মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৯৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কর্ম পদ্ধতি
৩৯৯. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট তার পাওনার তাগাদা দিল। তাঁকে শক্ত কথা বলল। এতে তাঁর সাথীগণ (যারা তখন উপস্থিত ছিলেন, তার সাথে কঠোরতা প্রদর্শনের) ইচ্ছা করলেন। তিনি বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। কেননা, পাওনাদারের বলার অধিকার আছে। তার জন্য একটি উট ক্রয় করে এনে তাকে দাও। তারা (বাজার থেকে ফেরত এসে) বললেন (তার উট যেরূপ ছিল সেরূপ পাওয়া যাচ্ছে না) কেবল তার উট থেকে বেশি বয়সের পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বললেন, সেটিই ক্রয় করে তাকে দাও। কেননা সেই ব্যক্তি উত্তম যে উত্তম পরিশোধ করে। (সহীহ মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلًا تَقَاضَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَغْلَظَ لَهُ، فَهَمَّ أَصْحَابُهُ فَقَالَ: دَعُوهُ «فَإِنَّ لِصَاحِبِ الْحَقِّ مَقَالًا»، «وَاشْتَرُوا لَهُ بَعِيرًا فَأَعْطُوهُ إِيَّاهُ» قَالُوا: لاَ نَجِدُ إِلَّا أَفْضَلَ مِنْ سِنِّهِ، قَالَ: «اشْتَرُوهُ، فَأَعْطُوهُ إِيَّاهُ، فَإِنَّ خَيْرَكُمْ أَحْسَنُكُمْ قَضَاءً» (رواه مسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে বরং তার আগে আরবে সাধারণ প্রচলিত প্রথা ছিল, এক ব্যক্তি তার প্রয়োজনে অন্য ব্যক্তি হতে উট কর্জ গ্রহণ করত। আর এটা টাকা পয়সার সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। বরং এরূপে ধার্য হত যে, এর সমবয়সী এ জাতীয় অন্য উট-এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ে দিতে হবে। তাই রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রথানুযায়ী এক সময় কোন লোকের নিকট হতে উট কর্জ গ্রহণ করেছিলেন। সম্ভবত নির্ধারিত সময় এলে সে তাগাদা দিতে এসেছিল। সে শিষ্টাচার ও ভদ্রতার বিপরীতে কঠোর নীতি অবলম্বন করল। সাহাবীগণের মধ্যে যারা তখন উপস্থিত ছিলেন তাঁরা তার সাথে কঠোরতা অবলম্বনের ইচ্ছা করলেন। তিনি তাঁদের বললেন, তাকে কিছু বলো না। আমার প্রতি তার অধিকার রয়েছে। পাওনাদারের শক্ত কথা বলার অধিকার আছে। তবে তোমরা তার উটের ন্যায় একটি উট ক্রয় করে তাকে দিয়ে দাও। সাহাবীগণ অনুরূপ উট খুঁজলেন। কোথাও পেলেন না; তবে বয়স ও গঠনে সেটি থেকে বড় ও উত্তম পাওয়া যাচ্ছিল। তাঁরা ফেরত এসে নবী করীম ﷺকে একথাই বললেন। তিনি বললেন, যেটি বড় ও উত্তম সেটিই ক্রয় করে তাকে দাও। সাথে সাথে বললেন, যে ব্যক্তি অধিক ভাল ও শ্রেষ্ঠ পরিশোধ করে সেই অধিক উত্তম। আলোচ্য হাদীসে উন্মতের জন্য যে শিক্ষা রয়েছে, তা কোন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন রাখে না।
কোন প্রকারেই এটা জানা যায়নি যে, হাদীসে উল্লিখিত ব্যক্তি যে তাগাদা দিতে এসে শিষ্টাচার বিরোধী নীতি অবলম্বন করেছিল লোকটি কে ছিল? প্রবল ধারণা এটাই যে, কোন অমুসলিম ইয়াহুদী ইত্যাদি হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান