মা'আরিফুল হাদীস

রোযা অধ্যায়

হাদীস নং: ১০৩
রোযা অধ্যায়
কুরআন মজীদে সূরা বাকারায় যেখানে রমযানের রোযার ফরযিয়্যাতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেখানে অসুস্থ ও মুসাফিরদেরকে রমযানে রোযা না রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, তারা অসুস্থতা ও সফরের পর নিজেদের রোযা পূর্ণ করে নেবে। সেখানে একথাও বলে দেওয়া হয়েছে যে, এ অনুমতি ও অবকাশ বান্দাদের সুবিধার জন্য দেওয়া হয়েছে। এরশাদ হচ্ছে:

فَمَنۡ شَہِدَ مِنۡکُمُ الشَّہۡرَ فَلۡیَصُمۡہُ ؕ وَمَنۡ کَانَ مَرِیۡضًا اَوۡ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّۃٌ مِّنۡ اَیَّامٍ اُخَرَ ؕ یُرِیۡدُ اللّٰہُ بِکُمُ الۡیُسۡرَ وَلَا یُرِیۡدُ بِکُمُ الۡعُسۡرَ

অর্থাৎ, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে, সে যেন এ মাসের রোযা রাখে। আর যে ব্যক্তি অসুস্থ অথবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে, সে অন্যান্য দিনগুলোতে রমযানের এ গণনা পুরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য জটিলতা ও কাঠিন্য কামনা করেন না। (সূরা বাকারা)
এ আয়াত দ্বারা বুঝা গেল যে, এ অবকাশ বান্দাদের সুবিধা ও আসানীর জন্য এবং তাদেরকে জটিলতা ও কাঠিন্য থেকে বাঁচানোর জন্য দেওয়া হয়েছে। তাই যদি কোন ব্যক্তি সফরে থাকা সত্ত্বেও বোযা রাখতে বিশেষ কোন কষ্ট ও অসুবিধা অনুভব না করে, তাহলে সে রোযা রাখতে পারে আর ইচ্ছা করলে অবকাশও গ্রহণ করতে পারে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কর্মনীতি যেহেতু উম্মতের জন্য উসওয়া ও আদর্শ, এ জন্য তিনি সফরে কখনো রোযা রেখেছেন আবার কখনো কাযাও করেছেন। যাতে উম্মত নিজেদের অবস্থা অনুযায়ী যে কোন পদ্ধতির উপর আমল করতে পারে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী ও কর্মনীতি দ্বারা যা বুঝা যায় সেটা এই যে, সফরে রোযা রাখাতে যদি অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজের অসুবিধা ও ক্ষতি হয়, তাহলে রোযা ছেড়ে দিয়ে পরবর্তী সময়ে কাযা করে নেওয়াই উত্তম। আর যদি এমন না হয়, তাহলে রোযা রেখে নেওয়াই উত্তম।
১০৩. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, হযরত হামযা ইবনে আমর আসলামী- যিনি খুব বেশী রোযা রাখতেন- রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন যে, আমি কি সফর অবস্থায় রোযা রাখব? তিনি উত্তর দিলেন, ইচ্ছা করলে রাখতে পার, আর ইচ্ছা করলে নাও রাখতে পার। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : إِنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو الْأَسْلَمِيُّ قال لِلنَّبِىِّ : أَصُومُ فِي السَّفَرِ؟ وَكَانَ كَثِيرَ الصِّيَامِ .... فَقَالَ : « إِنْ شِئْتَ فَصُمْ ، وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ »
(رواه البخارى ومسلم)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান