মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৮৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
আর্থিক লেন-দেনে অন্যান্যদের লাখে নম্রতা ও ছাড় দেয়া
৩৮৩ . হযরত হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমাদের পূর্বে কোন জাতির মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল। মৃত্যুর ফেরেশতা যখন তার রূহ কবজ করতে তার নিকট এলেন (আর রূহ কবজের পর যখন সে এ জগত ছেড়ে অন্য জগতে চলে গেল) তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো তুমি কি দুনিয়াতে কোন পুণ্যের কাজ করেছিলে? (যা তোমার জন্য মুক্তির উপায় হতে পারে) সে বলল, আমার জানা মতে এরূপ কোন কাজ নেই। তাকে বলা হল, (নিজের জীবনের প্রতি) দৃষ্টিপাত কর। (চিন্তা করে দেখ) সে পুনরায় বলল, আমার জানা মতে (আমার কোন আমল) কোন কিছু নেই ইহা ছাড়া যে, আমি লোকজনের সাথে কাজ-কারবার, ক্রয়-বিক্রয় করতাম। তাদের সাথে আমার রীতি ছিল ক্ষমা ও ইহসান সুলভ। আমি স্বচ্ছলদেরকেও সময় দিতাম। (যে পারে সে যখন চাইবে পরিশোধ করবে) আর দরিদ্রদেরকে ক্ষমাও করে দিতাম। এতে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের নির্দেশ দিলেন। (বুখারী, মুসলিম)

আর সহীহ মুসলিমে হযরত উকবা ইব্‌ন আমির ও হযরত আবূ মাসউদ আনসারী (রা) থেকেও এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আর এর শেষাংশে فأدخله الله الجنة পরিবর্তে এই শব্দগুলো এসেছে:
فقال الله أنا أحق بِذَا مِنْكَ تَجَاوَزُوا عَنْ عَبْدِي .
আল্লাহ তা'আলা ঐ ব্যক্তিকে বললেন, ইহসান ও ক্ষমার যে ব্যাপার তুমি আমার বান্দাদের সাথে করতে যে, (দরিদ্রদেরকে ক্ষমাও করে দিতে) এ (ক্ষমার রীতি) আমার জন্য অধিক শোভনীয় আর এ বিষয়ে আমি তোমার থেকে বেশী হক (যে ক্ষমা করে দিব)। আল্লাহ ফেরেশতাদের নির্দেশ দিলেন, আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দাও।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ رَجُلًا كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، أَتَاهُ المَلَكُ لِيَقْبِضَ رُوحَهُ، فَقِيلَ لَهُ: هَلْ عَمِلْتَ مِنْ خَيْرٍ؟ قَالَ: مَا أَعْلَمُ، قِيلَ لَهُ: انْظُرْ، قَالَ: مَا أَعْلَمُ شَيْئًا غَيْرَ أَنِّي كُنْتُ أُبَايِعُ النَّاسَ فِي الدُّنْيَا وَأُجَازِيهِمْ، فَأُنْظِرُ المُوسِرَ، وَأَتَجَاوَزُ عَنِ المُعْسِرِ، فَأَدْخَلَهُ اللَّهُ الجَنَّةَ " (رواه البخارى ومسلم وفى رواية لمسلم)
نحوه عن عقبة بن عامر وابى مسعود الانصارى فقال الله انا احق بذا منك تجاوزوا عن عبدى.

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীসে রাসুলুল্লাহ ﷺ পূর্ব যুগের কোন এক ব্যক্তির যে ঘটনা বর্ণনা করেছেন, স্পষ্টত তা তিনি ওহীর দ্বারা জ্ঞাত হয়ে থাকবেন। সে এমতাবস্থায় দুনিয়া ছেড়ে গিয়েছে যে, তার দৃষ্টিতে এমন কোন আমল ছিল না যদ্বারা সে ব্যক্তিও জান্নাতের আশা পোষণ করতে পারে। তবে সে ব্যবসায়িক বিষয়েও লেন-দেনে আল্লাহর বান্দাদের সাথে অনুকম্পা করত এবং তাদেরকে সময় দিত এবং যদি কোন দরিদ্র ব্যক্তির নিকট বাকীতে বিক্রি করে থাকত অথবা ঋণ দিত আর সে ব্যক্তি পরিশোধ করতে অক্ষম ছিল তবে তাকে ক্ষমা করে দিত। আর সচ্ছল লোকদেরকে তাড়াতাড়ি আদায়ের জন্য চাপ দিত না। বরং তাদেরকে অবকাশ দিত যাতে ভবিষ্যতে আদায় করে। আল্লাহ তা'আলা তার এ কাজের ভিত্তিতে তাকে ক্ষমা করে দেন। তার জান্নাতের আদেশ হয়। শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের ইহা ফলপ্রসু পন্থা যে, পূর্ববর্তীদের উপদেশমূলক ঘটনা বর্ণনা করতে হবে। কুরআন মাজীদে নবীগণ ও তাঁদের জাতির অথবা কোন কোন ব্যক্তির যে কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে তার বিশেষ উদ্দেশ্য ও দাবি এটাই। আলোচ্য হাদীসে ও সামনের হাদীসে রাসুলুল্লাহ ﷺ শিক্ষা ও উপদেশের জন্য এ পন্থাই গ্রহণ করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান