মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৮০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরহেজগারীর স্থান, সন্দেহজনক বস্তু থেকেও বেঁচে থাকা প্রয়োজন
৩৮০. হযরত নু'মান ইবনে বশীর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, হালাল প্রকাশ্য ও স্পষ্ট। হারামও স্পষ্ট ও প্রকাশ্য। আর এ দু'য়ের মধ্যে আছে সন্দেহজনক বিষয়াবলী। অনেক মানুষই তা জানে না। সুতরাং যে সন্দেহজনক বিষয়াবলী থেকে দূরে রইল সে তার দীন ও সম্মানকে রক্ষা করল। আর যে সন্দেহজনক বিষয়াবলীতে পতিত হয়, সে হারামের সীমানায় পতিত হয়, সেই রাখালের ন্যায় যে সংরক্ষিত এলাকার পাশে তার পশু পাল চড়ায়। এতে পশুপাল পতিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। (যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ) সাবধান। প্রত্যেক রাজারই থাকে একটি সংরক্ষিত এলাকা। শুন, আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হচ্ছে তাঁর হারামসমূহ। (মানুষের এর নিকটেও না যাওয়া উচিত, অর্থাৎ সন্দেহজনক জিনিস থেকেও বেঁচে থাকবে)। সাবধান! মানুষের শরীরে একটি গোশতের টুকরা রয়েছে। (যার অবস্থা হচ্ছে) যদি এটা ভাল থাকে (অর্থাৎ এতে ঈমানী নূর, আল্লাহর মা'আরিফত ও তাঁর ভয় থাকে) তবে গোটা শরীরই ভাল থাকে। (অর্থাৎ তার কার্যাবলী ও অবস্থাদি সঠিক থাকে) আর যদি এটা বিগড়ায় তবে গোটা শরীরই বিগড়াবে। (অর্থাৎ এর কার্যাবলী ও অবস্থাদি খারাপ হয়ে দাঁড়ায়) সাবধান এটা হচ্ছে কলব। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " الحَلاَلُ بَيِّنٌ، وَالحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا مُشَبَّهَاتٌ لاَ يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ، فَمَنِ اتَّقَى الشُبْهَاتَ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ، وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ، كَالرَّاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى، يُوشِكُ أَنْ يَرْتَعَ فِيهِ، أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى، أَلَا وَإِنَّ حِمَى اللهِ مَحَارِمُهُ، أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً، إِذَا صَلَحَتْ، صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، وَإِذَا فَسَدَتْ، فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ " (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীস ভান্ডারের মধ্যে কিছু হাদীস এরূপ রয়েছে যেগুলোকে উম্মতের আলিম ও ফকীহবৃন্দ খুবই গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বলে মনে করেন। নুমান ইবনে বশীর (রা) বর্ণিত আলোচ্য হাদীস এ স্তরেরই। রাসুলুল্লাহ ﷺ স্বীয় বাণীতে সর্বপ্রথমে এই বলেছেন শরীয়তে যে বিষয় ও কার্যাবলীকে পরিষ্কারভারে হালাল অথবা হারাম নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলো সুষ্পষ্ট। তবে এগুলো ছাড়া বহু বিষয় ও কার্যাবলী এরূপ হয়েছে যেগুলোর জায়িয নাজায়িয হওয়ার কোন সুস্পষ্ট দলীল আরা জানা যাবে না। বরং উভয় মতেরই সুযোগ রয়েছে। যেমন শরীয়তের এক নীতির আলোকে সেটা বৈধ আর অন্য কোন নীতির আলোকে অবৈধ নির্ধারণ করা যেতে পারে। এমতাবস্থায় এরূপ সন্দেহজনক জিনিস ও বিষয়াবলী সম্পর্কে একজন মু'মিনের কার্যপ্রণালী এরূপ হওয়া চাই যে, সতর্কতা ও তাকওয়ার পথে চলতে গিয়ে সেটা থেকেও বেঁচে থাকবে। এতেই রয়েছে দীন ও সম্মানের নিরাপত্তা।
এরপর তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি এ জাতীয় জিনিসসমূহ থেকে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা না করবে, তবে সে অসতর্কতায় অভ্যস্ত হয়ে হারামসমূহে পতিত হবে। বস্তুত এ কথাটি দৃষ্টান্ত দ্বারা বুঝাতে তিনি বলেন, যে রাখাল তার পশুপালকে এরূপ সরকারী সংরক্ষিত এলাকার নিকটবর্তী এমন কি সীমানায় রাখালী করে, যেখানে সাধারণের জন্য পশু চড়ানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তবে অসম্ভব নয় যে, তার পশুপাল কখনো সেই সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করে চলতে থাকে। সুতরাং যেভাবে রাখালের জন্য অত্যাবশ্যক হচ্ছে- সে তার পঙ্গপালকে সরকারী এলাকা থেকে দূরে রাখবে এবং এর নিকটবর্তী হতে দেবে না। অনুরূপভাবে মু'মিন বান্দার উচিত যে সন্দেহজনক জিনিস ও সন্দেহজনক বিষয়াবলী থেকেও বেঁচে থাকবে। এভাবে সে হারাম ও গুণাহসমূহ থেকে সর্বদা নিরাপদ থাকবে। এটাই হচ্ছে পরহেজগারীর স্থান।
সর্বশেষে হুজুর ﷺ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একথা বলেছেন। তিনি বলেছেন- মানুষের দেহের সুস্থতা, অসুস্থতা, ভাল ও মন্দ নির্ভর করে তার কলবের অবস্থার ওপর। ইহা মানুষের গোটা দেহের অস্তিত্বের ওপর ও সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ওপর কর্তৃত্ব করে থাকে। যদি এটা সুস্থ থাকে এবং এতে আল্লাহর মারিফাত, তাঁর ভয় ও ঈমানের নূর থাকে তবে মানুষের গোটা দৈহিক অস্তিত্বই সঠিক থাকবে। তার কার্যাবলী ও পারিপার্শ্বিকতা বিশুদ্ধ হবে। আর কলবে যদি গোলমাল হয় এবং এতে শয়তানী ও পশুত্ব স্বভাব প্রাধান্য লাভ করে তবে তার গোটা দেহ বিগড়াবে। আর তার কার্যাবলী ও অবস্থাদি শয়তানী ও পশুত্ব জাহীর হবে।
আলোচ্য হাদীসে কলব অর্থে মানুষের অভ্যন্তরীণ সেই অনুভূতি বুঝানো হয়েছে যার প্রবণতা ভাল বা মন্দের প্রতি হয়ে থাকে। এটাকে مضغه (গোশতের টুকরা) এজন্য বলা হয়েছে যে, মানুষের বাম বুকে দেবদারু বৃক্ষের ন্যয় যে এক বিশেষ অঙ্গ ও গোশতের টুকরা রয়েছে যাকে কলব বলা হয়, উহা সেই অভ্যন্তরীণ অনুভূতির নির্দিষ্ট স্থান, যেন উহার আসন রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এ হাদীসে প্রথমে তো হারামসমূহ ছাড়াও সন্দেহজনক জিনিস থেকেও বেঁচে থাকার তাগিদ করেছেন। যা হচ্ছে পরহেজগারীর মৌলিক শর্ত। এরপর তিনি কলব সম্বন্ধে একথা অবগত করেছেন যে, মানুষের ভাল মন্দ নির্ভর করে কলবের সুস্থতা ও অনুস্থতার ওপর। এর হিফাজতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সেই সব বান্দা সৌভাগ্যবান যারা কলব ও অভ্যন্তরীণ দিকের এই গুরুত্ব উপলব্ধি করে। আর তারা বাহ্যিক থেকে নিজের কলব ও অভ্যন্তরের চিন্তা বেশী করে।
সম্মানিত সুফীগণের এটাই বৈশিষ্ট্য। আর রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এই উপদেশের গুরুত্ব সব চাইতে বেশী তাঁরাই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁদের কল্যাণ থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত না করুন।
কোন কোন ব্যাখ্যাকার আলোচ্য হাদীসের বিষয় বিন্যাস থেকে এটাও বুঝতে পেরেছেন যে, পানাহারে হারামসমূহ ছাড়াও সন্দেহজনক জিনিসগুলো থেকে বেঁচে থাকবে।
এরপর তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি এ জাতীয় জিনিসসমূহ থেকে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা না করবে, তবে সে অসতর্কতায় অভ্যস্ত হয়ে হারামসমূহে পতিত হবে। বস্তুত এ কথাটি দৃষ্টান্ত দ্বারা বুঝাতে তিনি বলেন, যে রাখাল তার পশুপালকে এরূপ সরকারী সংরক্ষিত এলাকার নিকটবর্তী এমন কি সীমানায় রাখালী করে, যেখানে সাধারণের জন্য পশু চড়ানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তবে অসম্ভব নয় যে, তার পশুপাল কখনো সেই সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করে চলতে থাকে। সুতরাং যেভাবে রাখালের জন্য অত্যাবশ্যক হচ্ছে- সে তার পঙ্গপালকে সরকারী এলাকা থেকে দূরে রাখবে এবং এর নিকটবর্তী হতে দেবে না। অনুরূপভাবে মু'মিন বান্দার উচিত যে সন্দেহজনক জিনিস ও সন্দেহজনক বিষয়াবলী থেকেও বেঁচে থাকবে। এভাবে সে হারাম ও গুণাহসমূহ থেকে সর্বদা নিরাপদ থাকবে। এটাই হচ্ছে পরহেজগারীর স্থান।
সর্বশেষে হুজুর ﷺ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একথা বলেছেন। তিনি বলেছেন- মানুষের দেহের সুস্থতা, অসুস্থতা, ভাল ও মন্দ নির্ভর করে তার কলবের অবস্থার ওপর। ইহা মানুষের গোটা দেহের অস্তিত্বের ওপর ও সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ওপর কর্তৃত্ব করে থাকে। যদি এটা সুস্থ থাকে এবং এতে আল্লাহর মারিফাত, তাঁর ভয় ও ঈমানের নূর থাকে তবে মানুষের গোটা দৈহিক অস্তিত্বই সঠিক থাকবে। তার কার্যাবলী ও পারিপার্শ্বিকতা বিশুদ্ধ হবে। আর কলবে যদি গোলমাল হয় এবং এতে শয়তানী ও পশুত্ব স্বভাব প্রাধান্য লাভ করে তবে তার গোটা দেহ বিগড়াবে। আর তার কার্যাবলী ও অবস্থাদি শয়তানী ও পশুত্ব জাহীর হবে।
আলোচ্য হাদীসে কলব অর্থে মানুষের অভ্যন্তরীণ সেই অনুভূতি বুঝানো হয়েছে যার প্রবণতা ভাল বা মন্দের প্রতি হয়ে থাকে। এটাকে مضغه (গোশতের টুকরা) এজন্য বলা হয়েছে যে, মানুষের বাম বুকে দেবদারু বৃক্ষের ন্যয় যে এক বিশেষ অঙ্গ ও গোশতের টুকরা রয়েছে যাকে কলব বলা হয়, উহা সেই অভ্যন্তরীণ অনুভূতির নির্দিষ্ট স্থান, যেন উহার আসন রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এ হাদীসে প্রথমে তো হারামসমূহ ছাড়াও সন্দেহজনক জিনিস থেকেও বেঁচে থাকার তাগিদ করেছেন। যা হচ্ছে পরহেজগারীর মৌলিক শর্ত। এরপর তিনি কলব সম্বন্ধে একথা অবগত করেছেন যে, মানুষের ভাল মন্দ নির্ভর করে কলবের সুস্থতা ও অনুস্থতার ওপর। এর হিফাজতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সেই সব বান্দা সৌভাগ্যবান যারা কলব ও অভ্যন্তরীণ দিকের এই গুরুত্ব উপলব্ধি করে। আর তারা বাহ্যিক থেকে নিজের কলব ও অভ্যন্তরের চিন্তা বেশী করে।
সম্মানিত সুফীগণের এটাই বৈশিষ্ট্য। আর রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এই উপদেশের গুরুত্ব সব চাইতে বেশী তাঁরাই বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁদের কল্যাণ থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত না করুন।
কোন কোন ব্যাখ্যাকার আলোচ্য হাদীসের বিষয় বিন্যাস থেকে এটাও বুঝতে পেরেছেন যে, পানাহারে হারামসমূহ ছাড়াও সন্দেহজনক জিনিসগুলো থেকে বেঁচে থাকবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)