মা'আরিফুল হাদীস

কিয়ামতের আলামতসমূহ অধ্যায়

হাদীস নং: ৭৮
কিয়ামতের আলামতসমূহ অধ্যায়
কিয়ামতের আলামতসমূহ: কিয়ামতের সাধারণ আলামতসমূহ
৭৮. হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কিয়ামত তখন পর্যন্ত হবে না যতক্ষণ না (এ ঘটনা ঘটবে) (অসাধারণ জাতীয়) এক আগুন উঠবে হিজায ভূমি থেকে, যা বুসরা শহরের উটগুলোর গর্দান আলোকিত করবে। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
کتاب علاماتِ قیامت
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَخْرُجَ نَارٌ مِنْ أَرْضِ الْحِجَازِ تُضِيءُ أَعْنَاقَ الإِبِلِ بِبُصْرَى. (رواه البخارى ومسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

দুনিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য যে সব অস্বাভাবিক ঘটনার কথা আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর উদ্ভাসিত করা হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে, এক সময় হিজায ভূমি থেকে একটি অস্বাভাবিক জাতীয় আগুন প্রকাশ পাবে। যা আল্লাহ্ তা'আলার আশ্চর্যাবলির মধ্যে গণ্য হবে। এর আলো এরূপ হবে যে, শত শত মাইল দূরবর্তী রাষ্ট্র সিরিয়ার বুসরা শহরের উট ও উটগুলোর গর্দান সে আলোতে দৃষ্টি গোচর হবে। আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে সংবাদ দিয়েছেন।

হিজায সেই বিস্তৃত অঞ্চলের নাম যার মধ্যে মক্কা মুআয্যমা, মদীনা মুনাওয়ারা, জিদ্দা, তায়িফ, রাগীব ইত্যাদি শহর অবস্থিত। আর বুসরা দামেস্ক থেকে প্রায় আটচল্লিশ মাইল দূরত্বে সিরিয়ার এক শহর ছিল। সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমের ভাষ্যকার হাফিয ইবনে হাজার, আল্লামা আইন ও ইমাম নববী প্রমুখ এবং হাদীসের অধিকাংশ ভাষ্যকারগণ উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ভবিষ্যতবাণীর প্রমাণ ছিল সেই আগুন যা হিজরী সপ্তম শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে মদীনা মুনাওওয়ারার নিকট থেকে প্রকাশমান হচ্ছিল। প্রথম তিন দিন ভূমিকম্পের অবস্থায় ছিল। এরপর এক প্রশস্ত এলাকায় আগুন প্রকাশ পেল। সেই আগুনে মেঘের ন্যায় গর্জন এবং বজ্রপাতও ছিল।

তাঁরা লিখেন, সেই আগুনকে আগুনের এক বড় শহর মনে হত। আগুনটি যে পাহাড়ের উপর দিয়ে প্রবাহিত হত তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেত, অথবা গলে যেত। সে আগুন যদিও মদীনা মুনাওওয়ারা থেকে দূরে ছিল তবু তার আলো দ্বারা মদীনা মুনাওওয়ারার রাতসমূহ দিনের ন্যায় উজ্জ্বল থাকত। মানুষ তাতে সেই সব কাজ করতে সক্ষম হতেন যা দিনের আলোতে করা হয়ে থাকে। এর আলো শত শত মাইল দূর পর্যন্ত পৌঁছত। ইয়ামামা ও বুসরা পৌঁছতে দেখা গিয়েছে। তারা আরো লিখেন যে, সেই আগুনের আশ্চর্যাবলির মধ্যে এটাও ছিল যে, তা পাথরগুলোকে জ্বালিয়ে ছাই করে দিত, কিন্তু গাছ-পালা জ্বলত না। তারা লিখেন, জুমাদিউল উখরার শুরু হতে রজবের শেষ পর্যন্ত প্রায় পৌনে দুই মাস আগুন স্থায়ী ছিল।

তবে মদীনা মুনাওওয়ারা এ থেকে কেবল সুরক্ষিতই থাকেনি বরং সে সময়ে সেখানে খুবই মনোরম শীতল বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল। নিঃসন্দেহে আগুন আল্লাহ তা'আলার কুদরত। তাঁর কঠোরতা ও ক্রোধের চিহ্নসমূহের মধ্যে এক চিহ্ন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাড়ে ছয়'শ বছর পূর্বে এ সংবাদ দিয়েছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান