মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়

হাদীস নং: ২৪৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: আর তুমি যখন তাদের মধ্যে অবস্থান করবে ও তাদের সংগে সালাত কায়েম করবে।
২৪৩। মুজাহিদ (র) আবু 'আয়াশ যারাকী (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা 'উসফান অভিযানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সংগে ছিলাম, তখন মুশরিকরা আমাদের সামনে অবস্থান নিল তাদের মধ্যে খালিদ ইবন ওয়ালিদও ছিল। তারা আমাদের ও আমাদের কিবলার মাঝে অবস্থান করছিল। সে অবস্থায় আমাদেরকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করলেন। তখন তারা বলাবলি করছিল, মুসলিমরা এমন অসতর্ক অবস্থায় ছিলো যাদেরকে আমরা আক্রমণ করতে পারতাম। অতঃপর তারা বলল কিছুক্ষনের মধ্যে তাদের সামনে আবার সালাতের সময় উপস্থিত হবে, যে সালাত তাদের নিকট তাদের সন্তান-সন্তুতি ও জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয়। বর্ণনাকারী বলেন, জিবরীল (আ) এ ঘটনার পরিপেক্ষিতে জোহর ও আসরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে এ আয়াত নিয়ে অবতীর্ণ হলেন, 'আর তুমি যখন তাদের মধ্যে অবস্থান করবে ও তাদের সংগে সালাত কায়েম করবে তখন তাদের একদল তোমার সাথে যেন দাঁড়ায় এবং তারা যেন সশস্ত্র থাকে। তাদের সিজদা করা হলে তারা যেন তোমাদের পিছনে অবস্থান করে, আর অপর একদল যারা সালাতে শরীক হয়নি তারা তোমার সাথে যেন সালাতে শরীক হয় এবং তারা যেন সর্তক ও সশস্ত্র থাকে। কাফিররা কামনা করে যেন তোমরা তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র ও আসাবাবপত্র সম্বন্ধে অসর্তক হও যাতে তারা তোমাদের ওপর একেবারে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। যদি তোমরা বৃষ্টির জন্য কষ্ট পাও অথবা পীড়িত থাক তবে তোমরা অস্ত্র রেখে দিলে তোমাদের কোন দোষ নাই; কিন্তু তোমরা সতর্কতা অবলম্বন করবে। আল্লাহ্ কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।" (আল-কুরআন, ৪: ১০২)
বর্ণনাকারী বলেন, কিছুক্ষণ পর সালাতের সময় হল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবীদেরকে নির্দেশ দিলেন তারা সবাই অস্ত্র হাতে নিল। তিনি (রা) আরও বলেন, তখন আমরা তাঁর পেছনে দু'সারিতে দন্ডায়মান হলাম, অতঃপর তিনি রুকু করলেন, আমরা সকলে তাঁর সাথে রুকু করলাম এবং তিনি মাথা উঁচু করলে আমরাও সকলে মাথা উঁচু করলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ঠিক পিছনের কাতার অর্থাৎ প্রথম সারিকে নিয়ে সিজদায় গেলেন আর অপর সারিটি দাঁড়িয়ে সিজদারতদের পাহারা দিচ্ছিল। তাদের সিজদা শেষ হলে তারা দাঁড়িয়ে গেল, তখন বাকীরা বসল এবং তাদের স্থানে বসেই সিজদা কর।
অতঃপর প্রথম সারি লোকেরা দ্বিতীয় সারিতে এবং দ্বিতীয় সারির লোকেরা প্রথম সারিতে আসল। অতঃপর বলেন, অতঃপর তারা সকলে একত্রে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে রুকু করলো। তারপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) রুকু হতে মাথা উঁচু করলে তারা সবাই একত্রে মাথা উঁচু করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিকটবর্তী সারিকে নিয়ে সিজদা করলেন এবং বাকীরা তাদেরকে পাহারা দিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সিজদা থেকে উঠে বসলে বাকীরা বসল এবং তারা সিজদা আদায় করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নিয়ে সালাম ফিরালেন এবং সালাত শেষ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এভাবে 'উসফানে দু'ওয়াক্ত এবং বনু সুলায়ম অঞ্চলে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করেছেন।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب واذا كنت فيهم فأقمت لهم الصلاة
عن مجاهد عن أبي عياش الرزقي قال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بعسفان باستقبلنا المشركون عليهم خالد بن الوليد وهم بيننا وبين القبلة فصلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم الظهر فقالوا قد كانوا على حال لو أصبنا غرتهم ثم قالوا تأتي عليهم الآن صلاة هي أحب إليهم من أبنائهم ونفسهم قال فنزل جبريل عليه السلام بهذه الآيات بين الظهر والعصر (واذا كنتم فيهم فأقمت لهم الصلاة) (2) قال فحضرت فأمرهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخذوا السلاح قال فصففنا خلفه صفين قال ثم ركع فركعنا جميعا ثم رفع فرفعنا جميعا ثم سجد النبي صلى الله عليه وسلم باصف الذي يليه والآخرون قيام يحرسونهم فلما سجدوا وقاموا جلس الآخرون فسجدوا في مكانهم ثم تقدم هؤلاء إلى مصاف هؤلاء وجاء هؤلاء إلى مصاف هؤلاء قال ثم ركع فركعوا جميعا ثم رفع فرفعوا جميعا ثم سجد النبي صلى الله عليه وسلم والصف الذي يليه والآخرون قيام يحرسونهم فلما جلس جلس الآخرون فسجدوا فسلم عليهم ثم انصرف قال فصلاها رسول الله صلى الله عليه وسلم مرتين بعسفان ومرة بأرض بني سليم
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান