মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৫৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
তালাক ও ইদ্দত

যেমন জানা গেল যে, বিয়ে-শাদীর উদ্দেশ্য হচ্ছে, নর-নারী এ সম্পর্ক স্থাপন করে পরস্পর জড়িত হয়ে পবিত্র ভালবাসার সাথে আনন্দ ও সুখের জীবন যাপন করবে। আর যেভাবে সে নিজে কারো সন্তান অনুরূপভাবে তার থেকেও সন্তানের ধারা অব্যাহত থাকবে। সে সন্তান তার হৃদয় ও নয়নের শীতলতার কারণ হবে এবং আখিরাতে জান্নাত লাভের ওসীলা হবে।

এসব উদ্দেশ্যের জন্য উভয়ের মধ্যে ভালবাসা ও আনন্দদায়ক সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। রাসুলুল্লাহ ﷺ স্বামী-স্ত্রীর পরস্পর আচরণ সম্পর্কে যে নির্দেশাবলী প্রদান করেছেন সেগুলোর মুল ও কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্য এটাই।

এতদসত্তেও কখনো অবস্থা এরূপ দাঁড়ায় যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অতিশয় তিক্ততা ও বিষাদ সৃষ্টি হয়ে থাকে। তখন একত্রে বসবাস করা আনন্দ ও শান্তির পরিবর্তে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এরূপ ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা ও উৎসাহব্যঞ্জক বাণী এটাই যে, বিষণ্নতা উভয়কে যথাসম্ভব সহ্য করে নিতে হবে। সম্পর্ক অটুট ও মনোরম করার চেষ্টা করবে। তবে সর্বশেষ পন্থা হিসাবে 'তালাক' এরও অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। যদি কোন অবস্থায়ই তালাক ও পৃথক হওয়ার অনুমতি না থাকত তবে এরূপ সম্পর্ক উভয়ের জন্য আযাবে পরিণত হত। এরপর তালাক সম্পর্কিত বিস্তারিত নির্দেশাবলী প্রদান করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত প্রথম নীতিগত নির্দেশ এই দেয়া হয়েছে যে, তালাক ও এর দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়া আল্লাহ তা'আলার নিকট খুবই অপসন্দনীয়। সুতরাং যথাসম্ভব এ থেকে বিরত থাকা চাই। না পুরুষ স্বয়ং এ উদ্যোগ নেবে আর না নারী এটা চেয়ে নেবে। কেবল এরূপ অপারগ অবস্থায়ই এটা করা যায়, যেরূপ কোন অঙ্গে বড় জটিলতা দেখা দিলে অপারেশন বা কাটা-ছেঁড়া সহ্য করা হয়। এরপর তালাক ও পৃথক হওয়ার পন্থা এই বলা হয়েছে যে, পবিত্রাবস্থায় (অর্থাৎ যে সব দিনে নারী বিশেষ ধরনের অপবিত্র অবস্থায় থাকে না) স্বামী কেবল রেজঈ এক তালাক দেবে, যেন, ইদ্দতের মধ্যে রিজআত অর্থাৎ স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণের সুযোগ থাকে। তারপর স্বামী যদি পুনঃগ্রহণের সিদ্ধান্ত না নেয় তবে ইদ্দতের সময়কাল অতিক্রান্ত হতে দেবে। এতে পুনঃগ্রহণের সুযোগ থাকবে না বটে, তবে উভয়ের সম্মতিক্রমে দ্বিতীয়বার বিয়ের সম্পর্ক স্থাপিত হতে পারে।

একসাথে তিন তালাক দেয়া নাজায়িয ও শক্ত গুনাহ সাব্যস্ত করা হয়েছে, যেমন সামনে উল্লেখিতব্য কোন কোন হাদীস থেকে জানা যাবে। তবে বিভিন্ন সময়ে তিন তালাক দেয়াকেও অতিশয় অপসন্দনীয় করা হয়েছে। আর এজন্য দুনিয়াতেই এ শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে যে, যদি সেই স্বামী তার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ে করতে চায় তবে বিয়ে করতে পারবে না, যতক্ষণ সে অন্য কারো বিবাহ বন্ধনে এসে তার সাথে সঙ্গত না হবে। এরপর হয় তার ইন্তিকালে সে বিধবা হবে অথবা সেই স্বামীও তালাক দিয়ে দেয়। বস্তুত কেবল এই অবস্থায়ই ইদ্দত অতিক্রমের পর এ দু'জনের পুনরায় বিবাহ হতে পারে। এই কঠোর নিয়ম-নীতি মুলত স্বামীর তিন তালাক দেয়ারই শাস্তি। এ ভূমিকার পর এতদসংক্রান্ত কতিপয় হাদীস নিম্নে পাঠ করুন।

তালাক অতিশয় অপসন্দনীয় কাজ
৩৫৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, হালাল ও বৈধ বিষয়ের মধ্যে আল্লাহ তা'আলার নিকট তালাক অতিশয় অপসন্দনীয়। (আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَبْغَضُ الْحَلاَلِ إِلَى اللَّهِ الطَّلاَقُ. (رواه ابوداؤد)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান