মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৬৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পোশাকের বিধি-বিধান ও নীতিমালা এ অধ্যায়ের শিক্ষাবলীর মূল ভিত্তি
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেভাবে উঠা-বসা, নিদ্রা ও জাগ্রত হওয়া এবং খানা পিনা ইত্যাদি জীবনের সকল বিষয় সম্পর্কে বিধি-বিধান ও আদব শিক্ষা দিয়েছেন এবং বলে দিয়েছেন যে, এটা হালাল, এটা হারাম, এটা সঠিক, এটা ভুল, এটা সংগত ও এটা অসংগত; তেমনিভাবে পোশাক ও কাপড় ব্যবহার সম্পর্কেও তিনি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
এ অধ্যায়ে তাঁর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার মূল ও ভিত্তি হচ্ছে সূরা আ'রাফের এ আয়াত:
یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ قَدۡ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکُمۡ لِبَاسًا یُّوَارِیۡ سَوۡاٰتِکُمۡ وَرِیۡشًا ؕ وَلِبَاسُ التَّقۡوٰی ۙ ذٰلِکَ خَیۡرٌ
হে আদম সন্তান। আমি তোমাদেরকে পোষাক দিয়েছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান ঢেকে রাখবে, আর এটা তোমাদের জন্য ভূষণও। আর তাকওয়ার লেবাসই হচ্ছে উৎকৃষ্ট। (সূরা আ'রাফ, আয়াত-২৬)
এ আয়াতে লেবাস ও পোশাকের দু'টি বিশেষ উপকারিতার কথা বলা হয়েছে। (১) সতর ঢাকা অর্থাৎ, মানবদেহের ঐসব অঙ্গ ঢেকে রাখা, যেগুলোর প্রতি অন্যদের দৃষ্টি না পড়া চাই। (২) শোভা ও সৌন্দর্য অর্থাৎ, মানুষকে দেখতে যেন ভালো ও সুসজ্জিত মনে হয় এবং পশুদের ন্যায় উলঙ্গ ও বিশ্রীভাবে চলাফেরা না করে। শেষে বলা হয়েছে: وَلِبَاسُ التَّقۡوٰی ۙ ذٰلِکَ خَیۡرٌ আল্লাহর নিকট ও বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে ঐ পোশাকই উত্তম, যা তাকওয়া ও খোদাভীতির নীতি মালার সাথে সংগতিপূর্ণ এবং যাতে আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর বিধানের বিপরীত কিছু করা হয়নি; বরং নাযিলকৃত শরী‘আত অনুসরণ করা হয়েছে। এমন প্রতিটি পোশাক নিঃসন্দেহে কল্যাণের বস্তু ও আল্লাহর নেয়ামত, আর কৃতজ্ঞতার সাথে এর ব্যবহার আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হয়।
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকনির্দেশনা ও ব্যক্তিগত কার্যাবলীর প্রতি দৃষ্টিপাত করলে বুঝা যায় যে, এ ব্যাপারে তাঁর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার মৌলিক বিষয় এটাই যে, পোশাক এমন হতে হবে, যার দ্বারা লজ্জানিবারণের উদ্দেশ্য অর্জিত হয় এবং মানুষকে দেখতে সুন্দর ও ব্যক্তিত্বশালী মনে হয়। পোশাক এমন অসম্পূর্ণ না হওয়া চাই, যার দ্বারা সতর ঢাকার উদ্দেশ্যই অর্জিত হয় না এবং এমন নোংরা ও বেমানান না হওয়া চাই যে, সুন্দরের পরিবর্তে মানুষের চেহারাই পাল্টে যায় এবং দর্শকদের মনে ঘৃণা বা ভয়ের উদ্রেক হয়। অনুরূপভাবে সাজ-সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি ও অপচয় করা যাবে না। তদ্রূপ জাঁকজমক প্রদর্শন, শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ ও অহংকার প্রদর্শনও উদ্দেশ্য হবে না। কেননা, এটা দাসত্ব ও আবদিয়াতের পরিপন্থী। তাছাড়া পুরুষ রেশমী কাপড় ব্যবহার করবে না। কেননা, এটা সোনা-রূপার অলংকারের মত মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট। আর পুরুষগণ মেয়েলী পোশাক পরিধান করে মেয়েলী আকৃতি ধারণ করবে না এবং মহিলারা পুরুষদের মত পোশাক পরিধান করে নিজেদের নারী প্রকৃতির প্রতি অবিচার করবে না।
এ প্রসঙ্গে তিনি এ দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন যে, যেসব বান্দার উপর আল্লাহর অনুগ্রহ রয়েছে, তারা যেন এভাবে থাকে এবং এমন পোশাক পরিধান করে, যার দ্বারা বুঝা যায় যে, তাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দান রয়েছে। এটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশেরই একটি শাখা। কিন্তু অহেতুক লৌকিকতা প্রদর্শন ও অপচয় থেকে বিরত থাকবে। এর সাথে এ দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে যে, গরীব ও নিঃস্ব বান্দাদের মনঃকষ্ট ও তাদের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন না হয়। সর্বোপরি প্রতিটি পোশাককে আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ দান মনে করবে এবং শুকরিয়ার সাথে এটা ব্যবহার করবে। এসব বিধি-বিধান ও দিকনির্দেশনার অনুসরণের সাথে প্রতিটি পোশাকের ব্যবহার নিঃসন্দেহে এক ধরনের ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হবে।
এ ভূমিকার পর নিম্নে এ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ পাঠ করে নিন।
পোশাক আল্লাহর নেয়ামত বিশেষ এবং এর উদ্দেশ্য
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেভাবে উঠা-বসা, নিদ্রা ও জাগ্রত হওয়া এবং খানা পিনা ইত্যাদি জীবনের সকল বিষয় সম্পর্কে বিধি-বিধান ও আদব শিক্ষা দিয়েছেন এবং বলে দিয়েছেন যে, এটা হালাল, এটা হারাম, এটা সঠিক, এটা ভুল, এটা সংগত ও এটা অসংগত; তেমনিভাবে পোশাক ও কাপড় ব্যবহার সম্পর্কেও তিনি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
এ অধ্যায়ে তাঁর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার মূল ও ভিত্তি হচ্ছে সূরা আ'রাফের এ আয়াত:
یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ قَدۡ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکُمۡ لِبَاسًا یُّوَارِیۡ سَوۡاٰتِکُمۡ وَرِیۡشًا ؕ وَلِبَاسُ التَّقۡوٰی ۙ ذٰلِکَ خَیۡرٌ
হে আদম সন্তান। আমি তোমাদেরকে পোষাক দিয়েছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান ঢেকে রাখবে, আর এটা তোমাদের জন্য ভূষণও। আর তাকওয়ার লেবাসই হচ্ছে উৎকৃষ্ট। (সূরা আ'রাফ, আয়াত-২৬)
এ আয়াতে লেবাস ও পোশাকের দু'টি বিশেষ উপকারিতার কথা বলা হয়েছে। (১) সতর ঢাকা অর্থাৎ, মানবদেহের ঐসব অঙ্গ ঢেকে রাখা, যেগুলোর প্রতি অন্যদের দৃষ্টি না পড়া চাই। (২) শোভা ও সৌন্দর্য অর্থাৎ, মানুষকে দেখতে যেন ভালো ও সুসজ্জিত মনে হয় এবং পশুদের ন্যায় উলঙ্গ ও বিশ্রীভাবে চলাফেরা না করে। শেষে বলা হয়েছে: وَلِبَاسُ التَّقۡوٰی ۙ ذٰلِکَ خَیۡرٌ আল্লাহর নিকট ও বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে ঐ পোশাকই উত্তম, যা তাকওয়া ও খোদাভীতির নীতি মালার সাথে সংগতিপূর্ণ এবং যাতে আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর বিধানের বিপরীত কিছু করা হয়নি; বরং নাযিলকৃত শরী‘আত অনুসরণ করা হয়েছে। এমন প্রতিটি পোশাক নিঃসন্দেহে কল্যাণের বস্তু ও আল্লাহর নেয়ামত, আর কৃতজ্ঞতার সাথে এর ব্যবহার আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হয়।
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকনির্দেশনা ও ব্যক্তিগত কার্যাবলীর প্রতি দৃষ্টিপাত করলে বুঝা যায় যে, এ ব্যাপারে তাঁর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার মৌলিক বিষয় এটাই যে, পোশাক এমন হতে হবে, যার দ্বারা লজ্জানিবারণের উদ্দেশ্য অর্জিত হয় এবং মানুষকে দেখতে সুন্দর ও ব্যক্তিত্বশালী মনে হয়। পোশাক এমন অসম্পূর্ণ না হওয়া চাই, যার দ্বারা সতর ঢাকার উদ্দেশ্যই অর্জিত হয় না এবং এমন নোংরা ও বেমানান না হওয়া চাই যে, সুন্দরের পরিবর্তে মানুষের চেহারাই পাল্টে যায় এবং দর্শকদের মনে ঘৃণা বা ভয়ের উদ্রেক হয়। অনুরূপভাবে সাজ-সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি ও অপচয় করা যাবে না। তদ্রূপ জাঁকজমক প্রদর্শন, শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ ও অহংকার প্রদর্শনও উদ্দেশ্য হবে না। কেননা, এটা দাসত্ব ও আবদিয়াতের পরিপন্থী। তাছাড়া পুরুষ রেশমী কাপড় ব্যবহার করবে না। কেননা, এটা সোনা-রূপার অলংকারের মত মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট। আর পুরুষগণ মেয়েলী পোশাক পরিধান করে মেয়েলী আকৃতি ধারণ করবে না এবং মহিলারা পুরুষদের মত পোশাক পরিধান করে নিজেদের নারী প্রকৃতির প্রতি অবিচার করবে না।
