মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ২১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
বিশেষ করে কন্যা সন্তানের সাথে উত্তম আচরণের গুরুত্ব
২১. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি কন্যা সন্তান প্রতিপালনের কোন পরীক্ষায় পড়ে যায়, আর সে তাদের সাথে উত্তম আচরণ করে, এ কন্যা সন্তানগুলো তার জন্য জাহান্নাম থেকে অন্তরায় হয়ে যাবে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:«مَنِ ابْتُلِيَ مِنْ هَذِهِ الْبَنَاتِ، فَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ، كُنَّ لَهُ سِتْرًا مِنَ النَّارِ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. এর এ হাদীসেরই এক বর্ণনায় ঐ ঘটনাটিও বিবৃত হয়েছে, যে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ হাদীসটি বলেছিলেন। ঘটনাটি এই যে, হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে একজন অতি দরিদ্র মহিলা কিছু সাহায্য প্রার্থনার জন্য আসল। তার সাথে নিজের দু'টি কন্যাসন্তানও ছিল। ঘটনাক্রমে এ সময় হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে একটি মাত্র খেজুর ছিল। হযরত আয়েশা বলেন যে, আমি তাকে এই খেজুরটিই দিয়ে দিলাম। সে মহিলা এই একটি খেজুরকে দু'ভাগ করে তার দু'কন্যাকে দিয়ে দিল এবং নিজে এর মধ্য থেকে কিছুই নিল না। তারপর সে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাড়ীতে তশরীফ আনলেন, আমি এই ঘটনা খুলে বললাম। এ ঘটনা শুনে তিনি বললেন: যে বান্দা অথবা বান্দীর উপর কন্যা সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব পড়ে, আর সে তাদের সাথে উত্তম আচরণ করে, এ কন্যা সন্তানগুলো আখেরাতে তার নাজাতের ওসীলা হবে। মর্ম এই যে, এ লোকটি যদি নিজের কিছু গুনাহের কারণে শাস্তি ও আযাবের যোগ্যও হয়ে যায়, তবুও কন্যা সন্তানদের সাথে উত্তম আচরণের বিনিময়ে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং দোযখ থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হবে।
হযরত আয়েশা রাযি.-এরই অন্য এক বর্ণনায়- যা ইমাম মুসলিম রেওয়ায়ত করেছেন-
ঘটনাটি এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, এক অসহায় মিসকীন মহিলা তার দু'টি কন্যা সন্তানকে কোলে নিয়ে হযরত আয়েশার কাছে আসল এবং সাহায্য প্রার্থনা করল। তিনি তাকে তিনটি খেজুর দান করলেন। মহিলা এখান থেকে একটি একটি করে তার দু'কন্যাকে দিয়ে দিল, আর একটি নিজে খাওয়ার জন্য মুখে দিতে শুরু করল। কন্যাগুলো তখন তৃতীয় খেজুরটিও চেয়ে বসল। এ অবস্থায় ঐ মহিলা এটা নিজে না খেয়ে তাদেরকে অর্ধেক অর্ধেক করে ভাগ করে দিয়ে দিল। হযরত আয়েশা তার এ কাজ দেখে খুবই প্রভাবান্বিত হলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে ঘটনা বললেন। তখন তিনি বলেছিলেন, 'আল্লাহ তা'আলা এ মহিলার এ আমলের কারণেই তার জন্য জান্নাতের ফায়সালা এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।' হতে পারে যে, হযরত আয়েশার সাথে উল্লেখিত দু'টি ঘটনা পৃথক পৃথক ঘটেছে, আর এটাও হতে পারে যে, ঘটনা একই, তবে বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় পার্থক্য ঘটে গিয়েছে।
হযরত আয়েশা রাযি.-এরই অন্য এক বর্ণনায়- যা ইমাম মুসলিম রেওয়ায়ত করেছেন-
ঘটনাটি এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, এক অসহায় মিসকীন মহিলা তার দু'টি কন্যা সন্তানকে কোলে নিয়ে হযরত আয়েশার কাছে আসল এবং সাহায্য প্রার্থনা করল। তিনি তাকে তিনটি খেজুর দান করলেন। মহিলা এখান থেকে একটি একটি করে তার দু'কন্যাকে দিয়ে দিল, আর একটি নিজে খাওয়ার জন্য মুখে দিতে শুরু করল। কন্যাগুলো তখন তৃতীয় খেজুরটিও চেয়ে বসল। এ অবস্থায় ঐ মহিলা এটা নিজে না খেয়ে তাদেরকে অর্ধেক অর্ধেক করে ভাগ করে দিয়ে দিল। হযরত আয়েশা তার এ কাজ দেখে খুবই প্রভাবান্বিত হলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে ঘটনা বললেন। তখন তিনি বলেছিলেন, 'আল্লাহ তা'আলা এ মহিলার এ আমলের কারণেই তার জন্য জান্নাতের ফায়সালা এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।' হতে পারে যে, হযরত আয়েশার সাথে উল্লেখিত দু'টি ঘটনা পৃথক পৃথক ঘটেছে, আর এটাও হতে পারে যে, ঘটনা একই, তবে বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় পার্থক্য ঘটে গিয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)