মা'আরিফুল হাদীস
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৬
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
সম্পদ, বিলাসিতা ও দুনিয়াপ্রীতির ফিতনা।
৬৬. হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যখন (অবস্থা এই হবে যে) তোমাদের শাসক তোমাদের উত্তম লোক হবে। তোমাদের সম্পদশালীগণ দানশীল হবে, আর তোমাদের বিষয়াবলি পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে নিষ্পন্ন হবে তখন (এরূপ অবস্থায়) যমীনের উপরিভাগ তোমাদের জন্য এর ভিতরের ভাগ (পেট) থেকে উত্তম। আর (এর বিপরীত) যখন অবস্থা এরূপ হবে যে, তোমাদের শাসকগণ তোমাদের নিকৃষ্টতম লোক হবে, তোমাদের সম্পদশালীগণ (দানশীলতার পরিবর্তে) কৃপণ ও সম্পদ পূজারী হবে এবং তোমাদের বিষয়াবলি (সিদ্ধান্ত দাতাদের পরিবর্তে) তোমাদের নারীদের সিদ্ধান্তে চলবে, তখন (এরূপ অবস্থায়) যমীনের নিম্নভাগ (পেট) তোমাদের জন্য এর উপরী ভাগ হতে উত্তম। (জামি' তিরমিযী)
کتاب الفتن
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا كَانَ أُمَرَاؤُكُمْ خِيَارَكُمْ وَأَغْنِيَاؤُكُمْ سُمَحَاءَكُمْ وَأُمُورُكُمْ شُورَى بَيْنَكُمْ فَظَهْرُ الأَرْضِ خَيْرٌ لَكُمْ مِنْ بَطْنِهَا وَإِذَا كَانَ أُمَرَاؤُكُمْ شِرَارَكُمْ وَأَغْنِيَاؤُكُمْ بُخَلاَءَكُمْ وَأُمُورُكُمْ إِلَى نِسَائِكُمْ فَبَطْنُ الأَرْضِ خَيْرٌ لَكُمْ مِنْ ظَهْرِهَا. (رواه الترمذى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর প্রতিভাত করা হয়েছিল যে, এক যুগ পর্যন্ত উম্মতের অবস্থা এরূপ থাকবে যে, তাদের শাসকগণ এবং রাষ্ট্রের অমাত্যবর্গ উত্তম ব্যক্তিগণ হবেন। এবং তাদের সম্পদশালীগণের মধ্যে দানশীলতার গুণ থাকবে। অথার্ৎ তারা আল্লাহ্ প্রদত্ত সম্পদকে আন্তরিকতা ও সন্তুষ্টচিত্তে উত্তম খাতে ব্যয় করবে। আর তাদের বিষয়াবলি বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় ও সম্মিলিত বিষয়াবলি পারস্পরিক পরামর্শ ভিত্তিক হবে। (এ তিন অবস্থা এ কথার চিহ্ন যে, উম্মতের সামগ্রিক অবস্থা ও প্রবণতা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশাবলি ও সন্তুষ্টি মুতাবিক রয়েছে) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, উম্মতের জন্য এ যুগ উত্তম হবে। আর সেই যুগের মু'মিনগণ এ জগতে এবং জগতের উপরি ভাগে বসবাসের যোগ্য হবে এবং উত্তম উম্মত হিসাবে দুনিয়ার পথ প্রদর্শক ও নেতৃত্বের দায়িত্ব বহন করবে। এতদসঙ্গে তাঁর ওপর প্রতিভাত করা হয়েছিল যে, এরপর এমন এক যুগ আসবে, উম্মতের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত হয়ে যাবে।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় গোটা আইন-কানুন মন্দ লোকদের হাতে এসে যাবে। আর মুসলমানদের সম্পদশালী লোক দানশীলতা ও বদান্যতার পরিবর্তে কৃপণ ও সম্পদ পূজারী হয়ে যাবে। আর পারস্পরিক বিষয়াবলি সিদ্ধান্ত দাতাদের পারস্পরিক পরামর্শে ফয়সালার পরিবর্তে গৃহিণীদের প্রবৃত্তি ও তাদের সিদ্ধান্ত মুতাবিক নির্বাহ করা হবে। মন্দ ও ফাসাদের সেই যুগ সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তখন এই নষ্ট উম্মতের, যমীনের ওপর চলা-ফেরা ও বস-বাস থেকে বিলুপ্ত হয়ে যমীনের মধ্যে দাফন হয়ে যাওয়াই অধিক উপযুক্ত।
যেরূপ বার বার নিবেদন করা হয়েছে, আলোচ্য হাদীস শরীফও কেবল এক ভবিষ্যতবাণী নয়, বরং এতে উম্মতের বিরাট সতর্কতা রয়েছে। এর বার্তা হচ্ছে, আমার উম্মতের তখন পর্যন্ত এই যমীনের ওপর সসম্মানে চলা-ফেরা করা ও শান্তিতে বসবাস করার অধিকার রয়েছে, যখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে উম্মত হিসাবে ঈমানী বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকবে। কিন্তু যখন তারা এই বৈশিষ্ট্য হারাতে বসবে, এবং তাদের জীবনে মন্দ ও বিপর্যয় প্রাধান্য পাবে তখন তারা ধ্বংস হয়ে মাটির নিচে দাফন হওয়ার যোগ্য হবে।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় গোটা আইন-কানুন মন্দ লোকদের হাতে এসে যাবে। আর মুসলমানদের সম্পদশালী লোক দানশীলতা ও বদান্যতার পরিবর্তে কৃপণ ও সম্পদ পূজারী হয়ে যাবে। আর পারস্পরিক বিষয়াবলি সিদ্ধান্ত দাতাদের পারস্পরিক পরামর্শে ফয়সালার পরিবর্তে গৃহিণীদের প্রবৃত্তি ও তাদের সিদ্ধান্ত মুতাবিক নির্বাহ করা হবে। মন্দ ও ফাসাদের সেই যুগ সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তখন এই নষ্ট উম্মতের, যমীনের ওপর চলা-ফেরা ও বস-বাস থেকে বিলুপ্ত হয়ে যমীনের মধ্যে দাফন হয়ে যাওয়াই অধিক উপযুক্ত।
যেরূপ বার বার নিবেদন করা হয়েছে, আলোচ্য হাদীস শরীফও কেবল এক ভবিষ্যতবাণী নয়, বরং এতে উম্মতের বিরাট সতর্কতা রয়েছে। এর বার্তা হচ্ছে, আমার উম্মতের তখন পর্যন্ত এই যমীনের ওপর সসম্মানে চলা-ফেরা করা ও শান্তিতে বসবাস করার অধিকার রয়েছে, যখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে উম্মত হিসাবে ঈমানী বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকবে। কিন্তু যখন তারা এই বৈশিষ্ট্য হারাতে বসবে, এবং তাদের জীবনে মন্দ ও বিপর্যয় প্রাধান্য পাবে তখন তারা ধ্বংস হয়ে মাটির নিচে দাফন হওয়ার যোগ্য হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)