এ প্রসঙ্গে তিনি এ দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন যে, যেসব বান্দার উপর আল্লাহর অনুগ্রহ রয়েছে, তারা যেন এভাবে থাকে এবং এমন পোশাক পরিধান করে, যার দ্বারা বুঝা যায় যে, তাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দান রয়েছে। এটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশেরই একটি শাখা। কিন্তু অহেতুক লৌকিকতা প্রদর্শন ও অপচয় থেকে বিরত থাকবে। এর সাথে এ দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে যে, গরীব ও নিঃস্ব বান্দাদের মনঃকষ্ট ও তাদের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন না হয়। সর্বোপরি প্রতিটি পোশাককে আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ দান মনে করবে এবং শুকরিয়ার সাথে এটা ব্যবহার করবে। এসব বিধি-বিধান ও দিকনির্দেশনার অনুসরণের সাথে প্রতিটি পোশাকের ব্যবহার নিঃসন্দেহে এক ধরনের ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হবে।
এ ভূমিকার পর নিম্নে এ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ পাঠ করে নিন।
পোশাক আল্লাহর নেয়ামত বিশেষ এবং এর উদ্দেশ্য
২৬৭. আবূ মাতার তাবেয়ী থেকে বর্ণিত, হযরত আলী রাযি. তিন দেরহাম দিয়ে একটি কাপড় খরিদ করলেন। তারপর যখন এটা পরিধান করলেন, তখন বললেন:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَزَقَنِي مِنْ الرِّيَاشِ مَا أَتَجَمَّلُ بِهِ فِي النَّاسِ وَأُوَارِي بِهِ عَوْرَتِي
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে শোভার পোশাক দান করেছেন, যার দ্বারা আমি লোকদের মধ্যে সৌন্দর্য লাভ করি এবং নিজের লজ্জা নিবারণ করি।
তারপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে (কাপড় পরিধান করে) এরূপই বলতে শুনেছি। -মুসনাদে আহমাদ
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَزَقَنِي مِنْ الرِّيَاشِ مَا أَتَجَمَّلُ بِهِ فِي النَّاسِ وَأُوَارِي بِهِ عَوْرَتِي
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে শোভার পোশাক দান করেছেন, যার দ্বারা আমি লোকদের মধ্যে সৌন্দর্য লাভ করি এবং নিজের লজ্জা নিবারণ করি।
তারপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে (কাপড় পরিধান করে) এরূপই বলতে শুনেছি। -মুসনাদে আহমাদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي مَطَرٍ، أَنَّ عَلِيًّا اشْتَرَى ثَوْبًا بِثَلاثَةِ دَرَاهِمَ فَلَمَّا لَبِسَهُ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَزَقَنِي مِنَ الرِّيَاشِ مَا أَتَجَمَّلُ بِهِ فِي النَّاسِ، وَأُوَارِي بِهِ عَوْرَتِي» ثُمَّ قَالَ: «هَكَذَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ» (رواه احمد)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
তিরমিযী শরীফে প্রায় এ বিষয়েরই একটি হাদীস হযরত উমর রাযি. থেকেও বর্ণিত হয়েছে। এ দু'টি হাদীস দ্বারা এবং এগুলো ছাড়া অন্যান্য একাধিক হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, পোশাক আল্লাহ্ তা'আলার এক বিরাট নেয়ামত, যার শুকরিয়া আদায় করা চাই। আর পোশাকের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সতর ঢাকা এবং শোভা সৌন্দর্য লাভ করা।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)