মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৮৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
দাবির জন্য দলীল-প্রমাণ আবশ্যক
৪৮৭. আলকামা ইবনে ওয়াইল তাঁর পিতা ওয়াইল থেকে বর্ণনা করেন যে, হাজরামাউত-এর অধিবাসী এক ব্যক্তি ও কিন্দা গোত্রের এক ব্যক্তি (নিজেদের মোকদ্দমা নিয়ে) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট উপস্থিত হলেন। (বাদী) হাজরামী বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই কিন্দী আমার এক খণ্ড জমি বলপূর্বক দখল করে আছে। কিন্দী (বিবাদী) উত্তর দিলেন, মূলত এ জমি আমারই এবং আমার দখলে আছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ হাজরামীকে বললেন তোমার নিকট কি দাবির প্রমাণ (সাক্ষী) আছে? তিনি বললেন, সাক্ষী নেই। তিনি বললেন, এরপর তোমার অধিকার হচ্ছে, অভিযুক্ত কিন্দী থেকে শপথ নেওয়া। হাজরামী বললেন, হুজুর! এ লোক দুশ্চরিত্র। (লম্পট, অসাধু) এতে তার কোন চিন্তা নেই যে, কি বিষয়ে শপথ করছে? আর তার কোন (মন্দ) কথার বাছ-বিচার নেই। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, (যাই হোক, তোমার নিকট যখন কোন সাক্ষী নেই) তোমার এ অধিকারই আছে যে, তার থেকে শপথ নিয়ে নাও। এরপর কিন্দী যখন শপথ গ্রহণ করতে অন্য দিকে যাচ্ছিলেন তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ (তাকে সাবধান করে) বললেন, যদি সে হাজরামীর সম্পদ অন্যায় ও অবৈধভাবে গ্রাস করার জন্য মিথ্যা শপথ গ্রহণ করে তবে আল্লাহর সমীপে সে এরূপে উপস্থিত হবে যে, আল্লাহ তা'আলা (ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির কারণে) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنْ حَضْرَمَوْتَ وَرَجُلٌ مِنْ كِنْدَةَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ الْحَضْرَمِيُّ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ هَذَا قَدْ غَلَبَنِي عَلَى أَرْضٍ لِي، فَقَالَ الْكِنْدِيُّ: هِيَ أَرْضِي وَفِي يَدِي لَيْسَ لَهُ فِيهَا حَقٌّ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْحَضْرَمِيِّ: «أَلَكَ بَيِّنَةٌ؟» قَالَ: لَا، قَالَ: «فَلَكَ يَمِينُهُ»، قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ الرَّجُلَ فَاجِرٌ لَا يُبَالِي عَلَى مَا حَلَفَ عَلَيْهِ، وَلَيْسَ يَتَوَرَّعُ مِنْ شَيْءٍ، فَقَالَ: «لَيْسَ لَكَ مِنْهُ إِلَّا ذَلِكَ»، فَانْطَلَقَ لِيَحْلِفَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا أَدْبَرَ: «أَمَا لَئِنْ حَلَفَ عَلَى مَالِهِ لِيَأْكُلَهُ ظُلْمًا، لَيَلْقَيَنَّ اللهَ وَهُوَ عَنْهُ مُعْرِضٌ» (رواه مسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

নিঃসন্দেহে কোন বান্দার জন্য এটা চূড়ান্ত পর্যায়ের দুর্ভাগ্য যে, ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির কারণে আল্লাহ তা'আলা আখিরাতে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। এটা তার জন্য অভিশপ্ত ও ক্ষমার অযোগ্য হওয়ার লক্ষণ হবে। এর পূর্বে আশ'আস ইব্‌ন কায়সের হাদীসে এরূপ লোকদের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ যে আয়াত তিলাওয়াত করেছিলেন-
{إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [آل عمران: 77]
হযরত ওয়াইলের সেই হাদীসে وهو عنه معرض এ হাদীসেরই এজমালী ব্যাখ্যা। আর আয়াতের বর্ণনা যেন তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা।

সহীহ মুসলিমের এ হাদীসে একটি বাক্য এই ছিল-
فَانْطَلَقَ لِيَحْلِفَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَمَّا أَدْبَرَ الخ
যার তরজমা এই করা হয়েছিল, "যখন সেই কিন্দী শপথ করার জন্য অন্য দিকে চললেন, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সম্ভবত সেই কিন্দীকে বলে থাকবেন, মসজিদে গিয়ে নামায পড়ে সবার সামনে শপথ কর, অথবা মিম্বরের পাশে দাঁড়িয়ে শপথ কর। এরপর যখন তিনি শপথ করার জন্য সেই দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে সতর্ক করেন, যে কেউ মিথ্যা শপথ করে অপরের মাল অবৈধ পন্থায় অর্জন করবে আখিরাতে তার এই পরিণতি হবে।

সহীহ মুসলিমের এ হাদীসে একথা উল্লেখ নেই যে, এরপর সেই ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করেছিলেন না কি শপথ গ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন। কিন্তু সুনানে আবু দাউদে হাজরামী ও কিন্দীর এ মোকদ্দমা সম্পর্কে হযরত আশ্আস ইবনে কায়স-এর এক হাদীস রয়েছে। সে হাদীসের শেষে এ কথা রয়েছে- রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন আখিরাতের মন্দ পরিণতির ভয় শুনালেন, তখন কিন্দী শপথ করা থেকে থেমে গেলেন। তিনি স্বীকার করলেন যে, এ জমি বাদী হাজরামীরই। সুতরাং রাসূলুল্লাহ ﷺ সে অনুযায়ীই ফায়সালা প্রদান করেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান