মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সদ্ব্যবহার ও সুসম্পর্ক স্থাপন অধ্যায়

হাদীস নং: ১০৮
সদ্ব্যবহার ও সুসম্পর্ক স্থাপন অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: অধিক সংখ্যক মেহমানদের আপ্যায়নে সাহায্য করার জন্য মুসলমানদের শরীক হওয়া
১০৮. আবদুর রহমান ইবনে আবূ বকর (রা) থেকে বর্ণিত যে, আসহাবে সুফফার লোকজন ছিলেন দরিদ্র। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার বললেন, যার নিকট দু'জনের খাবার আছে, সে যেন তৃতীয় একজনকে নিয়ে যায়; আর যার কাছে চারজনের খাবার আছে সে যেন পঞ্চম কিংবা ষষ্ঠ ব্যক্তিকে নিয়ে যায়। অথবা বর্ণনাকারী যেভাবে বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, আবু বকর (রা) তিনজনকে নিয়ে আসলেন। আর আল্লাহর নবী দশজনকে নিয়ে রওয়ানা হলেন। আমাদের পরিবারে আমরা ছিলাম তিনজন। আমি, আমার পিতা ও আমার মাতা।
বর্ণনাকারী বলেন, আমি জানিনা, তিনি বলেছেন কিনা যে, আমার স্ত্রী এবং আমাদের ও আবু বকরের বাড়িতে শরিক খাদেম। রাবী বলেন, আবুবকর (রা) নবী (ﷺ)-এর গৃহে রাতের খানা খেলেন। এরপর তিনি অপেক্ষা করলেন। অবশেষে 'ঈশার সালাত আদায় করা হলো। সালাত থেকে প্রত্যাবর্তন করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তন্দ্রাচ্ছন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন। তারপর আল্লাহর ইচ্ছায় রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হলে তিনি গৃহে ফিরে আসলেন। তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, মেহমান রেখে দেরী করলেন কেন? তিনি বললেন, কেন? তুমি কি তাদের রাতের খাবার খাওয়াও নি? তাঁর স্ত্রী বললেন, আপনি না আসা পর্যন্ত তাঁরা আহার করতে অস্বীকার করেছেন। কয়েকবারই খাবার পেশ করা হয়েছে, কিন্তু মেহমানরা তাঁদের কথা থেকে হটেননি। 'আবদুর রহমান (রা) বলেন, আমি গিয়ে লুকিয়ে রইলাম। তিনি বললেন, হে নির্বোধ। তারপর তিনি আমাকে বকাবকি করলেন, আর মেহমানদের বললেন, ভালো হলো না। আপনারা আহার করুন। তিনি আরো বললেন, আল্লাহর কসম। আমি এ আহার গ্রহণ করবো না। আবদুর রহমান বলেন, আল্লাহর শপথ! আমরা যে লোকমাই গ্রহণ করেছিলাম, তার নীচে তার চেয়ে অধিক পরিমাণে বেড়ে যেতো। এমনকি আমরা পরিতৃপ্তি হয়েও আমাদের খাদ্য পূর্বে যা ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশী হয়ে গেল। আবু বকর (রা) খাবারের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, তা যেমন ছিল তেমনি আছে, তা তার চেয়েও অধিক হয়েছে। তিনি তার স্ত্রীকে বললেন, হে উখ্ত (বোন) বনী ফিরাস, একি ব্যাপার? তিনি বললেন, কিছু না, আমার চোখের প্রশান্তি। এগুলো পূর্বে যা ছিল, তার চেয়ে তিন গুণ বেড়ে গেছে। আবদুর রহমান বলেন, এরপর আবু বকর (রা) কিছু খেলেন এবং বললেন, ওটা, অর্থাৎ কমটা ছিল শয়তানের পক্ষ থেকে। এরপর তিনি আরো এক লুকমা খেলেন। তারপর অবশিষ্ট গুলো রাসুলুল্লাহ (ﷺ)- এর কাছে নিয়ে গেলেন। আমিও তাঁর কাছে সকাল পর্যন্ত থাকলাম। তিনি বলেন, আমাদের এবং কোন এক সম্প্রদায়ের মাঝে একটি চুক্তি ছিল। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আমরা বারটি দল করে বারজন লোক নিযুক্ত করলাম। প্রত্যেক ব্যক্তির সাথে অনেক লোক ছিল। আল্লাহই ভাল জানেন, প্রত্যেক বাক্তির সাথে কতজন লোক ছিল। তাদের প্রত্যেকেরই নিকট এ খাবার পাঠানো হলো। আর তারা সকলেই সে খাবার খেলেন। অথবা বর্ণনাকারী যেভাবে বর্ণনা করেছেন।
كتاب البر والصلة
باب اشتراك المسلمين وتعاونهم في قرى الأضياف إذا كثروا
عن عبد الرحمن بن أبي بكر رضي الله عنهما أن أصحاب الصفة كانوا أناسا فقراء وأن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال مرة من كان عنده طعام اثنين فليذهب بثالث من كان عنده طعام أربعة فليذهب بخامس بسادس أو كما قال (1) وان أبا بكر جاء بثلاثة فانطلق نبي الله صلى الله عليه وسلم بعشرة (2) وأبو بكر بثلاثة قال فهو أنا وأبي وأمي (3) ولا أدري هل قال وامرأتي وخادم بين بيتنا وبيت أبي بكر وان أبا بكر تعشى عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم لبث حتى صليت العشاء ثم رجع فلبث حتى نعس (4) رسول الله صلى الله عليه وسلم فجاء بعد ما مضى من الليل ما شاء الله قلت له امرأته ما حبسك على أضيافك أو قالت ضيفك؟ قال أو ما عشيتهم؟ قالت أبوا حتى تجيء قد عرضوا عليهم فغلبوهم (5) قال فذهبت أنا فاختبأت (6) قال يا غنثر أو يا عنتر (7) فجدع وسب وقال كلوا لا هنيئا (8) وقال والله لا أطعمه أبدا قال وحلف الضيف أن لا يطعمه حتى يطعمه أبو بكر (9) قال فقال أبو بكر هذه من الشيطان قال فدعا بالطعام فأكل قال فايم الله ما كنا نأخذ من لقمة ربا (10) من أسفلها أكثر منها قال حتى شبعوا وصارت أكثر مما كانت قبل ذلك فنظر إليها أبو بكر فاذا هي كما هي أو اكثر فقالى لامرأته (11) يا أخت بني فراس ما هذا؟ قالت لا وقرة عيني (12) لهي الآن أكثر منها قبل ذلك بثلاث مرار فأكل منها أبو بكر وقال انما ذلك من الشيطان يعني يمينه ثم أكل لقمة ثم حملها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأصبحت عنده قال وكان بيننا وبين قوم عقد فمضى الاجل فعرفنا (1) اثني عشر رجلا مع كل رجل أناس الله أعلم كم مع كل رجل غير أنه بعث معهم فأكلوا منها اجمعون أو كما قال
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান