মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
হাদীস নং: ২৫৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: 'হে রাসূল! তোমাকে যেন দুঃখ না দেয় যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়... তারাই ফাসিক।"(১)
১. আল-কুরআন, ০৫: ৪১-৪৭।
১. আল-কুরআন, ০৫: ৪১-৪৭।
২৫৯। বারা ইবন 'আযিব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী -এর নিকট থেকে মুখে কালি মাখানো একজন বেত্রাঘাতকৃত ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন তাদেরকে
ঢেকে বললেন, তোমরা কি তোমাদের কিভাবে যিনাকারীর শাস্তির বিধান এরূপ পেয়েছ? তারা বলল, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের মধ্য থেকে জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং বললেন, মুসা (আ) এর প্রতি যিনি তাওরাত নাজিল করেছেন, আমি সে আল্লাহর নামে কসম করে তোমাকে জিজ্ঞেস করছি বল তো তোমরা কি তোমাদের কিতাবে যিনাকারীর শাস্তির বিধান এরূপ পেয়েছো? সে বলল, না, আল্লাহর কসম! আপনি যদি এরূপ কসম দ্বারা আমাকে জিজ্ঞাসা না করতেন, আমি আপনাকে কখনও এ তথ্য দিতাম না। আমরা আমাদের কিতাবে যিনাকারীর শাস্তি হিসেবে রজম (প্রস্তর নিক্ষেপই পেয়েছি। কিন্তু আমাদের সম্ভ্রান্তদের মধ্যে এ অপরাধ বেড়ে গেছে। তাই আমরা কোন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে এরূপ দোষে দোষী পেলে তাকে আমরা ছেড়ে দেই, আর কোন দূর্বল ব্যক্তিকে এরূপ দোষে দোষী পেলে আমরা তার ওপর শাস্তির বিধান প্রয়োগ করি। অবশেষে আমরা সবাই বলাবলি করছিলাম, এসো আমরা সম্ভ্রান্ত ও দূর্বল উভয়ের জন্য একই বিধান কায়েম করি। সুতরাং আমরা মুখে কালি লেপন বেত্রাঘাত করার ব্যাপারে একমত হয়ে যাই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ! তারা তোমার বিধানের মৃত্যু ঘটানোর পর আমিই সর্বপ্রথম তা পুনরুজ্জীবিত করছি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুর তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন যেন তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা হয়। অতঃপর মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "হে রাসূল। তোমাকে যেন দুঃখ না দেয় যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়-যারা মুখে বলে, 'ঈমান আনয়ন করেছি অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনে না এবং ইহুদীদের মধ্যে যারা অসত্য শ্রবণে তৎপর, তোমার নিকট আসে না এমন এক ভিন্ন দলের পক্ষে যারা কান পেতে থাকে। শব্দগুলি যথাযথ সুবিন্যস্ত থাকার পরও তারা সেগুলির অর্থ বিকৃত করে। তারা বলে, এ প্রকার বিধান দিলে গ্রহণ কর"(১) তারা বলে, তোমরা মুহাম্মদ এর নিকট যাও। তিনি যদি তোমাদেরকে কালি লেপন ও বেত্রাঘাত করার ফায়সালা দেন তবে তোমরা তা মেনে নেবে, আর তিনি যদি তোমাদেরকে প্রস্তরাঘাতের ফায়সালা দেন তবে তা বর্জন করবে। তখন মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির।"(২) বর্ণনাকারী বলেন, এটা ইহুদীদের উপলক্ষে নাজিল হয়েছে। অতঃপর মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই যালিম(৩) এবং "আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই ফাসিক।"(৪) বর্ণনাকারী বলেন, এ বিধান সকল কাফিরকে উপলক্ষ করে নাজিল হয়েছে।
(মুসলিম, আবু দাউদ, ইবন মাজাহ)
টিকা:
১. আল-কুরআন, ০৫: ৪১।
২. আল-কুরআন, ৫:৪৪।
৩. আল-কুরআন, ৫:৪৫।
৪. আল-কুরআন, ৫: ৫৫।
