মা'আরিফুল হাদীস
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
হাদীস নং: ১২১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন অবস্থায় পাঠের দু'আসমূহ
এ যাবৎ যে সমস্ত দু'আর উল্লেখ করা হলো, সেগুলো ছিল সালাতের মধ্যকার অথবা সালাত অন্তে পাঠ করার দু'আ। আর সালাত যেহেতু তার স্পীরিট ও প্রকৃতির দিক থেকে নিজেই দু'আ এবং মুনাজাত; বরং তার পূর্ণতর রূপ আর তার প্রতিপাদ্যই হচ্ছে আল্লাহর দরবারে বান্দার দীনতা-হীনতা প্রকাশ, আত্মনিবেদন এবং দু'আ ও মুনাজাত, তাই তাতে এরূপ দু'আ পূর্ণ মা'রিফাত ও পূর্ণ আবদিয়তের আলামত হওয়া সত্ত্বেও এতে বৈচিত্র্য বা বিস্ময়ের কিছু নেই। কিন্তু যেসব দু'আ রাসূলুল্লাহ ﷺ অন্যান্য সময়ে বা অন্যান্য ক্ষেত্রে করেছেন, বিশেষত খানা-পিনা, শয়ন-জাগরণ ও অন্যান্য মানবীয় ও জৈবিক প্রয়োজনাদি পূরণকালে যে সব দু'আর শিক্ষা দিয়েছেন, যেগুলোর মাধ্যমে এসব একান্তই দুনিয়াবী বলে পরিচিত আমলগুলোও আগাগোড়া রূহানী ও নূরানী আমল এবং আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য হাসিলের ওসীলা বনে যায়। এগুলো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর তালীম ও হিদায়াতের একান্তই খাস মু'জিযা বা অনন্য সাধারণ বৈশিষ্ট্য স্বরূপ। এবার আমরা সে জাতীয় দু'আর সিলসিলা শুরু করছি।
সকাল-সন্ধ্যার দু'আসমূহ
প্রতিটি মানুষের জন্যে রাতের পর প্রভাত এসে দিনের সূচনা করে, আবার সন্ধ্যা এসে সে দিনের পরিসমাপ্তি ঘটায়। এ সকাল ও সন্ধ্যায় যেন জীবনের এক একটি মঞ্জিল অতিক্রম করে বান্দা পরবর্তী মঞ্জিলের দিকে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর বাণী ও বাস্তব জীবনের নমুনার দ্বারা এ উম্মতকে আল্লাহ তা'আলার সাথে প্রতিটি সকাল-সন্ধ্যায় তার সম্পর্কের নবায়নের ও দৃঢ়ীকরণের এবং তাঁর নিয়ামতসমূহের শোকরিয়া আদায় করে এবং নিজেদের ভুল-ত্রুটি ও খাতা-কসূরের স্বীকারোক্তি করে তাঁর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করে পরম বদান্যশীল মনিবের দরবারে ভিখারী সেজে সময়োপযোগী দু'আ শিক্ষা দিয়েছেন।
এ যাবৎ যে সমস্ত দু'আর উল্লেখ করা হলো, সেগুলো ছিল সালাতের মধ্যকার অথবা সালাত অন্তে পাঠ করার দু'আ। আর সালাত যেহেতু তার স্পীরিট ও প্রকৃতির দিক থেকে নিজেই দু'আ এবং মুনাজাত; বরং তার পূর্ণতর রূপ আর তার প্রতিপাদ্যই হচ্ছে আল্লাহর দরবারে বান্দার দীনতা-হীনতা প্রকাশ, আত্মনিবেদন এবং দু'আ ও মুনাজাত, তাই তাতে এরূপ দু'আ পূর্ণ মা'রিফাত ও পূর্ণ আবদিয়তের আলামত হওয়া সত্ত্বেও এতে বৈচিত্র্য বা বিস্ময়ের কিছু নেই। কিন্তু যেসব দু'আ রাসূলুল্লাহ ﷺ অন্যান্য সময়ে বা অন্যান্য ক্ষেত্রে করেছেন, বিশেষত খানা-পিনা, শয়ন-জাগরণ ও অন্যান্য মানবীয় ও জৈবিক প্রয়োজনাদি পূরণকালে যে সব দু'আর শিক্ষা দিয়েছেন, যেগুলোর মাধ্যমে এসব একান্তই দুনিয়াবী বলে পরিচিত আমলগুলোও আগাগোড়া রূহানী ও নূরানী আমল এবং আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য হাসিলের ওসীলা বনে যায়। এগুলো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর তালীম ও হিদায়াতের একান্তই খাস মু'জিযা বা অনন্য সাধারণ বৈশিষ্ট্য স্বরূপ। এবার আমরা সে জাতীয় দু'আর সিলসিলা শুরু করছি।
সকাল-সন্ধ্যার দু'আসমূহ
প্রতিটি মানুষের জন্যে রাতের পর প্রভাত এসে দিনের সূচনা করে, আবার সন্ধ্যা এসে সে দিনের পরিসমাপ্তি ঘটায়। এ সকাল ও সন্ধ্যায় যেন জীবনের এক একটি মঞ্জিল অতিক্রম করে বান্দা পরবর্তী মঞ্জিলের দিকে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর বাণী ও বাস্তব জীবনের নমুনার দ্বারা এ উম্মতকে আল্লাহ তা'আলার সাথে প্রতিটি সকাল-সন্ধ্যায় তার সম্পর্কের নবায়নের ও দৃঢ়ীকরণের এবং তাঁর নিয়ামতসমূহের শোকরিয়া আদায় করে এবং নিজেদের ভুল-ত্রুটি ও খাতা-কসূরের স্বীকারোক্তি করে তাঁর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করে পরম বদান্যশীল মনিবের দরবারে ভিখারী সেজে সময়োপযোগী দু'আ শিক্ষা দিয়েছেন।
১২১. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। একদা হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) আরয করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! সকাল-সন্ধ্যায় পাঠের জন্যে আমাকে (যিকির ও দু'আর) কয়েকটি কালিমা শিক্ষা দিন! জবাবে হুযুর ﷺ বললেন: তুমি বলবে:
اَللّٰهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ رَبِّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَشَرٌّ الشَّيْطَانِ وَشَرْكِهٖ.
"হে আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা, গায়েব ও হাযির সবকিছুর সম্যক জ্ঞানের অধিকারী প্রতিটি বস্তুর প্রতিপালক ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আমি তোমার শরণ প্রার্থনা করছি নিজ নফসের অনিষ্টকারিতা থেকে এবং শয়তান ও তার শিরক থেকে (অর্থাৎ সে আমাকে যেন শিরকের গুনাহতে লিপ্ত করতে না পারে।) হুযুর ﷺ বললেনঃ হে আবু বকর! তুমি সকালে, সন্ধ্যায় এবং শয্যাগ্রহণকালে এরূপ দু'আ করবে! (সুনানে আবু দাউদ, জামে' তিরমিযী)
اَللّٰهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ رَبِّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَشَرٌّ الشَّيْطَانِ وَشَرْكِهٖ.
"হে আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা, গায়েব ও হাযির সবকিছুর সম্যক জ্ঞানের অধিকারী প্রতিটি বস্তুর প্রতিপালক ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আমি তোমার শরণ প্রার্থনা করছি নিজ নফসের অনিষ্টকারিতা থেকে এবং শয়তান ও তার শিরক থেকে (অর্থাৎ সে আমাকে যেন শিরকের গুনাহতে লিপ্ত করতে না পারে।) হুযুর ﷺ বললেনঃ হে আবু বকর! তুমি সকালে, সন্ধ্যায় এবং শয্যাগ্রহণকালে এরূপ দু'আ করবে! (সুনানে আবু দাউদ, জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مُرْنِي بِكَلِمَاتٍ أَقُولُهُنَّ إِذَا أَصْبَحْتُ، وَإِذَا أَمْسَيْتُ، قَالَ: " قُلْ: اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَشَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ «قَالَ» قُلْهَا إِذَا أَصْبَحْتَ، وَإِذَا أَمْسَيْتَ، وَإِذَا أَخَذْتَ مَضْجَعَكَ " (رواه ابوداؤد والترمذى)