মা'আরিফুল হাদীস

রোযা অধ্যায়

হাদীস নং: ১৪৩
রোযা অধ্যায়
নফল রোযা তাঙ্গাও যায়
১৪৩. হযরত উম্মে হানী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন (যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় অবস্থান করছিলেন।) হযরত ফাতেমা রাযি. আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাম পাশে বসে গেলেন। আর উন্মে হানী ছিলেন তাঁর ডান পাশে। এমন সময় একটি ছোট্ট মেয়ে কিছু পানীয় নিয়ে এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর সামনে পেশ করলেন, অতপর তিনি এখান থেকে কিছু পান করে নিলেন। তারপর তিনি আবার এটা উম্মে হানীর দিকে বাড়িয়ে দিলেন। উম্মে হানী এটা পান করে নিলেন। তারপর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো রোযা ভেঙ্গে ফেললাম, অথচ আমি রোযাদার ছিলাম। তিনি বললেন: তুমি কি কোন ফরয অথবা ওয়াজিব রোযার কাযা করছিলে? উম্মে হানী বললেন, না, (কেবল নফল রোযা ছিল।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন: তাহলে কোন ক্ষতি নেই। -আবূ দাউদ, তিরমিযী, দারেমী
کتاب الصوم
عَنْ أُمِّ هَانِئٍ ، قَالَتْ : لَمَّا كَانَ يَوْمُ الْفَتْحِ فَتْحِ مَكَّةَ ، جَاءَتْ فَاطِمَةُ ، فَجَلَسَتْ عَنْ يَسَارِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأُمُّ هَانِئٍ عَنْ يَمِينِهِ ، قَالَتْ : فَجَاءَتِ الْوَلِيدَةُ بِإِنَاءٍ فِيهِ شَرَابٌ ، فَنَاوَلَتْهُ فَشَرِبَ مِنْهُ ، ثُمَّ نَاوَلَهُ أُمَّ هَانِئٍ ، فَشَرِبَتْ مِنْهُ ، فَقَالَتْ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، لَقَدْ أَفْطَرْتُ ، وَكُنْتُ صَائِمَةً ، فَقَالَ لَهَا : « أَكُنْتِ تَقْضِينَ شَيْئًا؟ » ، قَالَتْ : لَا ، قَالَ : « فَلَا يَضُرُّكِ إِنْ كَانَ تَطَوُّعًا » (رواه ابوداؤد والترمذى والدارمى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, নফল রোযা ভেঙ্গে ফেললে কোন গুনাহ্ হয় না। এ হাদীসেরই অন্য এক বর্ণনায় এ শব্দমালাও এসেছে :

" الصائم المتطوع أمين نفسه إن شاء صام وإن شاء أفطر "

অর্থাৎ, নফল রোযা পালনকারীর এ এখতিয়ার রয়েছে যে, ইচ্ছা করলে সে রোযা পূর্ণ করবে, আর কোন কারণে যদি ভেঙ্গে ফেলতে চায়, তাহলে ভেঙ্গে ফেলবে।) উপরের দু'টি হাদীস থেকে এ বিষয়টি জানা যায় না যে, নফল রোযা ভেঙ্গে ফেললে এর স্থলে পরে এই রোযা রাখতে হবে কি না। তবে সামনের হাদীসে এর কাযা করারও হুকুম রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান