মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৬০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হুযুর (ﷺ) নিজে কিভাবে শয়ন করতেন
১৬০. হযরত আবু কাতাদা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) যখন (সফরে) রাতের বেলা অবতরণ করতেন, তখন ডান কাতে শুয়ে যেতেন। আর যখন ভোরের সামান্য পূর্বে অবতরণ করতেন, তখন হাতের কব্জি খাড়া করে মস্তক মুবারক তালুতে স্থাপন করে বিশ্রাম করে নিতেন। শারহুস্সুন্নাহ, বাগভী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا عَرَّسَ بِلَيْلٍ اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ، وَإِذَا عَرَّسَ قُبَيْلَ الصُّبْحِ، نَصَبَ ذِرَاعَهُ، وَوَضَعَ رَأْسَهُ عَلَى كَفِّهِ» (رواه فى شرح السنة)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আরবদেশের মানুষ সাধারণভাবে রাতের ঠাণ্ডার সময় সফর করত। তারপর সফর যদি সন্ধ্যার প্রাককালে শুরু করত, তাহলে কোন উপযুক্ত স্থানে এমন সময় বিশ্রামের জন্য অবতরণ করত যে, রাতের যথেষ্ট অংশ বাকী থাকত এবং শোয়ারও যথেষ্ট সুযোগ থাকত। আর যদি অনেক রাত পার হয়ে যাওয়ার পর সফর শুরু করত, তাহলে বিশ্রামের জন্য প্রভাতের সামান্য পূর্বে অবতরণ করত।
হযরত আবু কাতাদাহ রাযি.-এর হাদীসে বলা হয়েছে যে, হুযুর (ﷺ) যখন এমন সময় অবতরণ করতেন ও শিবির স্থাপন করতেন যে, রাত অনেক বাকী থাকত, তখন তিনি নিদ্রার জন্য স্বস্তির সাথে ডান কাতে শুয়ে যেতেন- যেমন নিদ্রার বেলায় এটা তাঁর সর্বদার অভ্যাস ছিল। আর যখন তিনি একেবারে রাতের শেষ ভাগে অবতরণ করতেন যে, ফজরের সময় হয়ে যেত, তখন তিনি স্বীয় কনুইতে ভর রেখে হাতের নলা খাড়া করে তালুতে মস্তক মুবারক স্থাপন করে শুয়ে যেতেন। আর এভাবে যেন তিনি ফজরের নামাযের অপেক্ষা করতেন।

এ জাতীয় হাদীসসমূহ থেকে অনুমান করা যেতে পারে যে, সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শোয়া ও নিদ্রার অবস্থানসমূহ পর্যন্ত কত যত্ন ও গুরুত্ব সহকারে সংরক্ষণ করে উম্মতের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে এ চিন্তা ও সাধনার সর্বোত্তম পুরস্কার গোটা উম্মতের পক্ষ থেকে দান করুন, আর আমাদেরকে ইত্তেবা ও অনুসরণের তাওফীক দান করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান