মা'আরিফুল হাদীস
রোযা অধ্যায়
হাদীস নং: ১৪২
রোযা অধ্যায়
রমযানের রোযা যদি শরী‘আতসম্মত কোন ওযর ছাড়া ভেঙ্গে ফেলা হয়, তাহলে এর বিরাট কাফ্ফারাও আদায় করতে হয়, যার বিস্তারিত আলোচনা স্বস্থানে করা হয়েছে। কিন্তু নফল রোযা পালনকারী যদি ইচ্ছা করে, তাহলে রোযা ভাঙ্গতেও পারে এতে তার উপর কোন কাফ্ফারাও ওয়াজিব হবে না এবং সে গুনাহগারও হবে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনও কখনও নিজেও এমন করেছেন এবং অন্যদেরকেও এই মাসআলা জানিয়ে দিয়েছেন।
১৪২. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে আসলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের কাছে কি খাওয়ার কোন জিনিস আছে? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন: তাহলে আমি রোযা রেখে নিচ্ছি। তারপর আরেক দিন তিনি এভাবে আসলেন। আমি বললাম: আজ আমাদের কাছে হাইস (খোরমা ও মাখনের পিঠা) হাদিয়া এসেছে। তিনি বললেন: আমাকে এটা দেখাও। আমি তো আজ রোযার নিয়াত করে ফেলেছিলাম। এই বলে তিনি এখান থেকে কিছু খেয়ে নিলেন এবং রোযা আর রাখলেন না। মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : دَخَلَ عَلَىَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيَّ ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ : " هَلْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ؟ " فَقُلْنَا : لَا ، قَالَ : " فَإِنِّي إِذًا صَائِمٌ " ، ثُمَّ اَتَانَا يَوْمًا آخَرَ ، فَقُلْنَا : يَا رَسُولَ اللهِ أُهْدِيَ لَنَا حَيْسٌ فَقَالَ : أَرِنِيْهِ فَلَقَدْ أَصْبَحْتُ صَائِمًا ، فَأَكَلَ " (رواه مسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীস থেকে দু'টি বিষয় জানা গেল। (১) নফল রোযার নিয়াত দিনেও করা যায়। (২) নফল রোযার নিয়্যত করে নেওয়ার পর যদি মত পরিবর্তন হয়ে যায়, তাহলে এটা ভাঙ্গাও যায়। সামনের হাদীসগুলো থেকে এ বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)