মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৩৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
খাওয়ার পর কেবল হাত মুছে নেওয়া
২৩৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হারেস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সময় মসজিদে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় তাঁর খেদমতে রুটি ও গোশত নিয়ে আসা হল। তিনি মসজিদেই এটা খেয়ে নিলেন এবং তাঁর সাথে আমরাও খেলাম। তারপর তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে নামায পড়ে নিলাম। এ সময় আমরা (মসজিদে বিছানো) পাথরদানা দিয়ে হাত মোছার চেয়ে বেশী কিছু করিনি। (অর্থাৎ, পানি দিয়ে হাত ধৌত করিনি।) -ইবনে মাজাহ্
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ الْجَزْءِ قَالَ: أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِخُبْزٍ وَلَحْمٍ وهو فِي الْمَسْجِدِ فأكل وأَكَلْنَا مَعَهُ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى وَصَلَّيْنَا مَعَهُ وَلَمْ نَزِدْ عَلَى اَنَ مَسَحَنَا أَيْدِيَنَا بِالْحَصْبَاءِ. (رواه ابن ماجه)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসের রাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল হারেস রাযি.-এর ঘটনা বর্ণনা দ্বারা উদ্দেশ্য বাহ্যত এটাই যে, কখনো কখনো এমনও হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর সাথে তাঁর সাহাবীগণ খানা খেয়েছেন, কিন্তু খাওয়ার পর হাত ধোয়া হয়নি। হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ লিখেছেন যে, এ কথাটি যুক্তিযুক্ত যে, তিনি এ কথা প্রকাশ করার জন্য এমনটি করেছেন যে, খাওয়ার পর হাত-মুখ ধোয়া কোন ফরয-ওয়াজিব কাজ নয় এবং এটা না করেও নামায পড়া যায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মতকে অবকাশ ও ছাড়দানের সীমারেখা শিক্ষা দেওয়ার জন্য অনেক সময় উত্তম ও আফজাল কাজকে ছেড়ে দিতেন। আর শিক্ষক ও পথপ্রদর্শনকারী হিসাবে তাঁর জন্য এরূপ করার প্রয়োজন ছিল। তাছাড়া এ বিষয়টিও লক্ষণীয় যে, ঘটনাটি সম্ভবত এরূপ দাঁড়িয়েছিল যে, নামাযের জন্য দাঁড়ানোর সময় হয়ে গিয়েছিল, সাহাবায়ে কেরামও নামাযের জন্য মসজিদে এসে গিয়েছিলেন। এমন সময় কেউ তাঁর খেদমতে কিছু গোশত ও রুটি নিয়ে আসল। এটা সম্ভব; বরং প্রবল ধারণা যে, উপস্থিত লোকদের মধ্যে এমন লোকও ছিল, যারা ক্ষুধায় আক্রান্ত এবং খাবারের প্রতি তাদের আগ্রহও ছিল প্রবল। এমতাবস্থায় তিনি এটাই সংগত মনে করলেন যে, খাবার নামাযের আগেই খেয়ে নেওয়া হোক। এখানে তিনি অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামকেও শরীক করলেন। আর একথা স্পষ্ট যে, এ অবস্থায় সবাই তো পেটভরে আহার করেননি, কেবল তাবাররুক হিসাবে সামান্য অংশ গ্রহণ করেছেন। এজন্য হাতে খাবার খুব বেশী লাগেওনি। তারপর এটাও লক্ষণীয় যে, মসজিদে পানির কোন ব্যবস্থা ছিল না। তাই এ সময় যদি হাত ধোয়াকে জরুরী মনে করা হত, তাহলে প্রত্যেকের নিজের বাড়ি গিয়ে হাত ধুয়ে আসতে হত। সংকলকের ধারণা যে, হাত না ধোয়ার মধ্যে এ সমস্ত বিষয়ের কিছু না কিছু দখল রয়েছে।
হাদীসে পাথর ও কংকরে হাত পরিষ্কার করার কথা যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এর দ্বারা বুঝা যায় যে, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও ঐ সময় এরূপই করেছিলেন। এর দ্বারা এ পথনির্দেশ পাওয়া যায় যে, খানা খাওয়ার পর তোয়ালে, টিস্যু পেপার অথবা এমন কোন জিনিস দ্বারা হাত পরিষ্কার করে নেওয়া যায়, যার দ্বারা হাত পরিষ্কার করার উদ্দেশ্য অর্জিত হয়ে যায়। আর এরূপ করাও সুন্নতের সীমার ভিতরেই থাকবে।
হাদীসে পাথর ও কংকরে হাত পরিষ্কার করার কথা যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এর দ্বারা বুঝা যায় যে, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও ঐ সময় এরূপই করেছিলেন। এর দ্বারা এ পথনির্দেশ পাওয়া যায় যে, খানা খাওয়ার পর তোয়ালে, টিস্যু পেপার অথবা এমন কোন জিনিস দ্বারা হাত পরিষ্কার করে নেওয়া যায়, যার দ্বারা হাত পরিষ্কার করার উদ্দেশ্য অর্জিত হয়ে যায়। আর এরূপ করাও সুন্নতের সীমার ভিতরেই থাকবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)