ঈসা (আ)-এর অবতরণের সংবাদ তিনি দিয়েছেন।
এভাবে এ সন্দেহও করা যায় না যে, সেই সাহাবা কিরাম (রা) তাঁর কথা বুঝতে ভুল করেছিলেন। বস্তুত হাদীস ভাণ্ডারে এ বিয়য়ে যে সব বর্ণনা রয়েছে, সেগুলো দৃষ্টিগোচর রাখলে প্রতিটি সুষ্ঠু জ্ঞানী ব্যক্তির এ বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হবে যে, কিয়ামতের পূর্বে হযরত মাসীহ্ (আ)-এর আসমান থেকে অবতরণের সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ উম্মতকে দিয়েছিলেন। এজন্য আমাদের উস্তাদ হযরত আল্লামা মুহাম্মদ আনওয়ার শাহ কাশ্মিরী (রহ)-এর পুস্তিকা- 'التَصْرِيحُ بِمَا تَوَاتَرَ فِي نَزول المسيح' (ঈসা (আ)-এর অবতরণের পারম্পরিক খবরের বিশ্লেষণ) পাঠই যথেষ্ঠ। এতে হাদীসের কিতাবসমূহ থেকে কেবল এ বিষয় সম্পর্কিত হাদীস নির্বাচন করে সত্তরের উপর হাদীস একত্রিত করা হয়েছে। তদুপরি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস ছাড়াও কুরআন মজীদ থেকে ঈসা (আ) কে আসমানের প্রতি উত্তোলন করা, কিয়ামতের পূর্বে এ জগতে তাঁর আগমন প্রমাণিত। এ বিষয়ে প্রশান্তি লাভের জন্য হযরত উস্তাদের পুস্তিকা- عقيدة الإسلام في حياة عيسى عليه السلام (ঈসা (আ)-এর জীবন সম্বন্ধে ইসলামের আকীদা) পাঠ করাই যথেষ্ঠ হবে। (উল্লেখ্য, হযরত উস্তাদের এ উভয় পুস্তিকা আরবী ভাষায় লিখিত)
এই অক্ষমের লিখিত قادیانی کیون مسلمان نہی ، اور مسئلہ نزول مسیح وحيات مسيح (কাদিয়ানী কেন মুসলমান নয় বরং ঈসা (আ)-এর অবতরণ ও জীবন) পুস্তিকায় প্রায় সত্তর পৃষ্ঠা এ বিষয়েই লিখা হয়েছে। উর্দুভাষীগণ এটা পাঠ করলে ইন্শাআল্লাহ্ এই প্রশান্তি ও ইয়াকীন অর্জিত হবে যে, স্বীয় মু'জিযাসুলভ ভঙ্গিতে কুরআন মজীদ এবং পূর্ণ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে হযরত ঈসা (আ)-এর অবতরণের সংবাদ দিয়েছেন।
যেহেতু এ বিষয়ে বহু লোকের বুদ্ধিবৃত্তিক সন্দেহ ও সংশয় জাগে এবং কাদিয়ানী লেখকরা (মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর ঈসা দাবি করার সুযোগ সৃষ্টি করণে) এ বিষয়ে ছোট বড় অসংখ্য পুস্তিকা ও প্রবন্ধ লিখে সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি করার চেষ্টা করে চলছে, তাই সঙ্গত মনে করা হয়েছে যে, হাদীসসমূহের ব্যাখ্যার পূর্বে ভূমিকাস্বরূপ এ সম্বন্ধে কিছু মৌলিক কথা পেশ করা হবে। আশা করা যায়, এসব পাঠের পর ইন্শাআল্লাহ্ মু'মিন ও জ্ঞানী পাঠকবৃন্দের এ বিষয়ে সেই প্রশান্তি ও ইয়াকীন অর্জিত হবে, যার পর সন্দেহ ও সংশয়ের কোন সুযোগ থাকবে না। (আল্লাহ্ তাওফীক দিন)।
ঈসা (আ)-এর অবতরণ সম্বন্ধে কতক মৌলিক কথা
১. এ বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করার কালে সর্ব প্রথম এ গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে রাখা প্রয়োজন যে, এর সম্বন্ধ সেই সত্তার সাথে যার অস্তিত্বই আল্লাহ্ সাধারণ নীতি ও এ জগতে প্রচলিত প্রাকৃতিক নিয়মের সম্পূর্ণ বিপরীত। অর্থাৎ হযরত ঈসা ইবনে মারয়াম (আ) এরূপে জন্মলাভ করেননি যে রূপে আমাদের এ জগতে মানুষ নর-নারীর মেলা-মেশা ও সঙ্গমের ফলে জন্মলাভ করে থাকে। (আর যে রূপে সব মহান নবীগণ এবং তাঁদের শেষ ও সরদার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও জন্ম গ্রহণ করেছেন) বরং তিনি আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ কুদরত ও তাঁর নির্দেশে তাঁর ফেরশতা জিবরাইল আমীন (রূহুল কুদ্দুস)-এর মাধ্যমে কোন পুরুষ কর্তৃক স্পর্শ ছাড়াই মারয়াম সিদ্দীকার গর্ভে মু'জিযা হিসাবে তাঁকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এজন্যই কুরআন মজীদে তাঁকে 'আল্লাহর কলিমাও' বলা হয়েছে। কুরআন মজীদ সূরা আল ইমরানের আয়াত-৩৫-৩৬ এবং সূরা মারয়ামের আয়াত ১৯-২৩ এর মধ্যে মু'জিযা হিসাবে তাঁর জন্ম লাভের অবস্থা বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। (ইঞ্জিলের বর্ণনাও এটাই। গোটা দুনিয়ার মুসলমান ও খ্রিস্টানদের আকীদা এ অনুযায়ীই)
এভাবেই তাঁর সম্বন্ধে কুরআন মজীদে অন্য এক আশ্চর্য কথা এই বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর কুদরত এবং তাঁর নির্দেশ ও কালিমার মু'জিযাস্বরূপ তিনি যখন মারয়াম সিদ্দীকার গর্ভে পয়দা হলেন, (যিনি কুমারী ছিলেন এবং কোন পুরুষের সাথে তাঁর বিয়ে হয়নি) আর তিনি তাঁকে কোলে নিয়ে লোকালয়ে এলেন, আত্মীয় স্বজন ও লোকালয়ের বাসিন্দারা তাঁর সম্বন্ধে বাজে কথা প্রকাশ করল, (আল্লাহর আশ্রয় চাই) নবজাতক বাচ্চাকে জারজ সন্তান আখ্যায়িত করল। তখন সেই নব জাতক শিশু (ঈসা ইবনে মারয়াম) আল্লাহর নির্দেশে তখনই কথা বললেন, এবং নিজের সম্বন্ধে ও হযরত মারয়ামের পবিত্রতা সম্বন্ধে বর্ণনা দিলেন। (সূরা মারয়াম আয়াত ২৭-৩০)
এরপর কুরআন মজীদে বর্ণনা করা হয়েছে, আল্লাহর নির্দেশে তাঁর হাতে বুদ্ধি হতভম্বকারী মু'জিযাসমূহ প্রকাশ পায়। মাটির কাদা দিয়ে তিনি পাখির আকৃতি বানাতেন, এরপর তাতে ফুঁক দিতেন, তখন তা জীবিত পাখির ন্যায় শূন্যে উড়ে যেত। জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীদের ওপর হাতের স্পর্শ করতেন অথবা ফুঁক দিতেন তৎক্ষণাত তারা ভাল হয়ে যেত। অন্ধদের চোখ আলোকিত হত, আর কুষ্ঠ রোগীদের শরীরে কোন দাগ চিহ্নও থাকত না। এসবেরও ঊর্ধ্বে তিনি মৃতদেরকে জীবিত করে দেখাতেন। তাঁর এই বুদ্ধি হতভম্বকারী মু'জিযার বর্ণনাও কুরআন মজীদে (সূরা আল ইমরান ও সূরা মায়িদায়) বিস্তারিত সুস্পষ্ট বর্ণনা করা হয়েছে। ইঞ্জিলে এই মু'জিযাগুলোর উল্লেখ কতক বর্ধিত আকারে করা হয়েছে। খ্রিস্টান জগতের আকীদাও এরূপই।
এরপর কুরআন মজীদে এ কথাও বলা হয়েছে যে, যখন আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে নবুওত ও রিসালতের আসনে সমাসীন করলেন, আর তিনি স্বীয় জাতি বনী ইসরাঈলকে ঈমান ও ঈমানী জীবন যাপনের দাওআত দিলেন, তখন তাঁর জাতির লোকেরা তাঁকে মিথ্যা নবুওতের দাবিদার প্রতিপন্ন করে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। (১) বস্তুত তাদের ধারণায় এই সিদ্ধান্তকে তাঁরা বাস্তবায়িত করেছে। ঈসা (আ) কে ফাঁসিতে চড়িয়ে মৃত্যুর ঘাটে পৌঁছিয়েছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে এরূপ হয়নি। (তারা যে ব্যক্তিকে হযরত ঈসা (আ) মনে করে ফাঁসীতে চড়িয়েছিল সে ছিল অন্য এক ব্যক্তি) ঈসা (আ) কে তো সেই ইয়াহুদীরা পায়ই নি। আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় বিশেষ কুদরতে তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নেন। আর আল্লাহর নির্দেশে কিয়ামতের পূর্বে তিনি পুনরায় এ জগতে আসবেন, এখানেই ইন্তিকাল করবেন। তাঁর ইন্তিকালের পূর্বে সে সময়ের আহলি কিতাব তাঁর প্রতি ঈমান আনবে। আল্লাহ তা'আলা তাঁর দ্বারা দীনে মুহাম্মদীর খিদমত উঠাবেন। তাঁর অবতরণ কিয়ামতের এক বিশেষ আলামত ও চিহ্ন হবে। সূরা নিসা ও সূরা যুখরুফে এ সব বর্ণনা করা হয়েছে। (২)
টিকা: ১. তাওরাতের কানূন ও ইসরাঈলী শরী'আতে নবুওত ও রিসালাতের মিথ্যা দাবিদারদের শান্তি এটাই ছিল, যেভাবে ইসলামী শরী'আতে মিথ্যা নবুওতী দাবিদারদের শান্তি রয়েছে।
টিকা: ২. সূরা নিসা ও সূরা যুখরুফের যেসব আয়াতে এ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ব্যাখ্যা ও তাফসীর, লিখকের قادیانی کیون مسلمان نہی ، اور مسئلہ نزول مسیح وحيات مسيح এ দেখা যেতে পারে। (পৃঃ ৯৪-১২০) আশা করা যায়, পুস্তিকাটি পাঠ করলে প্রত্যেক স্বাভাবিক মু'মিন ব্যক্তির ইন্শাআল্লাহ্ সান্ত্বনা হবে যে, সেই আয়াতগুলোতে হযরত ঈসা (আ)-এর আসমানে উঠিয়ে নেওয়া ও শেষ যুগে পুনরায় এ জগতে অবতরণের বর্ণনা করা হয়েছে। আর তাঁর এই অবতরণকে কিয়ামতের আলামত ও চিহ্ন বলা হয়েছে।
সুতরাং যে মু'মিন কুরআন মজীদের বর্ণনা মুতাবিক তাঁর মু'জিযাস্বরূপ জন্ম ও তাঁর উপরিল্লিখিত হতবুদ্ধিকারী মু'জিযাসমূহের প্রতি ঈমান এনেছে, আল্লাহর নির্দেশে তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া ও তাঁরই নির্দেশে তাঁকে আসমান থেকে অবতরণের ব্যাপারে সেই মু'মিনের কী সন্দেহ থাকতে পারে?
বস্তুত ঈসা (আ)-এর অবতরণের ওপর চিন্তা করার কালে সর্ব প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দৃষ্টিগোচর রাখা চাই যে, হযরত ঈসা (আ)-এর উদ্ভূত সত্তা এবং উপরিল্লিখিত তাঁর বৈশিষ্ট্যাবলি যা কুরআন মজীদের বরাতে উক্ত লাইনসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে এসব বিষয়ে মনুষ্য জগতে তিনি হচ্ছেন একক।
২. এভাবেই এ বিষয়ে চিন্তা করার সময় এ কথাও দৃষ্টিগোচর রাখা চাই যে, কুরআন মজীদে যার সংবাদ সংক্ষিপ্তভাবে এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীসমূহে বিস্তারিত ও সুস্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে সেই ঈসা (আ)-এর অবতরণ তখন হবে যখন কিয়ামত সম্পূর্ণ সন্নিকটে হয়ে পড়বে। আর এর নিকটবর্তী বড় আলামতের প্রকাশ শুরু হয়ে থাকবে। যেমন, পূর্ব দিকের পরিবর্তে পশ্চিমদিক দিয়ে সূর্যোদয়, অপ্রাকৃতিক পন্থায় যমিন থেকে দাব্বাতুল আরদ-এর পয়দা হওয়া এবং সে তাই করবে যা সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
তখন যেন কিয়ামতের সুবহি সাদিক শুরু হয়ে গেছে। আর জাগতিক শৃঙ্খলার পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়ে থাকবে। তখন ক্রমাগত সেই অপ্রাকৃতিক ও বিপর্যয় প্রকাশ পাবে, আজ যেগুলোর কল্পনাই করা যায় না। (সেগুলোর মধ্যে দাজ্জালের বের হওয়া ও হযরত ঈসা (আ)-এর অবতরণও হবে)।
সুতরাং ঈসা (আ)-এর অবতরণ কিংবা দাজ্জালের আবির্ভাব ও প্রকাশকে এই ভিত্তিতে অস্বীকার করা যে, তাঁর যে প্রকার ও বিশ্লেষণ হাদীসসমূহে বর্ণিত হয়েছে তা আমাদের বুদ্ধির বাইরে, সম্পূর্ণ এরকমই যেমন এ কারণে কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামকে অস্বীকার করা যে, এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ কুরআন মজীদে বর্ণনা করা হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। যে সব লোক এ জাতীয় কথা বলে তাদের প্রকৃত পরিচয় হচ্ছে, তারা আল্লাহ্ তা'আলার পরিচয় থেকে বঞ্চিত এবং কুদরতের প্রশস্ততা সম্বন্ধে অপরিচিত।
৩. ঈসা (আ)-এর জীবন ও তাঁর অবতরণের ওপর চিন্তা গবেষণা করার কালে তৃতীয় এ কথাও দৃষ্টিগোচর রাখা চাই যে, কুরআন মজীদের বর্ণনা এবং আমরা মুসলমানদের আকীদা অনুযায়ী হযরত মাসীহ আমাদের এ জগতে নেই। এখানের সাধারণ প্রাকৃতিক নিয়ম হচ্ছে, মানুষ পানাহারের ন্যায় প্রয়োজনাবলি ও চাহিদাসমূহ হতে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না। বরং তিনি আসমানী যে জগতে আছেন সেখানে এ জাতীয় কোন প্রয়োজন ও চাহিদা নেই। যেমন ফেরতাদের কোন চাহিদা নেই।
হযরত মাসীহ্ (আ) যদিও মাতার পক্ষ হতে মনুষ্য বংশধারার, কিন্তু তাঁর জন্ম আল্লাহ্ তা'আলার 'কলিমা' দ্বারা তাঁর ফেরেশতা 'রুহুল কুদ্দুস'-এর মাধ্যমে হয়েছিল। এজন্য তিনি যতদিন আমাদের মনুষ্য জগতে ছিলেন মনুষ্য প্রয়োজনাবলিও তাঁর সাথে ছিল। তবে যখন মনুষ্য জগত হতে আসমানী জগত ও ফেরেস্তা জগতের প্রতি উন্নিত হলেন, তখন এই প্রয়োজনাবলি ও চাহিদাসমূহ থেকে ফেরেস্তাদেরই ন্যায় তিনি অমুখাপেক্ষী হয়ে যান। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়ার الجواب الصحِيحُ لِمَنْ بَدَّلَ دِيْنَ الْمَسِيحِ (যা প্রকৃত পক্ষে খ্রিস্টানদের প্রত্যাখ্যানে লিখা হয়েছিল) তাতে এক স্থানে যেন এ প্রশ্নেরই উত্তর দিতে গিয়ে যে, 'হযরত মসীহ (আ) যখন আসমানে আছেন তখন তাঁর পানাহার জাতীয় প্রয়োজনাবলির কী ব্যবস্থা?' শায়খুল ইসলাম লিখেন, فليست حالته كحالة أهل الأرض في الأكل والشرب واللباس والنوم والغائط والبول ونحو ذلك সেখানে (আসমানে) পানাহার, পোশাক, নিদ্রা ও পেশাব পায়খানার ন্যায় প্রয়োজনাবলি ও চাহিদার ব্যাপারে তাঁর অবস্থা জগতবাসীর অবস্থার ন্যায় নয়। (সেখানে ফেরেস্তাগণের ন্যায় এসব জিনিস থেকে তিনি অমুখাপেক্ষী)
এই মৌলিক কথাগুলো দৃষ্টিগোচর রাখা হলে আশা করা যায়, হযরত ঈসা (আ) -এর জীবন ও অবতরণের ব্যাপারে সেই সন্দেহ ও সংশয় ইন্শাআল্লাহ্ সৃষ্টি হবে না, যা বুদ্ধির দৈন্যতা, ঈমানের দুর্বলতা ও আল্লাহ্ তা'আলার কুদরতের প্রশস্ততা সম্বন্ধে অজ্ঞতার কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে।
এ ভূমিকার পর মাসীহ্ (আ)-এর অবতরণ সম্পর্কিত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীসমূহ পাঠ করা যেতে পারে।