ঢেকে বললেন, তোমরা কি তোমাদের কিভাবে যিনাকারীর শাস্তির বিধান এরূপ পেয়েছ? তারা বলল, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের মধ্য থেকে জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং বললেন, মুসা (আ) এর প্রতি যিনি তাওরাত নাজিল করেছেন, আমি সে আল্লাহর নামে কসম করে তোমাকে জিজ্ঞেস করছি বল তো তোমরা কি তোমাদের কিতাবে যিনাকারীর শাস্তির বিধান এরূপ পেয়েছো? সে বলল, না, আল্লাহর কসম! আপনি যদি এরূপ কসম দ্বারা আমাকে জিজ্ঞাসা না করতেন, আমি আপনাকে কখনও এ তথ্য দিতাম না। আমরা আমাদের কিতাবে যিনাকারীর শাস্তি হিসেবে রজম (প্রস্তর নিক্ষেপই পেয়েছি। কিন্তু আমাদের সম্ভ্রান্তদের মধ্যে এ অপরাধ বেড়ে গেছে। তাই আমরা কোন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে এরূপ দোষে দোষী পেলে তাকে আমরা ছেড়ে দেই, আর কোন দূর্বল ব্যক্তিকে এরূপ দোষে দোষী পেলে আমরা তার ওপর শাস্তির বিধান প্রয়োগ করি। অবশেষে আমরা সবাই বলাবলি করছিলাম, এসো আমরা সম্ভ্রান্ত ও দূর্বল উভয়ের জন্য একই বিধান কায়েম করি। সুতরাং আমরা মুখে কালি লেপন বেত্রাঘাত করার ব্যাপারে একমত হয়ে যাই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ! তারা তোমার বিধানের মৃত্যু ঘটানোর পর আমিই সর্বপ্রথম তা পুনরুজ্জীবিত করছি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুর তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন যেন তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা হয়। অতঃপর মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "হে রাসূল। তোমাকে যেন দুঃখ না দেয় যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়-যারা মুখে বলে, 'ঈমান আনয়ন করেছি অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনে না এবং ইহুদীদের মধ্যে যারা অসত্য শ্রবণে তৎপর, তোমার নিকট আসে না এমন এক ভিন্ন দলের পক্ষে যারা কান পেতে থাকে। শব্দগুলি যথাযথ সুবিন্যস্ত থাকার পরও তারা সেগুলির অর্থ বিকৃত করে। তারা বলে, এ প্রকার বিধান দিলে গ্রহণ কর"(১) তারা বলে, তোমরা মুহাম্মদ এর নিকট যাও। তিনি যদি তোমাদেরকে কালি লেপন ও বেত্রাঘাত করার ফায়সালা দেন তবে তোমরা তা মেনে নেবে, আর তিনি যদি তোমাদেরকে প্রস্তরাঘাতের ফায়সালা দেন তবে তা বর্জন করবে। তখন মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির।"(২) বর্ণনাকারী বলেন, এটা ইহুদীদের উপলক্ষে নাজিল হয়েছে। অতঃপর মহান আল্লাহ নাজিল করেন, "আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই যালিম(৩) এবং "আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই ফাসিক।"(৪) বর্ণনাকারী বলেন, এ বিধান সকল কাফিরকে উপলক্ষ করে নাজিল হয়েছে।
(মুসলিম, আবু দাউদ, ইবন মাজাহ)
টিকা:
১. আল-কুরআন, ০৫: ৪১।
২. আল-কুরআন, ৫:৪৪।
৩. আল-কুরআন, ৫:৪৫।
৪. আল-কুরআন, ৫: ৫৫।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يا أيها الرسول لا يحزنك الذين يسارعون في الكفر إلى قوله (ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الفاسقون)
عن البراء بن عازب قال مر على رسول الله صلى الله عليه وسلم بيهودي محمم (2) مجلود فدعاهم فقال أهكذا تجدون حد الزاني في كتابكم؟ فقالوا نعم قال فدعا رجلا من علمائهم فقال أنشدك بالله الذي أنزل التوراة على موسى أهكذا تجدون حد الزاني في كتابكم؟ (3) فقال لا والله لولا أنك أنشدتني بهذا (4) لم أخبرك نجد حد الزاني في كتابنا الرجم ولكنه كثر على أشرافنا فكنا إذا أخذنا الشريف تركناه واذا أخذنا الضعيف أقمنا عليه الحد فقلنا (5) تعالوا حتى نجعل شيئا نقيمه على الشريف والوضيع فاجتمعنا (6) على التحميم والجلد فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اللهم اني أول من أحيا أمرك إذ أماتوه (7) قال فأمر به فرجم فأنزل الله عز وجل (يا أيها الرسول لا يحزنك (8) الذي يسارعون في الكفر - إلى قوله - يقولون إن أوتيتم هذا فخذوه) يقولون ائتوا محمدا فإن افتاكم بالتحميم والجلد فخذوه وان افتاكم بالرجم فاحذروا (9) إلى قوله (ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الكافرون) قال في اليهود (10) إلى قوله (ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الظالمون ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الفاسقون) قال هي في الكفار كلها