মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৯৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
ইসলামী ভ্রাতৃত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচরণের ব্যাপারে নির্দেশাবলী
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এবং অনুরূপভাবে তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণও) আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সত্য দ্বীনের দাওয়াত ও হেদায়াত নিয়ে এসেছিলেন। যেসব লোক তাঁদের দাওয়াত কবুল করে তাদের দ্বীন ও পথ অবলম্বন করে নিত, তারা স্বাভাবিকভাবে একটি জামা‘আত ও উম্মতে পরিণত হয়ে যেত। এটাই মূলতঃ 'ইসলামী ভ্রাতৃত্ব' ও 'উম্মতে মুসলিমা'র দর্শন।
যে পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দুনিয়াতে বর্তমান ছিলেন, এই ভ্রাতৃত্ব ও উম্মতই তাঁর দক্ষিণ হস্ত এবং দাওয়াত ও হেদায়াতের কাজে তাঁর সাথী ও সাহায্যকারী ছিল এবং তারপরে কিয়ামত পর্যন্ত এ উম্মতকেই তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে এ মিশনের দায়িত্ব পালন করতে হবে এ জন্য যেভাবে ঈমান ও ইয়াকীন, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক, আমল ও চরিত্রের পবিত্রতা ও দাওয়াতের প্রেরণার প্রয়োজন ছিল, তেমনিভাবে অন্তরের জোড়মিল ও একাত্মতারও প্রয়োজন ছিল। অন্তর যদি ভঙ্গ হয়, একতা ও একাত্মতার স্থলে যদি মতবিরোধ ও বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয় এবং স্বয়ং নিজেদের মধ্যে কলহ বিবাদ থাকে, তাহলে স্পষ্ট কথা যে, নবুওয়াতের প্রতিনিধিত্বের এ দায়িত্ব পালন কোনভাবেই সম্ভব নয়।
এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইসলামকেও একটি পবিত্র বন্ধন নির্ধারণ করেছেন এবং উম্মতের সকল সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণীকে বিশেষভাবে হেদায়াত ও তাকীদ করেছেন যে, তারা একে অপরকে নিজের ভাই মনে করবে এবং পরস্পর কল্যাণকামী ও সাহায্যকারী হয়ে থাকবে। প্রত্যেকেই অন্যের প্রতি লক্ষ্য রাখবে এবং এ দ্বীনি বন্ধনের প্রেক্ষিতে একের উপর অন্যের যে দাবী ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, এগুলো আদায় করার চেষ্টা করবে।
এ শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার প্রয়োজন বিশেষভাবে এজন্যও ছিল যে, উম্মতের মধ্যে বিভিন্ন দেশ, বংশ ও বিভিন্ন শ্রেণীর লোক ছিল, যাদের বর্ণ, প্রকৃতি ও ভাষা বিভিন্ন ছিল। আর এ বৈচিত্র ভবিষ্যতে আরো বৃদ্ধি পাওয়ার ছিল।
এ সংক্রান্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা নিম্নের হাদীসগুলোতে পাঠ করুন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এবং অনুরূপভাবে তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণও) আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সত্য দ্বীনের দাওয়াত ও হেদায়াত নিয়ে এসেছিলেন। যেসব লোক তাঁদের দাওয়াত কবুল করে তাদের দ্বীন ও পথ অবলম্বন করে নিত, তারা স্বাভাবিকভাবে একটি জামা‘আত ও উম্মতে পরিণত হয়ে যেত। এটাই মূলতঃ 'ইসলামী ভ্রাতৃত্ব' ও 'উম্মতে মুসলিমা'র দর্শন।
যে পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দুনিয়াতে বর্তমান ছিলেন, এই ভ্রাতৃত্ব ও উম্মতই তাঁর দক্ষিণ হস্ত এবং দাওয়াত ও হেদায়াতের কাজে তাঁর সাথী ও সাহায্যকারী ছিল এবং তারপরে কিয়ামত পর্যন্ত এ উম্মতকেই তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে এ মিশনের দায়িত্ব পালন করতে হবে এ জন্য যেভাবে ঈমান ও ইয়াকীন, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক, আমল ও চরিত্রের পবিত্রতা ও দাওয়াতের প্রেরণার প্রয়োজন ছিল, তেমনিভাবে অন্তরের জোড়মিল ও একাত্মতারও প্রয়োজন ছিল। অন্তর যদি ভঙ্গ হয়, একতা ও একাত্মতার স্থলে যদি মতবিরোধ ও বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয় এবং স্বয়ং নিজেদের মধ্যে কলহ বিবাদ থাকে, তাহলে স্পষ্ট কথা যে, নবুওয়াতের প্রতিনিধিত্বের এ দায়িত্ব পালন কোনভাবেই সম্ভব নয়।
এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইসলামকেও একটি পবিত্র বন্ধন নির্ধারণ করেছেন এবং উম্মতের সকল সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণীকে বিশেষভাবে হেদায়াত ও তাকীদ করেছেন যে, তারা একে অপরকে নিজের ভাই মনে করবে এবং পরস্পর কল্যাণকামী ও সাহায্যকারী হয়ে থাকবে। প্রত্যেকেই অন্যের প্রতি লক্ষ্য রাখবে এবং এ দ্বীনি বন্ধনের প্রেক্ষিতে একের উপর অন্যের যে দাবী ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, এগুলো আদায় করার চেষ্টা করবে।
এ শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার প্রয়োজন বিশেষভাবে এজন্যও ছিল যে, উম্মতের মধ্যে বিভিন্ন দেশ, বংশ ও বিভিন্ন শ্রেণীর লোক ছিল, যাদের বর্ণ, প্রকৃতি ও ভাষা বিভিন্ন ছিল। আর এ বৈচিত্র ভবিষ্যতে আরো বৃদ্ধি পাওয়ার ছিল।
এ সংক্রান্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা নিম্নের হাদীসগুলোতে পাঠ করুন।
৯৮. হযরত আবূ মূসা আশআরী রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: এক মু'মিন অন্য মু'মিনের জন্য প্রাচীরের ন্যায়। এর একটি অংশ অপর অংশকে সুদৃঢ় করে। তারপর তিনি এক হাতের আঙ্গুলগুলোকে অন্য হাতের আঙ্গুলগুলোর মধ্যে ঢুকিয়ে দেখালেন (যে এভাবে মুসলমানকে মিলেমিশে থাকা চাই।)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْمُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا ثُمَّ شَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসটির মর্ম এই যে, যেভাবে দালানের ইটগুলো একটি আরেকটির সাথে মিলে শক্ত দুর্গ হয়ে যায়, তেমনিভাবে মুসলিম উম্মাহ একটি দুর্গ, আর প্রতিটি মুসলমান এর এক একটি ইট। তাদের পরস্পর ঐ সম্পর্ক ও যোগাযোগ থাকা চাই, যা একটি দুর্গের এক ইটের সাথে অন্য ইটের থাকে। তারপর তিনি এক হাতের আঙ্গুল অপর হাতের আঙ্গুলের মধ্যে ঢুকিয়ে দেখালেন যে, মুসলমানদের বিভিন্ন ব্যক্তি ও শ্রেণীকে পরস্পর আবদ্ধ হয়ে এভাবে একজাতি হয়ে যাওয়া চাই, যেভাবে পৃথক পৃথক দু'হাতের এ আঙ্গুল একটি অন্যটির সাথে মিলে গিয়ে একটি প্রাচীর; বরং যেন একটি দেহ হয়ে গিয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)