কিয়ামতের বড় আলামতগুলো যা হাদীসমূহের বর্ণনা অনুযায়ী দুনিয়া শেষ হওয়ার নিকটবর্তী পূর্বে প্রকাশ পাবে হযরত ঈসা (আ)-এর অবতরণও সেগুলোর মধ্যে একটি অস্বাভাবিক বড় ঘটনা। এ পৃষ্ঠাগুলোতে নিয়ামানুযায়ী এ বিষয় সম্পর্কিত কতক হাদীস পেশ করা হবে। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে, হাদীসের প্রায় সব কিতাবেই বিভিন্ন সনদে এত অধিক সাহাবা কিরাম (রা) থেকে ঈসা (আ)-এর অবতরণের হাদীসসমূহ বর্ণিত হয়েছে, যাদের ব্যাপারে (তাঁদের সাহাবা মর্যাদা থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে, বুদ্ধি ও রীতি নীতির হিসাবেও) এ সন্দেহ করা যেতে পারে না যে, তাঁরা পরস্পর যোগ সাজস করে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি মিথ্যা কাহিনী গড়েছেন যে, কিয়ামতের পূর্বে আসমান থেকে হযরত ঈসা (আ)-এর অবতরণের সংবাদ তিনি দিয়েছেন।
এভাবে এ সন্দেহও করা যায় না যে, সেই সাহাবা কিরাম (রা) তাঁর কথা বুঝতে ভুল করেছিলেন। বস্তুত হাদীস ভাণ্ডারে এ বিয়য়ে যে সব বর্ণনা রয়েছে, সেগুলো দৃষ্টিগোচর রাখলে প্রতিটি সুষ্ঠু জ্ঞানী ব্যক্তির এ বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হবে যে, কিয়ামতের পূর্বে হযরত মাসীহ্ (আ)-এর আসমান থেকে অবতরণের সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ উম্মতকে দিয়েছিলেন। এজন্য আমাদের উস্তাদ হযরত আল্লামা মুহাম্মদ আনওয়ার শাহ কাশ্মিরী (রহ)-এর পুস্তিকা- 'التَصْرِيحُ بِمَا تَوَاتَرَ فِي نَزول المسيح' (ঈসা (আ)-এর অবতরণের পারম্পরিক খবরের বিশ্লেষণ) পাঠই যথেষ্ঠ। এতে হাদীসের কিতাবসমূহ থেকে কেবল এ বিষয় সম্পর্কিত হাদীস নির্বাচন করে সত্তরের উপর হাদীস একত্রিত করা হয়েছে। তদুপরি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস ছাড়াও কুরআন মজীদ থেকে ঈসা (আ) কে আসমানের প্রতি উত্তোলন করা, কিয়ামতের পূর্বে এ জগতে তাঁর আগমন প্রমাণিত। এ বিষয়ে প্রশান্তি লাভের জন্য হযরত উস্তাদের পুস্তিকা- عقيدة الإسلام في حياة عيسى عليه السلام (ঈসা (আ)-এর জীবন সম্বন্ধে ইসলামের আকীদা) পাঠ করাই যথেষ্ঠ হবে। (উল্লেখ্য, হযরত উস্তাদের এ উভয় পুস্তিকা আরবী ভাষায় লিখিত)
এই অক্ষমের লিখিত قادیانی کیون مسلمان نہی ، اور مسئلہ نزول مسیح وحيات مسيح (কাদিয়ানী কেন মুসলমান নয় বরং ঈসা (আ)-এর অবতরণ ও জীবন) পুস্তিকায় প্রায় সত্তর পৃষ্ঠা এ বিষয়েই লিখা হয়েছে। উর্দুভাষীগণ এটা পাঠ করলে ইন্শাআল্লাহ্ এই প্রশান্তি ও ইয়াকীন অর্জিত হবে যে, স্বীয় মু'জিযাসুলভ ভঙ্গিতে কুরআন মজীদ এবং পূর্ণ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে হযরত ঈসা (আ)-এর অবতরণের সংবাদ দিয়েছেন।
যেহেতু এ বিষয়ে বহু লোকের বুদ্ধিবৃত্তিক সন্দেহ ও সংশয় জাগে এবং কাদিয়ানী লেখকরা (মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর ঈসা দাবি করার সুযোগ সৃষ্টি করণে) এ বিষয়ে ছোট বড় অসংখ্য পুস্তিকা ও প্রবন্ধ লিখে সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি করার চেষ্টা করে চলছে, তাই সঙ্গত মনে করা হয়েছে যে, হাদীসসমূহের ব্যাখ্যার পূর্বে ভূমিকাস্বরূপ এ সম্বন্ধে কিছু মৌলিক কথা পেশ করা হবে। আশা করা যায়, এসব পাঠের পর ইন্শাআল্লাহ্ মু'মিন ও জ্ঞানী পাঠকবৃন্দের এ বিষয়ে সেই প্রশান্তি ও ইয়াকীন অর্জিত হবে, যার পর সন্দেহ ও সংশয়ের কোন সুযোগ থাকবে না। (আল্লাহ্ তাওফীক দিন)।
ঈসা (আ)-এর অবতরণ সম্বন্ধে কতক মৌলিক কথা
১. এ বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করার কালে সর্ব প্রথম এ গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে রাখা প্রয়োজন যে, এর সম্বন্ধ সেই সত্তার সাথে যার অস্তিত্বই আল্লাহ্ সাধারণ নীতি ও এ জগতে প্রচলিত প্রাকৃতিক নিয়মের সম্পূর্ণ বিপরীত। অর্থাৎ হযরত ঈসা ইবনে মারয়াম (আ) এরূপে জন্মলাভ করেননি যে রূপে আমাদের এ জগতে মানুষ নর-নারীর মেলা-মেশা ও সঙ্গমের ফলে জন্মলাভ করে থাকে। (আর যে রূপে সব মহান নবীগণ এবং তাঁদের শেষ ও সরদার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও জন্ম গ্রহণ করেছেন) বরং তিনি আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ কুদরত ও তাঁর নির্দেশে তাঁর ফেরশতা জিবরাইল আমীন (রূহুল কুদ্দুস)-এর মাধ্যমে কোন পুরুষ কর্তৃক স্পর্শ ছাড়াই মারয়াম সিদ্দীকার গর্ভে মু'জিযা হিসাবে তাঁকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এজন্যই কুরআন মজীদে তাঁকে 'আল্লাহর কলিমাও' বলা হয়েছে। কুরআন মজীদ সূরা আল ইমরানের আয়াত-৩৫-৩৬ এবং সূরা মারয়ামের আয়াত ১৯-২৩ এর মধ্যে মু'জিযা হিসাবে তাঁর জন্ম লাভের অবস্থা বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। (ইঞ্জিলের বর্ণনাও এটাই। গোটা দুনিয়ার মুসলমান ও খ্রিস্টানদের আকীদা এ অনুযায়ীই)
এভাবেই তাঁর সম্বন্ধে কুরআন মজীদে অন্য এক আশ্চর্য কথা এই বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর কুদরত এবং তাঁর নির্দেশ ও কালিমার মু'জিযাস্বরূপ তিনি যখন মারয়াম সিদ্দীকার গর্ভে পয়দা হলেন, (যিনি কুমারী ছিলেন এবং কোন পুরুষের সাথে তাঁর বিয়ে হয়নি) আর তিনি তাঁকে কোলে নিয়ে লোকালয়ে এলেন, আত্মীয় স্বজন ও লোকালয়ের বাসিন্দারা তাঁর সম্বন্ধে বাজে কথা প্রকাশ করল, (আল্লাহর আশ্রয় চাই) নবজাতক বাচ্চাকে জারজ সন্তান আখ্যায়িত করল। তখন সেই নব জাতক শিশু (ঈসা ইবনে মারয়াম) আল্লাহর নির্দেশে তখনই কথা বললেন, এবং নিজের সম্বন্ধে ও হযরত মারয়ামের পবিত্রতা সম্বন্ধে বর্ণনা দিলেন। (সূরা মারয়াম আয়াত ২৭-৩০)
এরপর কুরআন মজীদে বর্ণনা করা হয়েছে, আল্লাহর নির্দেশে তাঁর হাতে বুদ্ধি হতভম্বকারী মু'জিযাসমূহ প্রকাশ পায়। মাটির কাদা দিয়ে তিনি পাখির আকৃতি বানাতেন, এরপর তাতে ফুঁক দিতেন, তখন তা জীবিত পাখির ন্যায় শূন্যে উড়ে যেত। জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীদের ওপর হাতের স্পর্শ করতেন অথবা ফুঁক দিতেন তৎক্ষণাত তারা ভাল হয়ে যেত। অন্ধদের চোখ আলোকিত হত, আর কুষ্ঠ রোগীদের শরীরে কোন দাগ চিহ্নও থাকত না। এসবেরও ঊর্ধ্বে তিনি মৃতদেরকে জীবিত করে দেখাতেন। তাঁর এই বুদ্ধি হতভম্বকারী মু'জিযার বর্ণনাও কুরআন মজীদে (সূরা আল ইমরান ও সূরা মায়িদায়) বিস্তারিত সুস্পষ্ট বর্ণনা করা হয়েছে। ইঞ্জিলে এই মু'জিযাগুলোর উল্লেখ কতক বর্ধিত আকারে করা হয়েছে। খ্রিস্টান জগতের আকীদাও এরূপই।
এরপর কুরআন মজীদে এ কথাও বলা হয়েছে যে, যখন আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে নবুওত ও রিসালতের আসনে সমাসীন করলেন, আর তিনি স্বীয় জাতি বনী ইসরাঈলকে ঈমান ও ঈমানী জীবন যাপনের দাওআত দিলেন, তখন তাঁর জাতির লোকেরা তাঁকে মিথ্যা নবুওতের দাবিদার প্রতিপন্ন করে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। (১) বস্তুত তাদের ধারণায় এই সিদ্ধান্তকে তাঁরা বাস্তবায়িত করেছে। ঈসা (আ) কে ফাঁসিতে চড়িয়ে মৃত্যুর ঘাটে পৌঁছিয়েছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে এরূপ হয়নি। (তারা যে ব্যক্তিকে হযরত ঈসা (আ) মনে করে ফাঁসীতে চড়িয়েছিল সে ছিল অন্য এক ব্যক্তি) ঈসা (আ) কে তো সেই ইয়াহুদীরা পায়ই নি। আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় বিশেষ কুদরতে তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নেন। আর আল্লাহর নির্দেশে কিয়ামতের পূর্বে তিনি পুনরায় এ জগতে আসবেন, এখানেই ইন্তিকাল করবেন। তাঁর ইন্তিকালের পূর্বে সে সময়ের আহলি কিতাব তাঁর প্রতি ঈমান আনবে। আল্লাহ তা'আলা তাঁর দ্বারা দীনে মুহাম্মদীর খিদমত উঠাবেন। তাঁর অবতরণ কিয়ামতের এক বিশেষ আলামত ও চিহ্ন হবে। সূরা নিসা ও সূরা যুখরুফে এ সব বর্ণনা করা হয়েছে। (২)
টিকা: ১. তাওরাতের কানূন ও ইসরাঈলী শরী'আতে নবুওত ও রিসালাতের মিথ্যা দাবিদারদের শান্তি এটাই ছিল, যেভাবে ইসলামী শরী'আতে মিথ্যা নবুওতী দাবিদারদের শান্তি রয়েছে।
টিকা: ২. সূরা নিসা ও সূরা যুখরুফের যেসব আয়াতে এ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ব্যাখ্যা ও তাফসীর, লিখকের قادیانی کیون مسلمان نہی ، اور مسئلہ نزول مسیح وحيات مسيح এ দেখা যেতে পারে। (পৃঃ ৯৪-১২০) আশা করা যায়, পুস্তিকাটি পাঠ করলে প্রত্যেক স্বাভাবিক মু'মিন ব্যক্তির ইন্শাআল্লাহ্ সান্ত্বনা হবে যে, সেই আয়াতগুলোতে হযরত ঈসা (আ)-এর আসমানে উঠিয়ে নেওয়া ও শেষ যুগে পুনরায় এ জগতে অবতরণের বর্ণনা করা হয়েছে। আর তাঁর এই অবতরণকে কিয়ামতের আলামত ও চিহ্ন বলা হয়েছে।
সুতরাং যে মু'মিন কুরআন মজীদের বর্ণনা মুতাবিক তাঁর মু'জিযাস্বরূপ জন্ম ও তাঁর উপরিল্লিখিত হতবুদ্ধিকারী মু'জিযাসমূহের প্রতি ঈমান এনেছে, আল্লাহর নির্দেশে তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া ও তাঁরই নির্দেশে তাঁকে আসমান থেকে অবতরণের ব্যাপারে সেই মু'মিনের কী সন্দেহ থাকতে পারে?
বস্তুত ঈসা (আ)-এর অবতরণের ওপর চিন্তা করার কালে সর্ব প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দৃষ্টিগোচর রাখা চাই যে, হযরত ঈসা (আ)-এর উদ্ভূত সত্তা এবং উপরিল্লিখিত তাঁর বৈশিষ্ট্যাবলি যা কুরআন মজীদের বরাতে উক্ত লাইনসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে এসব বিষয়ে মনুষ্য জগতে তিনি হচ্ছেন একক।
২. এভাবেই এ বিষয়ে চিন্তা করার সময় এ কথাও দৃষ্টিগোচর রাখা চাই যে, কুরআন মজীদে যার সংবাদ সংক্ষিপ্তভাবে এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীসমূহে বিস্তারিত ও সুস্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে সেই ঈসা (আ)-এর অবতরণ তখন হবে যখন কিয়ামত সম্পূর্ণ সন্নিকটে হয়ে পড়বে। আর এর নিকটবর্তী বড় আলামতের প্রকাশ শুরু হয়ে থাকবে। যেমন, পূর্ব দিকের পরিবর্তে পশ্চিমদিক দিয়ে সূর্যোদয়, অপ্রাকৃতিক পন্থায় যমিন থেকে দাব্বাতুল আরদ-এর পয়দা হওয়া এবং সে তাই করবে যা সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
তখন যেন কিয়ামতের সুবহি সাদিক শুরু হয়ে গেছে। আর জাগতিক শৃঙ্খলার পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়ে থাকবে। তখন ক্রমাগত সেই অপ্রাকৃতিক ও বিপর্যয় প্রকাশ পাবে, আজ যেগুলোর কল্পনাই করা যায় না। (সেগুলোর মধ্যে দাজ্জালের বের হওয়া ও হযরত ঈসা (আ)-এর অবতরণও হবে)।
সুতরাং ঈসা (আ)-এর অবতরণ কিংবা দাজ্জালের আবির্ভাব ও প্রকাশকে এই ভিত্তিতে অস্বীকার করা যে, তাঁর যে প্রকার ও বিশ্লেষণ হাদীসসমূহে বর্ণিত হয়েছে তা আমাদের বুদ্ধির বাইরে, সম্পূর্ণ এরকমই যেমন এ কারণে কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামকে অস্বীকার করা যে, এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ কুরআন মজীদে বর্ণনা করা হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। যে সব লোক এ জাতীয় কথা বলে তাদের প্রকৃত পরিচয় হচ্ছে, তারা আল্লাহ্ তা'আলার পরিচয় থেকে বঞ্চিত এবং কুদরতের প্রশস্ততা সম্বন্ধে অপরিচিত।
৩. ঈসা (আ)-এর জীবন ও তাঁর অবতরণের ওপর চিন্তা গবেষণা করার কালে তৃতীয় এ কথাও দৃষ্টিগোচর রাখা চাই যে, কুরআন মজীদের বর্ণনা এবং আমরা মুসলমানদের আকীদা অনুযায়ী হযরত মাসীহ আমাদের এ জগতে নেই। এখানের সাধারণ প্রাকৃতিক নিয়ম হচ্ছে, মানুষ পানাহারের ন্যায় প্রয়োজনাবলি ও চাহিদাসমূহ হতে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না। বরং তিনি আসমানী যে জগতে আছেন সেখানে এ জাতীয় কোন প্রয়োজন ও চাহিদা নেই। যেমন ফেরতাদের কোন চাহিদা নেই।
হযরত মাসীহ্ (আ) যদিও মাতার পক্ষ হতে মনুষ্য বংশধারার, কিন্তু তাঁর জন্ম আল্লাহ্ তা'আলার 'কলিমা' দ্বারা তাঁর ফেরেশতা 'রুহুল কুদ্দুস'-এর মাধ্যমে হয়েছিল। এজন্য তিনি যতদিন আমাদের মনুষ্য জগতে ছিলেন মনুষ্য প্রয়োজনাবলিও তাঁর সাথে ছিল। তবে যখন মনুষ্য জগত হতে আসমানী জগত ও ফেরেস্তা জগতের প্রতি উন্নিত হলেন, তখন এই প্রয়োজনাবলি ও চাহিদাসমূহ থেকে ফেরেস্তাদেরই ন্যায় তিনি অমুখাপেক্ষী হয়ে যান। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়ার الجواب الصحِيحُ لِمَنْ بَدَّلَ دِيْنَ الْمَسِيحِ (যা প্রকৃত পক্ষে খ্রিস্টানদের প্রত্যাখ্যানে লিখা হয়েছিল) তাতে এক স্থানে যেন এ প্রশ্নেরই উত্তর দিতে গিয়ে যে, 'হযরত মসীহ (আ) যখন আসমানে আছেন তখন তাঁর পানাহার জাতীয় প্রয়োজনাবলির কী ব্যবস্থা?' শায়খুল ইসলাম লিখেন, فليست حالته كحالة أهل الأرض في الأكل والشرب واللباس والنوم والغائط والبول ونحو ذلك সেখানে (আসমানে) পানাহার, পোশাক, নিদ্রা ও পেশাব পায়খানার ন্যায় প্রয়োজনাবলি ও চাহিদার ব্যাপারে তাঁর অবস্থা জগতবাসীর অবস্থার ন্যায় নয়। (সেখানে ফেরেস্তাগণের ন্যায় এসব জিনিস থেকে তিনি অমুখাপেক্ষী)
এই মৌলিক কথাগুলো দৃষ্টিগোচর রাখা হলে আশা করা যায়, হযরত ঈসা (আ) -এর জীবন ও অবতরণের ব্যাপারে সেই সন্দেহ ও সংশয় ইন্শাআল্লাহ্ সৃষ্টি হবে না, যা বুদ্ধির দৈন্যতা, ঈমানের দুর্বলতা ও আল্লাহ্ তা'আলার কুদরতের প্রশস্ততা সম্বন্ধে অজ্ঞতার কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে।
এ ভূমিকার পর মাসীহ্ (আ)-এর অবতরণ সম্পর্কিত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীসমূহ পাঠ করা যেতে পারে।
