মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ১৮৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাসি ও মুচকি হাসি
১৮৫. হযরত জাবের ইবনে সামুরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অভ্যাস ছিল যে, তিনি যে স্থানে ফজরের নামায পড়তেন, সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সেখান থেকে উঠতেন না। তারপর যখন সূর্যোদয় হয়ে যেত, তিনি উঠে যেতেন। আর (এ সময়) সাহাবায়ে কেরাম জাহেলী যুগের কথাবার্তাও আলোচনা করতেন এবং খুব হাসতেন। কিন্তু তিনি কেবল মুচকি হাসতেন।-মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ «كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَقُومُ مِنْ مُصَلَّاهُ الَّذِي يُصَلِّي فِيهِ الصُّبْحَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، فَإِذَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ نَامَ وَكَانُوا يَتَحَدَّثُونَ، فَيَأْخُذُونَ فِي أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ فَيَضْحَكُونَ وَيَتَبَسَّمُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ» (رواه مسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, সাহাবায়ে কেরাম কখনো কখনো মসজিদে নববীতে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পবিত্র মজলিসেও জাহেলী যুগের এমন সব বিষয়ে আলোচনাও করতেন, যেগুলোর উপর খুব হাসি আসত। তিরমিযী শরীফের এ হাদীসেরই বর্ণনায় এ শব্দমালা অতিরিক্ত রয়েছে: ويتناشدون الشعر (অর্থাৎ এসব কথাবার্তার মধ্যে কবিতা আবৃত্তিও করা হত।) আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব শুনতেন এবং মুচকি হাসতেন।
অধম সংকলক বলে, যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপন সাহাবীদের সাথে এমন সরলতাপূর্ণ আচরণ না করতেন, তাহলে তাদের উপর হুযুর (ﷺ)-এর এমন গাম্ভীর্যপূর্ণ প্রভাব বিস্তার হয়ে থাকত- যা দ্বীনি ফায়দা হাসিলের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে যেত। সূফিয়ায়ে কেরামের পরিভাষায় বলা যায় যে, এটা হুযুর (ﷺ)-এর নুযূল তথা আপন স্তর থেকে নিম্নে এসে সহজ সরলভাবে সকলের সাথে মিশে যাওয়ার একটা দৃষ্টান্ত ছিল- যা অবলম্বন করা ছাড়া রেসালতের উদ্দেশ্য পূর্ণ হওয়া সম্ভব ছিল না।
সাহাবায়ে কেরামের এ হাসি ও অন্যদেরকে হাসানোর এ আলোচনার সাথে মহান সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ও একজন বুযুর্গ তাবেয়ী বেলাল ইবনে সাঈদের দু'টি বর্ণনা পাঠ করে নিলে অন্তর্দৃষ্টি বেড়ে যাবে। এ দু'টি বর্ণনাই মেশকাত শরীফে শারহুস্সুন্নাহর বরাতে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
প্রসিদ্ধ তাবেয়ী কাতাদাহ বর্ণনা করেন যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি.-কে কেউ জিজ্ঞাসা করল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীগণ কি হাসতেন? তিনি উত্তর দিলেন, نعم والإيمان في قلوبهم أعظم من الجبل হ্যাঁ, তারা (হাসির ক্ষেত্রে) হাসতেন। কিন্তু এ সময়েও তাদের অন্তরে ঈমান থাকত পাহাড়ের চেয়ে সুদৃঢ়। অর্থাৎ, তাদের হাসি গাফেলদের হাসি ছিল না- যা অন্তরকে মুর্দা বানিয়ে দেয়।
আর বেলাল ইবনে সা'দের বর্ণনা হচ্ছে এই:
أدركتهم يشتدون بين الأغراض ويضحك بعضهم إلى بعض فإذا كان الليل كانوا رهبانا
আমি সাহাবায়ে কেরামকে দেখেছি যে, তারা নির্দিষ্ট চিহ্নের মধ্যে দৌড়াতেন ও, (যেভাবে বালক ও যুবকরা খেলা ও অনুশীলনের জন্য দৌড় প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়ে থাকে।) পরস্পর হাসতেন ও হাসাতেন। তারপর যখন রাত হয়ে যেত, তখন সাধক দরবেশে পরিণত হতেন।
অধম সংকলক বলে, যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপন সাহাবীদের সাথে এমন সরলতাপূর্ণ আচরণ না করতেন, তাহলে তাদের উপর হুযুর (ﷺ)-এর এমন গাম্ভীর্যপূর্ণ প্রভাব বিস্তার হয়ে থাকত- যা দ্বীনি ফায়দা হাসিলের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে যেত। সূফিয়ায়ে কেরামের পরিভাষায় বলা যায় যে, এটা হুযুর (ﷺ)-এর নুযূল তথা আপন স্তর থেকে নিম্নে এসে সহজ সরলভাবে সকলের সাথে মিশে যাওয়ার একটা দৃষ্টান্ত ছিল- যা অবলম্বন করা ছাড়া রেসালতের উদ্দেশ্য পূর্ণ হওয়া সম্ভব ছিল না।
সাহাবায়ে কেরামের এ হাসি ও অন্যদেরকে হাসানোর এ আলোচনার সাথে মহান সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ও একজন বুযুর্গ তাবেয়ী বেলাল ইবনে সাঈদের দু'টি বর্ণনা পাঠ করে নিলে অন্তর্দৃষ্টি বেড়ে যাবে। এ দু'টি বর্ণনাই মেশকাত শরীফে শারহুস্সুন্নাহর বরাতে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
প্রসিদ্ধ তাবেয়ী কাতাদাহ বর্ণনা করেন যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি.-কে কেউ জিজ্ঞাসা করল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীগণ কি হাসতেন? তিনি উত্তর দিলেন, نعم والإيمان في قلوبهم أعظم من الجبل হ্যাঁ, তারা (হাসির ক্ষেত্রে) হাসতেন। কিন্তু এ সময়েও তাদের অন্তরে ঈমান থাকত পাহাড়ের চেয়ে সুদৃঢ়। অর্থাৎ, তাদের হাসি গাফেলদের হাসি ছিল না- যা অন্তরকে মুর্দা বানিয়ে দেয়।
আর বেলাল ইবনে সা'দের বর্ণনা হচ্ছে এই:
أدركتهم يشتدون بين الأغراض ويضحك بعضهم إلى بعض فإذا كان الليل كانوا رهبانا
আমি সাহাবায়ে কেরামকে দেখেছি যে, তারা নির্দিষ্ট চিহ্নের মধ্যে দৌড়াতেন ও, (যেভাবে বালক ও যুবকরা খেলা ও অনুশীলনের জন্য দৌড় প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়ে থাকে।) পরস্পর হাসতেন ও হাসাতেন। তারপর যখন রাত হয়ে যেত, তখন সাধক দরবেশে পরিণত হতেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)