৮৯. হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সেই পবিত্র সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ! অচিরেই তোমাদের মধ্যে অর্থাৎ মুসলমানদের মধ্যে ঈসা ইবনে মারয়াম (আ) ন্যায় বিচারকরূপে অবতরণ করবেন। এরপর ক্রুশ ধ্বংস করবেন, শুকর হত্যা করাবেন, এবং জিযয়ার পরিসম্পপ্তি ঘটাবেন। মালের আধিক্য হবে, এমনকি কেউ তা গ্রহণ করবে না। তখন একটি সিজদা দুনিয়া ও তার মধ্যবর্তী সবকিছু হতে উত্তম হবে। এরপর আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, (যদি কুরআন থেকে এর প্রমাণ চাও) তবে পাঠ কর সূরা নিসার এ আয়াত وَاِنۡ مِّنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ اِلَّا لَیُؤۡمِنَنَّ بِہٖ قَبۡلَ مَوۡتِہٖ ۚ الآية কিতাবীদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে নিজ মৃত্যুর আগে ঈসার প্রতি ঈমান আনবে না। আর কিয়ামতের দিন সে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
کتاب علاماتِ قیامت
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَيُوشِكَنَّ أَنْ يَنْزِلَ فِيكُمُ ابْنُ مَرْيَمَ حَكَمًا عَدْلاً، فَيَكْسِرَ الصَّلِيبَ، وَيَقْتُلَ الْخِنْزِيرَ، وَيَضَعَ الْجِزْيَةَ، وَيَفِيضَ الْمَالُ حَتَّى لاَ يَقْبَلَهُ أَحَدٌ، حَتَّى تَكُونَ السَّجْدَةُ الْوَاحِدَةُ خَيْرًا مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا. ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ: {وَإِنْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ إِلاَّ لَيُؤْمِنَنَّ بِهِ قَبْلَ مَوْتِهِ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكُونُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا}. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এ বাণীতে হযরত মসীহ (আ)-এর অবতরণ এবং তাঁর কতক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ও কার্যাবলির উল্লেখ করে উম্মতকে এ বিষয়ে সংবাদ দান করেছেন। যেহেতু বিষয়টি অস্বাভাবিক প্রকৃতির ছিল, আর বহু স্থুলবুদ্ধি সম্পন্ন দুর্বল ঈমানের লোকদের এতে সন্দেহ-সংশয় হতে পারে, তাই তিনি শপথসহ এ কথা উল্লেখ করেছেন। সর্বপ্রথম বলেছেন, وَالَّذِي نفسي بیده (সেই আল্লাহর শপথ যার আয়ত্বে আমার প্রাণ) এরপর অধিক তাকিদের জন্য বলেছেন- لَيُوشِکن (অবশ্যই অচিরে) এটাও মাসীহ্ (আ)-এর অবতরণের নিশ্চিত ও নির্ঘাত এক ব্যাখ্যাবিশেষ যেভাবে কুরআন মজীদে কিয়ামত সম্বন্ধে বলা হয়েছে اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ (কিয়ামত আসন্ন)। উদ্দেশ্য হচ্ছে, এতে সন্দেহ সংশয়ের কোন সুযোগ নেই। অবশ্য আগমনকারী বুঝতে হবে। বস্তুত শপথের পর لَيُؤْشِکن - এর অর্থও এটাই যে, যে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে তা নিশ্চিত ও নির্ঘাত।
শপথ ও لَيُوشِكُنَّ -এর মাধ্যমে অধিক তাকীদের পর এ বাণীতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে যে সংবাদ দিয়েছেন, তা সুস্পষ্ট ও সাধারণ বোধগম্য শব্দে এভাবে বর্ণনা করা যায় যে, নিশ্চিত এরূপ হবে যে, কিয়ামতের পূর্বে ঈসা ইবনে মারয়াম (আ) আল্লাহর নির্দেশে ন্যায় পরায়ণ শাসকরূপে তোমরা তথা মুসলমানদের মধ্যে (অর্থাৎ তখন তাঁর মর্যাদা মুসলমানদেরই এক ন্যায় পরায়ণ শাসক ও আমীররূপে হবে) আর তিনি শাসকরূপে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন সেগুলোর মধ্যে একটি হবে ক্রুশ যা মূর্তি পূজারীদের মূর্তির ন্যায় খ্রিস্টানদের মূর্তি হয়ে আছে, যার ওপর তাদের চূড়ান্ত গোমরাহী এবং কুফরী আকীদার ভিত্তি তা ভেঙ্গে দেবেন। ভেঙ্গে দেওয়ার অর্থ এই যে, এর যে সম্মান ও খ্রিস্টানদের মধ্যে এর যে এক প্রকার পূজা চলছে তা ধ্বংস করে দেবেন। বস্তুত এই 'ক্রুশ ধ্বংস' অর্থে তাই বুঝা চাই যা আমাদের উর্দু ভাষায় بت شکنی মূর্তি ভাঙ্গা বুঝা যায়। এভাবে তার অন্য এক পদক্ষেপ এই হবে যে, শুক্রগুলো হত্যা করাবেন। খ্রিস্টানদের এক বড় গোমরাহী ও খ্রিস্ট ধর্মে এক বড় পরিবর্তন এটাও যে, শুক্রগুলো (যা সব আসমানী শরী'আতে হারাম ছিল) সেগুলো তারা বৈধ করে নেয়। বরং এগুলো তাদের প্রিয় খাদ্য। ঈসা (আ) কেবল এগুলো নিষিদ্ধই ঘোষণা করবেন না বরং এর বংশকেই নির্মূল করার নির্দেশ দান করবেন।
এছাড়া তাঁর এক বিশেষ পদক্ষেপ এটাও হবে যে, তিনি জিযয়ার পরিসমাপ্তি ঘোষণা করবেন। (আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এ কথা বলেছেন, তখন হযরত ঈসা (আ)-এর ফায়সালা ও ঘোষণা এ ভিত্তিতেই হবে, নিজের নিকট হতে ইসলামী শরী'আত ও কানুনে হবে না) শেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সে সময় ধন-দৌলতের এরূপ আধিক্য ও প্রাচুর্য হবে যে, কেহ কাউকে দিতে চাইলে সে গ্রহণ করতে সম্মত হবে না। দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি এবং এর বিপরীত আখিরাতের সাওয়াব ও পুরস্কারের অন্বেষণ ও আকর্ষণ আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এরূপ সৃষ্টি হবে যে, দুনিয়া ও দুনিয়ার যাবতীয় জিনিস হতে আল্লাহ্ তা'আলার সমীপে একটি সিজদা করা অধিক প্রিয় ও মূল্যবান মনে করা হবে।
হাদীসে আরো আছে, হযরত আবু হুরাইরা (রা) মসীহ্ (আ)-এর অবতরণ সম্পর্কিত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ বাণী বর্ণনা করার পর বলেন, فَاقْرَؤُوا إِنْ شِئْتُمْ الخ কিয়ামতের পূর্বে হযরত মাসীহ্ (আ)-এর বর্ণনা তোমরা যদি কুরআনে পড়তে চাও তবে সূরা নিসার এ আয়াত পাঠ কর। وَاِنۡ مِّنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ اِلَّا لَیُؤۡمِنَنَّ بِہٖ قَبۡلَ مَوۡتِہٖ آلاية (সূরা নিসা- আয়াত ১৫৯)
হাদীসের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জন্যে এতটুকু লেখাই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। শেষে হযরত আবূ হুরাইরা (রা) কুরআন মজীদে সূরা নিসার যে আয়াতের বরাত দিয়েছেন, তার তাফসীর- লিখকের কিতাব قادياني کيون مسلمان نهی اور مسئله نزول مسيح و حیات مسيح -এর ১০০-১১৩ পৃষ্ঠা দেখা যেতে পারে।
শপথ ও لَيُوشِكُنَّ -এর মাধ্যমে অধিক তাকীদের পর এ বাণীতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে যে সংবাদ দিয়েছেন, তা সুস্পষ্ট ও সাধারণ বোধগম্য শব্দে এভাবে বর্ণনা করা যায় যে, নিশ্চিত এরূপ হবে যে, কিয়ামতের পূর্বে ঈসা ইবনে মারয়াম (আ) আল্লাহর নির্দেশে ন্যায় পরায়ণ শাসকরূপে তোমরা তথা মুসলমানদের মধ্যে (অর্থাৎ তখন তাঁর মর্যাদা মুসলমানদেরই এক ন্যায় পরায়ণ শাসক ও আমীররূপে হবে) আর তিনি শাসকরূপে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন সেগুলোর মধ্যে একটি হবে ক্রুশ যা মূর্তি পূজারীদের মূর্তির ন্যায় খ্রিস্টানদের মূর্তি হয়ে আছে, যার ওপর তাদের চূড়ান্ত গোমরাহী এবং কুফরী আকীদার ভিত্তি তা ভেঙ্গে দেবেন। ভেঙ্গে দেওয়ার অর্থ এই যে, এর যে সম্মান ও খ্রিস্টানদের মধ্যে এর যে এক প্রকার পূজা চলছে তা ধ্বংস করে দেবেন। বস্তুত এই 'ক্রুশ ধ্বংস' অর্থে তাই বুঝা চাই যা আমাদের উর্দু ভাষায় بت شکنی মূর্তি ভাঙ্গা বুঝা যায়। এভাবে তার অন্য এক পদক্ষেপ এই হবে যে, শুক্রগুলো হত্যা করাবেন। খ্রিস্টানদের এক বড় গোমরাহী ও খ্রিস্ট ধর্মে এক বড় পরিবর্তন এটাও যে, শুক্রগুলো (যা সব আসমানী শরী'আতে হারাম ছিল) সেগুলো তারা বৈধ করে নেয়। বরং এগুলো তাদের প্রিয় খাদ্য। ঈসা (আ) কেবল এগুলো নিষিদ্ধই ঘোষণা করবেন না বরং এর বংশকেই নির্মূল করার নির্দেশ দান করবেন।
এছাড়া তাঁর এক বিশেষ পদক্ষেপ এটাও হবে যে, তিনি জিযয়ার পরিসমাপ্তি ঘোষণা করবেন। (আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এ কথা বলেছেন, তখন হযরত ঈসা (আ)-এর ফায়সালা ও ঘোষণা এ ভিত্তিতেই হবে, নিজের নিকট হতে ইসলামী শরী'আত ও কানুনে হবে না) শেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সে সময় ধন-দৌলতের এরূপ আধিক্য ও প্রাচুর্য হবে যে, কেহ কাউকে দিতে চাইলে সে গ্রহণ করতে সম্মত হবে না। দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি এবং এর বিপরীত আখিরাতের সাওয়াব ও পুরস্কারের অন্বেষণ ও আকর্ষণ আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এরূপ সৃষ্টি হবে যে, দুনিয়া ও দুনিয়ার যাবতীয় জিনিস হতে আল্লাহ্ তা'আলার সমীপে একটি সিজদা করা অধিক প্রিয় ও মূল্যবান মনে করা হবে।
হাদীসে আরো আছে, হযরত আবু হুরাইরা (রা) মসীহ্ (আ)-এর অবতরণ সম্পর্কিত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ বাণী বর্ণনা করার পর বলেন, فَاقْرَؤُوا إِنْ شِئْتُمْ الخ কিয়ামতের পূর্বে হযরত মাসীহ্ (আ)-এর বর্ণনা তোমরা যদি কুরআনে পড়তে চাও তবে সূরা নিসার এ আয়াত পাঠ কর। وَاِنۡ مِّنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ اِلَّا لَیُؤۡمِنَنَّ بِہٖ قَبۡلَ مَوۡتِہٖ آلاية (সূরা নিসা- আয়াত ১৫৯)
হাদীসের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জন্যে এতটুকু লেখাই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। শেষে হযরত আবূ হুরাইরা (রা) কুরআন মজীদে সূরা নিসার যে আয়াতের বরাত দিয়েছেন, তার তাফসীর- লিখকের কিতাব قادياني کيون مسلمان نهی اور مسئله نزول مسيح و حیات مسيح -এর ১০০-১১৩ পৃষ্ঠা দেখা যেতে পারে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)